দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে দেশে ফিরছে বাংলাদেশ। সেই ঐতিহাসিক সাফল্য উদ্যাপন করতে নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়ন দলকে বরণে প্রস্তুত রাখা হয়েছে ছাদখোলা বাস। আজ সন্ধ্যায় ঢাকায় পৌঁছানোর কথা রয়েছে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন ও তার সতীর্থদের।
২০২২ সালে প্রথম সাফ শিরোপা জয়ের পর ঢাকায় যে আবেগ-উচ্ছ্বাস দেখা গিয়েছিল, ২০২৪ সালে শিরোপা ধরে রেখে ফেরার সময় তা ততটা চোখে পড়েনি। তবে এবার নারী ফুটসাল দলের সাফল্যকে ঘিরে উৎসবের ঘাটতি রাখছে না বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। বাফুফের সহসভাপতি ফাহাদ করিম সংবাদ মাধ্যমকে জানিয়েছেন, “ঢাকায় নামার পরই বিজয়ী দলকে সংবর্ধনা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।”
থাইল্যান্ডের ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এবারের সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে অপরাজিত থেকেই শিরোপা জেতে বাংলাদেশ। টুর্নামেন্ট শেষে শিরোপাজয়ী নারী দলের সদস্যদের থাইল্যান্ডের গুরুত্বপূর্ণ পর্যটন এলাকা ঘুরে দেখানো হয়। সে কারণে পুরুষ দল আগেই দেশে ফিরলেও নারী দলের ফেরায় কিছুটা বিলম্ব হয়।
এই শিরোপা সাবিনা খাতুন, কৃষ্ণা রানী সরকার, মাসুরা পারভীন, মাতসুশিমা সুমাইয়া ও নিলুফার ইয়াসমিন নীলার জন্য ছিল বিশেষ তাৎপর্যের। ২০২৪ সালে সাফ জয়ের পর জাতীয় নারী ফুটবল দলের ইংলিশ কোচ পিটার বাটলারের সঙ্গে দ্বন্দ্বে জড়িয়ে জাতীয় দল থেকে ছিটকে পড়েছিলেন তারা। পরে ফুটসাল দলে সুযোগ পেয়ে নিজেদের নতুন করে প্রমাণের মঞ্চ পান অভিজ্ঞ এই ফুটবলাররা।
দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপ শুরুর আগে অধিনায়ক সাবিনা খাতুন চ্যালেঞ্জ নিয়ে বলেছিলেন, সর্বস্ব উজাড় করে দলের জন্য লড়বেন। সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলনই দেখা গেছে মাঠে—এক ম্যাচও না হেরে চ্যাম্পিয়ন হয় লাল-সবুজের মেয়েরা।
ব্যক্তিগত পারফরম্যান্সেও ছিল বাংলাদেশের দাপট। সর্বোচ্চ ১৪ গোল করে টুর্নামেন্টের সর্বোচ্চ গোলদাতা হন সাবিনা খাতুন। ৭ গোল নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ছিলেন কৃষ্ণা রানী সরকার। ভারতের খুশবু গোলসংখ্যায় কৃষ্ণার সমান হলেও শিরোপা ও ব্যক্তিগত নৈপুণ্যে এগিয়ে ছিল বাংলাদেশই।



