সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের আগে বাংলাদেশ কোচ মার্ক কক্স পরিষ্কার জানিয়ে দিলেন তার লক্ষ্য—নির্ধারিত ৯০ মিনিটের মধ্যেই ভারতকে হারিয়ে শিরোপা জেতা। ইংল্যান্ডের অতীত অভিজ্ঞতা টেনে টাইব্রেকারের ঝুঁকি এড়িয়ে যেতে চান এই ইংলিশ কোচ।
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে শুক্রবার ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। মালে জাতীয় স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই ম্যাচ ঘিরে দুই দলের মধ্যেই উত্তেজনা তুঙ্গে। গ্রুপ পর্বে দুই দলের লড়াই ১-১ ড্রয়ে শেষ হয়েছিল।
ফাইনালের আগে নিজের ভাবনা জানাতে গিয়ে কক্সের কণ্ঠে ছিল আত্মবিশ্বাস, সঙ্গে খানিকটা রসিকতাও। ভারতের বিপক্ষে আগের ম্যাচে লাল কার্ড দেখার প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন,
“আমি সবসময় হাসিখুশি। শেষ ম্যাচে একটু দুষ্টুমি করে লাল কার্ড পেয়েছিলাম। এজন্য আমি দুঃখিত। আমার ৮৬ বছর বয়সী মা ফোন করে বলেছে, এই বয়সে দুষ্টুমি কোরো না (হাসি)।”
লাল কার্ডের কারণে নেপালের বিপক্ষে সেমিফাইনালে ডাগআউটে থাকতে পারেননি কক্স। তবে ফাইনালে নিজের আচরণ নিয়ে সতর্ক এই কোচ। তার ভাষায়,
“আমি শান্তভাবে বেঞ্চে বসে থাকতে চাই, ভদ্র আচরণ করব এবং খেলোয়াড়দেরই আমার হয়ে কথা বলতে দেব।”
বাংলাদেশ-ভারত দ্বৈরথকে বিশেষ গুরুত্ব দিয়ে দেখছেন কক্স। তিনি মনে করেন, এমন ম্যাচে আলাদা করে অনুপ্রেরণার প্রয়োজন হয় না।
“ইংল্যান্ডে যেমন স্কটল্যান্ড, আয়ারল্যান্ড বা ওয়েলসের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা আছে, এখানেও বাংলাদেশ, ভারত, শ্রীলঙ্কা ও পাকিস্তানের মধ্যে সেই আবেগ কাজ করে। কাছের প্রতিপক্ষকে হারাতে সবাই চায়,”বলেন তিনি।
ইতিহাসও অবশ্য বাংলাদেশের পক্ষে খুব বেশি কথা বলছে না। বয়সভিত্তিক এই টুর্নামেন্টে এখন পর্যন্ত সাত আসরের মধ্যে চারবার চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ভারত, নেপাল দুইবার এবং বাংলাদেশ একবার। ২০২৪ সালে প্রথমবার শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ, সেবার ফাইনালে নেপালকে ৪-১ গোলে হারিয়েছিল লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
তবে ভারতকে ফাইনালে হারানোর স্মৃতি নেই বাংলাদেশের। ২০১৯, ২০২২ ও ২০২৫—এই তিনটি বয়সভিত্তিক ফাইনালেই ভারতের কাছে হেরেছে তারা। এবার সেই আক্ষেপ ঘোচানোর সুযোগ কক্সের দলের সামনে।
ফাইনাল যদি নির্ধারিত সময়ে অমীমাংসিত থাকে, তবে ম্যাচ গড়াবে সরাসরি টাইব্রেকারে। আর সেখানেই আপত্তি কক্সের। ইংল্যান্ডের অতীত ব্যর্থতার উদাহরণ টেনে তিনি বলেন,
“১৯৯০ বিশ্বকাপ, ১৯৯৬ ইউরো, ১৯৯৮ বিশ্বকাপ—এমন পরিস্থিতিতে ইংল্যান্ড সবসময় হেরেছে। তাই আমি চাই, আমরা যেন ৯০ মিনিটেই ম্যাচ শেষ করতে পারি।”
সব মিলিয়ে ফাইনালের আগে কক্সের বার্তা পরিষ্কার—শান্ত থেকে, নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলেই ভারতের বিপক্ষে জয় তুলে নিতে চায় বাংলাদেশ।




