জুবলি স্টেডিয়ামে ঘণ্টা দেড়েক অনুশীলন শেষে টিম হোটেলে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছিল বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সেই সময় সাংবাদিকদের সামনে আসেন দলের অন্যতম সিনিয়র ফুটবলার মনিকা চাকমা। দক্ষিণ এশিয়ায় ধারাবাহিক সাফল্যের পর এবার তাঁর লক্ষ্য আরও বড় মঞ্চ। প্রথমবার এশিয়ান কাপে খেলতে নেমে শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে ভালো কিছু করার ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী এই মিডফিল্ডার।
এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের গ্রুপে রয়েছে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। চীন ও উত্তর কোরিয়া এশিয়া তো বটেই, বিশ্ব নারী ফুটবলেই পরিচিত শক্তিশালী দল হিসেবে। সিডনিতে এসে বাংলাদেশের জন্য অলিখিত প্রতিপক্ষ হয়ে দাঁড়িয়েছে আবহাওয়া। কখনো তীব্র গরম, কখনো আবার ঠান্ডা। তবে এক সপ্তাহের বেশি সময় সেখানে থাকায় ধীরে ধীরে মানিয়ে নিয়েছেন খেলোয়াড়রা। মনিকা বলেন, ‘আমরা আবহাওয়ার সঙ্গে মিশে গেছি। দিনকে দিন উন্নতি হচ্ছে।’
বাংলাদেশের জন্য এটি এশিয়ান কাপে প্রথম অংশগ্রহণ। এমন টুর্নামেন্টে উত্তর কোরিয়া ও চীনের মতো দলের মুখোমুখি হওয়া বড় চ্যালেঞ্জ। ম্যাচ পরিকল্পনা নিয়ে মনিকা বলেন, ‘তারা এশিয়ার মধ্যে সেরা। প্রত্যেক দিন কোচ আমাদের নিয়ে মিটিং করেন। কীভাবে দৌড়াব, কী করব—সব মিটিংয়ে বলা হয়। মাঠেও সেটারই বাস্তবায়ন হয়।’
প্রতিপক্ষের শক্তির কথা বলতে গিয়ে মনিকা জানান, ‘গোলরক্ষক থেকে স্ট্রাইকার—সব পজিশনেই তারা ভীষণ শক্তিশালী। তাই ম্যাচে ভারসাম্য রাখতে মিডফিল্ডের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। নিজ পজিশন নিয়ে তিনি বলেন, ‘মিডফিল্ড নিয়ে কাজ চলছে। আমরা অনেকদিন ধরে একসঙ্গে খেলি। মারিয়া উঠলে আমাকে হোল্ড করতে হয়। কখন কে কী করবে, সেটা আমাদের জানা।’
শক্তিশালী প্রতিপক্ষ হওয়ায় সব পজিশনেই বাড়তি সতর্ক থাকার কথা জানালেন এই সিনিয়র ফুটবলার। তাঁর ভাষায়, ‘গোলরক্ষক থেকে স্ট্রাইকার পর্যন্ত সব দিক থেকেই কাজ করতে হবে। ওদের সঙ্গে আগে কখনো খেলিনি। তাই প্রস্তুতিটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। পরিস্থিতি বুঝে খেলতে হবে।’
ম্যাচের আগে প্রতিপক্ষ নিয়ে বিস্তারিত বিশ্লেষণ হলেও মনিকাদের ভাবনায় নিজেদের খেলাই বেশি গুরুত্ব পাচ্ছে। তিনি বলেন, ‘আমরা আমাদের সেরাটা দেওয়ার চেষ্টা করব। প্রতিপক্ষের চেয়ে নিজেদের নিয়েই বেশি ভাবছি। দেশের জন্য খেলব, সবার দোয়া চাই।’




