এএফসি নারী এশিয়ান কাপে চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ প্রত্যাশার চেয়েও বেশি ভালো খেলেছিল। এই টুর্নামেন্টের অন্যতম সেরা দল এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে মাত্র ২-০ গোলে হারে বাংলাদেশের মেয়েরা।
তবে ওই লড়াকু পারফরম্যান্সের পরও বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের নারী উইংয়ের চেয়ারপার্সন মাহফুজা আক্তার কিরণ বলেছিলেন, চীনের চেয়েও উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে ম্যাচটি কঠিন হবে। বাস্তবে সেটিই দেখা গেলো।

এশিয়ার শক্তিশালী দল উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে লড়াইটা কঠিনই হওয়ার কথা ছিল। সেটিই সত্যি হলো মাঠে। নারী এশিয়া কাপে নিজেদের দ্বিতীয় ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার কাছে ৫–০ গোলের বড় ব্যবধানে হেরেছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল।
ফুটবলে পাঁচ গোলের হার বড় ব্যবধানই। তবে দুই দলের শক্তিমত্তা ও র্যাংকিং বিবেচনায় এই ফল খুব একটা অস্বাভাবিক নয়। বাংলাদেশের ফিফা র্যাংকিং ১১২, আর উত্তর কোরিয়ার ৯। টুর্নামেন্টে সবচেয়ে ভালো র্যাংকিংয়ের দলের বিপক্ষেই এমন বড় ব্যবধানে হারতে হয়েছে বাংলাদেশকে।
চীনের বিপক্ষে প্রথম ম্যাচে দারুণ লড়াই করেছিল বাংলাদেশ। এশিয়া কাপের বর্তমান ও সর্বাধিক নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের কাছে ২–০ গোলে হারলেও দ্বিতীয়ার্ধে আর কোনো গোল হজম করেনি দলটি। সেই পারফরম্যান্সের পর উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষেও কিছুটা প্রত্যাশা তৈরি হয়েছিল।
তবে ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণে ছিল উত্তর কোরিয়া। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মিলি আক্তার একাধিক ভালো সেভ করে দলকে শুরুতে বাঁচান। প্রথমার্ধেই স্কোরলাইন বড় হতে পারত। উত্তর কোরিয়ার তিনটি গোল ভিডিও সহকারী রেফারির সিদ্ধান্তে বাতিল হয়—একটি হ্যান্ডবল, একটি ফাউল এবং আরেকটি অফসাইডের কারণে।

প্রথমার্ধের শেষদিকে বাংলাদেশের জালে প্রথম বল জড়ায় উত্তর কোরিয়া। অধিনায়ক আফিদা খন্দকার বক্সের মধ্যে ফাউল করলে পেনাল্টি পায় তারা। সেখান থেকেই এগিয়ে যায় উত্তর কোরিয়া। কিছুক্ষণ পর ডিফেন্সের ভুলে আরেকটি গোল হজম করে বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের চিত্র খুব একটা বদলায়নি। উত্তর কোরিয়ার ধারাবাহিক আক্রমণের মুখে বাংলাদেশ চাপে থাকে। গোলরক্ষক মিলি আক্তার কয়েকটি দারুণ সেভ করলেও শেষ পর্যন্ত ব্যবধান বাড়তেই থাকে। ৬৩ ও ৬৪ মিনিটে টানা দুটি গোল করে উত্তর কোরিয়া। ম্যাচের শেষদিকে আসে তাদের পঞ্চম গোল।
চীনের বিপক্ষে ম্যাচে বাংলাদেশ কয়েকটি পাল্টা আক্রমণ করেছিল। তবে এই ম্যাচে উত্তর কোরিয়ার বক্সে সেভাবে বলই নিতে পারেনি দলটি। পুরো ম্যাচে কোনো শটও নিতে পারেনি বাংলাদেশ। ফরোয়ার্ড ঋতুপর্ণা চাকমা বক্সের আশেপাশে থাকলেও পর্যাপ্ত বলের জোগান পাননি।
ম্যাচের প্রথমার্ধেই তিনটি পরিবর্তন আনেন কোচ Peter Butler (পিটার বাটলার)। আগের ম্যাচে বদলি হিসেবে নামা আনিকা ও স্বপ্না এবার প্রথমার্ধেই মাঠে নামেন। একাদশে থাকলেও উমেহেলা নামেন প্রথমার্ধের শেষদিকে। একাদশে ফেরা তহুরা ও আইরিন ৪৫ মিনিটের বেশি খেলতে পারেননি। দ্বিতীয়ার্ধে নবীরনের পর উন্নতি খাতুনকে নামান বাটলার।
দুই ম্যাচ শেষে ছয় পয়েন্ট নিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালের পথে অনেকটাই এগিয়ে গেছে উত্তর কোরিয়া। আজ একই ভেন্যুতে সন্ধ্যার ম্যাচে চীন যদি উজবেকিস্তানকে হারায়, তবে উত্তর কোরিয়ার সঙ্গে তাদেরও কোয়ার্টার ফাইনাল নিশ্চিত হবে।
অন্যদিকে বাংলাদেশের সামনে এখন কঠিন সমীকরণ। কোয়ার্টার ফাইনালে উঠতে হলে শেষ ম্যাচে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে অন্তত পয়েন্ট পেতেই হবে। এরপরও সেরা তৃতীয় দল হিসেবে পরের ধাপে যেতে অন্য গ্রুপগুলোর ফলাফলের দিকে তাকিয়ে থাকতে হবে লাল-সবুজের মেয়েদের।




