নারী এশিয়ান কাপ শুরুর মাত্র মাস দুয়েক আগে দেশের নারী ফুটবল লিগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার মান নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছেই। একের পর এক বড় ব্যবধানে ম্যাচ, আর তাতেই সামনে আসছে প্রস্তুতির বাস্তব চিত্র। রাজশাহী স্টারসের কাছে ১২-০ গোলে নাসরিন স্পোর্টস একাডেমির হার সেই প্রশ্নগুলো আরও জোরালো করেছে।
বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ব্রিটিশ হেড কোচ পিটার বাটলার ভুটান লিগ নিয়ে আগেও তুচ্ছতাচ্ছিল্য করেছিলেন। বাস্তবতা হলো, দেশে নতুন করে শুরু হওয়া নারী ফুটবল লিগের মান ও প্রতিযোগিতার চিত্রও অনেকটাই সেই স্তরের কাছাকাছি। এমন এক লিগেই ঋতুপর্ণা চাকমাদের রাজশাহী স্টারস প্রথম ম্যাচেই গত মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন নাসরিন স্পোর্টস একাডেমিকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দিয়েছে।

গত লিগে ঋতুপর্ণা চাকমা ও সাবিনা খাতুনসহ প্রায় পুরো জাতীয় দলই নাসরিনের হয়ে খেলেছিলেন। জাতীয় দলের শক্তিতে ভর করেই তারা তখন অবলীলায় শিরোপা জিতেছিল। কিন্তু এবার পরিস্থিতি পুরো উল্টো। নাসরিন দলে নেই কোনো জাতীয় দল কিংবা বাফুফে ক্যাম্পের খেলোয়াড়। ফলে আগের ম্যাচে ৮ গোল হজমের পর এবার তাদের জালে ঢুকেছে আরও ১২টি গোল।
এমন একপেশে লিগে খেলে এশিয়া কাপে বাংলাদেশের মেয়েরা কীভাবে বিশ্বকাপের স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দেবেন, সেই প্রশ্নটা দিন দিন বড় হচ্ছে।
রাজশাহী স্টারস নারী ফুটবলে নতুন ক্লাব হলেও শুরু থেকেই বড় বাজেটের দল গড়েছে। দেশের সবচেয়ে বড় তারকা ঋতুপর্ণা চাকমাকে দলে টেনে দেশি-বিদেশি খেলোয়াড় মিলিয়ে শিরোপার অন্যতম দাবিদার হিসেবে নিজেদের তুলে ধরেছে তারা। প্রথম ম্যাচেই তার প্রমাণ মিলেছে।
খেলার প্রথম মিনিটেই শাহেদা আক্তার রিপার গোলে এগিয়ে যায় রাজশাহী। এরপর আর পেছনে তাকাতে হয়নি। নেপালের দীপা শাহী একাই করেন চার গোল। জোড়া গোল করেন সুরভী আকন্দ প্রীতি ও শাহেদা আক্তার রিপা। একটি করে গোল যোগ করেন স্বপ্না রাণী, আলপি আক্তার, তৃষ্ণা রাণী এবং জাতীয় দলের অধিনায়ক আফিদা খন্দকার।

নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে বাংলাদেশ পুলিশ এফসিকে হারিয়ে নারী লিগে শুভ সূচনা করে বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টিং ক্লাব। এবার দ্বিতীয় ম্যাচে তারা উড়িয়ে দিল বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বিকেএসপিকে।
শনিবার কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে দিনের শেষ ম্যাচে বিকেএসপিকে ৫-০ গোলে হারায় বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জোড়া গোল করেছেন তনিমা বিশ্বাস। একবার করে জালের দেখা পেয়েছেন শান্তি মার্ডি, মোসাম্মৎ সুলতানা ও হালিমা আক্তার।
২৬ মিনিটে জালে বল জড়িয়েও গোল পায়নি বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। আক্রমণের শুরু রত্নার পা থেকে। ডান দিক দিয়ে উঠে তিনি ছোট পাস দেন শিখা আক্তারকে। এই ফরোয়ার্ডের এগিয়ে দেওয়া বলের লাইনে গিয়ে আগুন্তক গোলকিপার ফেরদৌসি আক্তার সোনালিকে কাটিয়ে বল জালে ঠেলে দেন সুলতানা। কিন্তু বাংলাদেশ জাতীয় নারী ফুটবল দলে অভিষেক হওয়া সেনাবাহিনী ফরোয়ার্ডের গোল বাতিল হয় অফসাইডের কারণে।
৩৫ মিনিটে শান্ডি মার্ডির ক্রস থেকে দারুণ হেডে লক্ষ্যভেদ করেন হালিমা। খানিক পর শান্তির আরেকটি জোরোলো শট আটকে দেন গোলকিপার সোনালি। তবে পুরোপুরি ক্লিয়ার করতে পারেননি তিনি। গোলমুখের সামনে বল পান সুলতানা; কোনো ভুল করেননি, টোকায় বল জালে জড়ান জাতীয় দলের ফরোয়ার্ড।

একটু পর বা প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে ওঠেন শান্তি মার্ডি। উপরে উঠে তাঁর শট ঠেকালেও বল গ্লাভসে রাখতে পারেননি বিকেএসপির গোলকিপার। দৌরে এসে দ্বিতীয় প্রচেষ্টায় গতিময় শটে জাল কাঁপান সুলতানা।
৫৬ মিনিটে ডান দিক দিয়ে আক্রমণে ওঠেন হালিমা। সেনাবাহিনীর এই মিডফিল্ডার কড়া ট্যাকলে বল হারালে বক্সের সামনে থেকে উঁচু শটে গোল করেন তনিমা। বিকেএসপির গোলকিপার লাফিয়ে ঠেকানোর চেষ্টা করেও বলের নাগাল পাননি।
৮৪ মিনিটে ডানপ্রান্ত দিয়ে একাই আক্রমণে ওঠেন তনিমা। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বা পায়ের আড়াআড়ি নিচু শটে কাঁপান বিকেএসপির জাল। ৫ মিনিট পর বা প্রান্ত দিয়ে বক্সে ঢোকার আগেই ডান পায়ের জোরালো শটে স্কোরলাইন ৫-০ করেন শান্তি মার্দি।




