সাফ অ-২০ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে টানা তৃতীয় জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। এবার বাঘিনীদের কাছে ৪-১ গোলে ধরাশায়ী হয়েছে ভুটান। দুই ভেন্যুতে দুই অর্ধ খেলে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ!
আজকের ম্যাচে মূল একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন এনেছেন কোচ পিটার বাটলার। আগের ম্যাচ থেকে মাত্র দুইজন ফুটবলার – বন্যা খাতুন ও শান্তি মার্ডি ছিলেন একাদশে। গোলবারে স্বর্ণা রানীর বদলে দেখা যায় মিলি আক্তারকে, আর অধিনায়কত্বের আর্মব্যান্ড উঠেছিল সুরমা জান্নাতের হাতে। লাল কার্ডের কারণে ছিলেন না মোসাম্মৎ সাগরিকা।
ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিটেই গোলের সম্ভাবনা তৈরি করেছিলেন তৃষ্ণা রানী, তবে তাঁর শট কাদায় আটকে যায়। সপ্তম মিনিটে বহু প্রচেষ্টার পর গোলের জাল খুঁজে পান শান্তি মার্ডি। তিন দফা শটের শেষ চেষ্টায় তিনি ভুটানের গোলরক্ষক পেমা ইয়াংজমকে পরাস্ত করেন।
বাকি সময়টা ছিল এক রকম কাদার সঙ্গে সংগ্রামের গল্প। খেলার মান স্বাভাবিক না হলেও বাংলাদেশই একের পর এক আক্রমণ চালিয়েছে। বিরতির আগে শান্তির কয়েকটি আক্রমণে গোলের সম্ভাবনা তৈরি হলেও বন্যা আক্তার ও রূপা আক্তার সেগুলো কাজে লাগাতে পারেননি। তিন ঘণ্টা পর অনুশীলন মাঠে আবার শুরু হওয়া ম্যাচে দ্বিতীয়ার্ধে ঘুরে দাঁড়ায় ভুটান। ৫৩ মিনিটে ওয়াংমো সমতা ফেরান দুর্দান্ত এক শটে।
তবে এর কিছুক্ষণের মধ্যেই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয় বাংলাদেশ। ৫৭ মিনিটে কর্নার থেকে শান্তি মার্ডি দ্বিতীয়বারের মতো জাল খুঁজে নেন। এরপর ৭৬ মিনিটে বদলি হিসেবে নামা মুনকি আক্তার দুর্দান্ত একক প্রচেষ্টায় তৃতীয় গোলটি করেন। বাঁ দিক থেকে ঢুকে নিখুঁত ফিনিশে গোলরক্ষককে পরাস্ত করেন তিনি।
৭৯ মিনিটে হ্যাটট্রিক পূর্ণ করেন শান্তি মার্ডি। উমেলহারের পাসে দারুণ শটে তিনি করেন নিজের তৃতীয় গোল। শেষ পর্যন্ত ৪-১ ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচে পূর্ণ ৯ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার শীর্ষে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। চার দলের এই রাউন্ড-রবিন টুর্নামেন্টে প্রতিটি দল একে অপরের সঙ্গে দুইবার করে মুখোমুখি হবে। ছয় ম্যাচ শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্টধারী দলই হবে চ্যাম্পিয়ন। বাংলাদেশের মেয়েরা এখন পর্যন্ত যেভাবে খেলছে, তাতে ট্রফি ঘরে তোলার স্বপ্ন একেবারেই অসম্ভব নয়।