অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নারী এশিয়ান কাপের আগে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের প্রস্তুতি নিয়ে প্রকাশ্য ক্ষোভ ঝাড়লেন কোচ পিটার জেমস বাটলার। সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন প্রস্তুতি পরিকল্পনা, প্রীতি ম্যাচের অভাব এবং বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন–এর পেশাদারিত্ব নিয়ে। তবে ক্ষোভের মধ্যেও বাস্তবতায় পা রেখে টুর্নামেন্টে ম্যাচ বাই ম্যাচ লড়াই করার বার্তা দিয়েছেন বাংলাদেশ নারী দলের এই ইংলিশ কোচ।
আগামী ১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় শুরু হচ্ছে নারী এশিয়ান কাপ। ‘বি’ গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তান। শক্তি ও ঐতিহ্যে এগিয়ে থাকা এসব দলের বিপক্ষে খেলতে নামার আগে প্রস্তুতির ঘাটতিই বাটলারের প্রধান উদ্বেগ।
এই প্রথম এশিয়ার সর্বোচ্চ এই আসরে খেলছে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। অথচ গত জুলাইয়ে বাছাইপর্ব পেরোনোর পর দলটি খেলেছে মাত্র চারটি ম্যাচ। সবশেষটি হয়েছিল ২ ডিসেম্বর, ঢাকায় আজারবাইজানের বিপক্ষে। চার মাসের বেশি সময় প্রীতি ম্যাচ না খেলার বিষয়টি কোচের অসন্তোষ আরও বাড়িয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে বাটলার বলেন, প্রস্তুতি ছাড়া বড় টুর্নামেন্টে ভালো করা সম্ভব নয়। তাঁর অভিযোগ, প্রীতি ম্যাচ ও বিদেশি ক্যাম্প নিয়ে একাধিক পরিকল্পনা থাকলেও বাস্তবে সেগুলোর কিছুই কার্যকর হয়নি। লিগকে অগ্রাধিকার দেওয়ায় আন্তর্জাতিক প্রস্তুতি ব্যাহত হয়েছে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
“প্রস্তুতি আদর্শ মানের হয়নি—এটাই বাস্তবতা,” বলেন বাটলার। “আমি কারো ওপর দোষ চাপাতে চাই না, কিন্তু মিডিয়ায় গিয়ে সবকিছু আমার পরিকল্পনা ছিল বলা বন্ধ হওয়া দরকার। আমি অনেক দেশে কাজ করেছি, কারো হাতের পুতুল নই।”
মাঠের কৌশল নিয়েও বাস্তববাদী এই কোচ জানিয়ে দিয়েছেন, বড় দলগুলোর বিপক্ষে অযথা আক্রমণাত্মক হলে বিপদ হতে পারে। তরুণ খেলোয়াড়দের স্বাভাবিক আক্রমণাত্মক মানসিকতা ধরে রাখার পাশাপাশি পরিস্থিতি বুঝে খেলার কথাও বলেন তিনি।
গ্রুপ পর্বে বাংলাদেশের মূল লক্ষ্য উজবেকিস্তান ম্যাচ। এই ম্যাচে ভালো ফল এলে অলিম্পিক বাছাইয়ের পথ খুলতে পারে। তবে উজবেকিস্তানকেও হালকাভাবে দেখছেন না বাটলার। তাঁর ভাষায়,
“ওরা টেকনিক্যালি খুবই শক্ত দল। অনুমানের জায়গা নেই।”
২৬ সদস্যের দলে নতুন মুখ হিসেবে আছেন আনিকা রানিয়া সিদ্দিকী, আলপি আক্তার ও সুরভী আক্তার আফরিন। সঙ্গে আছেন উমহেলা মারমা, নবীরন খাতুন ও প্রীতির মতো তরুণীরা। এই তরুণীদের নিয়েই আশার কথা শোনালেন বাটলার।
“আমার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো বিশ্বাসযোগ্য ও প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক পারফরম্যান্স,” বলেন তিনি। “ফলাফল অনেক সময় দুর্বলতা ঢেকে দেয়। কিন্তু দীর্ঘমেয়াদি উন্নতির জন্য শৃঙ্খলিত, কাঠামোগত ফুটবল খেলাই সবচেয়ে জরুরি।”
অস্ট্রেলিয়ায় গিয়ে ক্যাম্পের পাশাপাশি একটি প্রীতি ম্যাচ খেলার কথা রয়েছে বাংলাদেশের। সেটি হলে চার মাস পর মাঠে নামবে নারী দল। সীমিত সময়ের মধ্যেই সেই সুযোগকে কাজে লাগিয়ে আত্মবিশ্বাসী পারফরম্যান্সই এখন বাটলারের মূল লক্ষ্য।




