বাংলাদেশের ফুটবল মানেই যাঁর নাম উচ্চারিত হতো গ্যালারি থেকে—সেই মো. আতাউর রহমান আর নেই। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের আজীবন নিবেদিতপ্রাণ সমর্থক আতা ভাই গতকাল (বুধবার) রাতে ইন্তেকাল করেছেন। তার মৃত্যুতে মোহামেডান পরিবারসহ দেশের ক্রীড়াঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোক।
বাংলাদেশের ফুটবলে অত্যন্ত পরিচিত মুখ ছিলেন মো. আতাউর রহমান, যিনি সবার কাছে আতা নামেই পরিচিত। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের প্রতি তার ভালোবাসা ছিল নিঃস্বার্থ ও আজীবনের। ক্লাবের কঠিন সময়েও যিনি মুখ ফিরিয়ে নেননি, সেই আতা ভাই গতকাল রাতে সবাইকে ছেড়ে পরপারে পাড়ি জমিয়েছেন। মোহামেডান সমর্থকগোষ্ঠী ও ক্লাব কর্তৃপক্ষ বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
ঘরোয়া ফুটবল লিগে দীর্ঘ ২২ বছর মোহামেডান শিরোপাবঞ্চিত থাকলেও আতার ভালোবাসায় কখনো ভাটা পড়েনি। অনেক সমর্থক ক্লাব থেকে দূরে সরে গেলেও তিনি ছিলেন ব্যতিক্রম। জাতীয় স্টেডিয়ামে মোহামেডানের ম্যাচ মানেই গ্যালারিতে আতার উপস্থিতি। বয়সের ভারে নুয়ে পড়লেও তরুণ সমর্থকদের মতোই চিৎকার করে দলকে উৎসাহ দিতেন তিনি। প্রিয় ক্লাবের বিপক্ষে কোনো সিদ্ধান্ত এলে রেফারির ওপর ক্ষোভ ঝাড়তেও কার্পণ্য করতেন না।

ফুটবলের পাশাপাশি মোহামেডানের হকি ও ক্রিকেট দলের ম্যাচেও নিয়মিত উপস্থিত থাকতেন আতা। তবে ফুটবলই ছিল তার জীবনের সবচেয়ে বড় ভালোবাসা। খেলার দিন গ্যালারিতে আর অন্য দিনগুলোতে ক্লাব প্রাঙ্গণেই কাটত তার সময়।
গত কয়েক বছর জাতীয় স্টেডিয়াম সংস্কারের কারণে ঢাকার বাইরে খেলা হওয়ায় এবং শারীরিক দুর্বলতার কারণে মাঠে আসা সম্ভব না হলেও মোহামেডানের খোঁজখবর রাখা কখনো বন্ধ করেননি তিনি। উল্টো সমর্থকরাই নিয়মিত তার বাসায় গিয়ে খোঁজ নিতেন প্রিয় আতা ভাইয়ের।
সকলের মায়া ত্যাগ করে গতকাল রাতে না ফেরার দেশে চলে গেছেন মো. আতাউর রহমান। তার প্রয়াণে মোহামেডান পরিবারসহ দেশের ফুটবলাঙ্গনে গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে। আজ (বৃহস্পতিবার) বাদ জোহর তার নামাজে জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।




