বাংলাদেশে প্রথমবারের মতো জাতীয় ফুটবল দলের খেলোয়াড়দের সরকারি বেতনভুক্ত করার উদ্যোগ নিচ্ছে সরকার। ক্লাব ফুটবল থেকে পর্যাপ্ত আয় না হওয়ায় খেলোয়াড়দের আর্থিক নিরাপত্তা ও পারফরম্যান্সে স্থায়িত্ব আনতেই এই পরিকল্পনা। মঙ্গলবার বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)-এর সঙ্গে বৈঠক শেষে এ কথা জানান যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক।
সোমবার ক্রিকেট বোর্ড ও ফুটবল ফেডারেশনসহ সব ক্রীড়া ফেডারেশনের কর্তাদের সঙ্গে একটি সামগ্রিক বৈঠক করেন প্রতিমন্ত্রী। এর পরদিন মঙ্গলবার বাফুফের সঙ্গে একান্ত বৈঠকে জাতীয় ফুটবলের জন্য কয়েকটি প্রাথমিক সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়। এর মধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত হলো জাতীয় পুরুষ দলের ফুটবলারদের মাসিক বেতনের আওতায় আনা, যা সরাসরি যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় থেকে দেওয়া হবে।
এতদিন বাংলাদেশের পুরুষ ফুটবলাররা কোনো স্থায়ী বেতন পেতেন না। জাতীয় দলের ক্যাম্প চলাকালে তারা ম্যাচ ফি ও মাসিক ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা সম্মানী পেতেন। অন্যদিকে নারী ফুটবলাররা আগে থেকেই বেতন পেয়ে আসছেন। নতুন পরিকল্পনায় নারী ফুটবলাররাও সরকারের পক্ষ থেকে আলাদা বেতন পাবেন। ফলে তারা ফেডারেশন এবং সরকার—দুই দিক থেকেই আর্থিক সুবিধা পাবেন।

বাফুফে কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক শেষে প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক বলেন,
“আমাদের মেয়েরা যেভাবে ভালো পারফর্ম করছে, তাদের উৎসাহিত করার পাশাপাশি পুরুষ ফুটবলারদেরও একই কাঠামোর মধ্যে আনতে চাই। পুরুষ ও নারী—সব জাতীয় ফুটবলারকেই আমরা মাসিক, চুক্তিভিত্তিক এবং সরকারিভাবে স্থায়ী বেতন কাঠামোর আওতায় আনব।”
জাতীয় ক্রীড়া পরিষদে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুব-উল-আলমসহ ফেডারেশন ও মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা উপস্থিত ছিলেন।
এই সিদ্ধান্ত বাস্তবায়িত হলে বাংলাদেশের জাতীয় ফুটবলারদের জন্য এটি হবে একটি যুগান্তকারী পরিবর্তন। খেলোয়াড়দের আর্থিক নিশ্চয়তা বাড়ার পাশাপাশি দীর্ঘমেয়াদে জাতীয় ফুটবলের মান উন্নয়নেও এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে বলে মনে করছেন।




