দীর্ঘ পাঁচ বছর পর নির্বাচন সামনে রেখে ব্যস্ত সময় পার করছে দেশের ঐতিহ্যবাহী মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব। আগামী ৯ মার্চ ক্লাবের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। তবে নির্বাচন ঘিরে প্রশাসনিক প্রস্তুতি যতটা তুঙ্গে, ফুটবল দলের বাস্তব চিত্র ঠিক ততটাই উদ্বেগজনক। বকেয়া সম্মানী ও আর্থিক অনিশ্চয়তার কারণে নিয়মিত অনুশীলন করতে পারছেন না ফুটবলাররা।
২০২১ সালের ৬ মার্চ সর্বশেষ নির্বাচন হয়েছিল মোহামেডানের। সেই কমিটির মেয়াদ শেষ হওয়ার পর আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যেই নতুন নির্বাচন আয়োজনের বাধ্যবাধকতা তৈরি হয়। এ উপলক্ষে আজ বিকেলে ক্লাব প্রাঙ্গণে নির্বাচন কমিশন ও এজিএম কমিটির যৌথ সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
নির্বাচনের প্রধান নির্বাচন কমিশনার, সুপ্রিম কোর্টের সিনিয়র আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল সংবাদ সম্মেলনে জানান, আদালতের সর্বশেষ রায়ের আলোকে ১৬ মার্চের মধ্যেই নির্বাচন আয়োজন করতে হবে। সে অনুযায়ী ৯ মার্চ ভোটগ্রহণের দিন নির্ধারণ করা হয়েছে।
মোহামেডান ক্লাবে বর্তমানে ৩৬৮ জন স্থায়ী এবং ৩ জন দাতা সদস্য ভোটার হিসেবে তালিকাভুক্ত। সভাপতি পদসহ ১৬টি পরিচালক পদের জন্য আগ্রহী প্রার্থীদের আগামী দুই দিনে মনোনয়নপত্র সংগ্রহ করতে হবে। ক্লাব সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, এবারও একক প্যানেলের নির্বাচন হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। যদিও মনোনয়ন জমা না হওয়া পর্যন্ত বিষয়টি নিশ্চিত নয় বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক ডিরেক্টর ইনচার্জ লোকমান হোসেন ভূঁইয়া।
এর মধ্যেই মাঠের চিত্র একেবারেই ভিন্ন। আজ জাতীয় স্টেডিয়ামে নির্ধারিত সময়ে মোহামেডানের ফুটবল দলের অনুশীলন শুরু হয়নি। দীর্ঘদিনের বকেয়া পারিশ্রমিকের কারণে খেলোয়াড়দের মধ্যে অনীহা ছিল স্পষ্ট। পরে কোচিং স্টাফদের অনুরোধে দেরিতে হলেও অনুশীলনে নামেন তারা। নতুন কমিটি দায়িত্ব নিলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হবে—এমন আশ্বাসই আপাতত ভরসা।
গত এক বছর ধরেই মোহামেডান ক্লাব আর্থিক সংকটে ভুগছে। এর প্রভাব পড়েছে ফুটবল দলে। একাধিকবার অনুশীলন বয়কট, এমনকি ম্যাচ না খেলার শঙ্কাও তৈরি হয়েছিল। তবে সাম্প্রতিক সময়ে ক্লাব কর্তৃপক্ষের মনোযোগ মূলত এজিএম ও নির্বাচনকেন্দ্রিক।
ফুটবলারদের আর্থিক সমস্যার বিষয়ে আজ সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্ন করা হলে লোকমান হোসেন ভূঁইয়া তা এড়িয়ে যান। সংক্ষিপ্ত মন্তব্যে তিনি বলেন, “নির্বাচন ও এজিএম ছাড়া অন্য কোনো বিষয়ে আজ কথা বলবেন না।”
নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন নেতৃত্ব আসার পর মাঠ ও মাঠের বাইরের সংকট কতটা কাটবে, সেটাই এখন মোহামেডান সমর্থকদের বড় প্রশ্ন।




