অর্জন, ঐতিহ্য আর শক্তির বিচারে চীন ও বাংলাদেশের ব্যবধান অনেক বড়। কিন্তু সেই পরিসংখ্যানকে পাত্তা দিতে রাজি নন চীনের কোচ অ্যান্টে মিলিচিচ। অভিজ্ঞ পিটার বাটলারের নেতৃত্বে গড়া তরুণ ও আক্রমণাত্মক বাংলাদেশ দলকে তিনি দেখছেন পূর্ণ শ্রদ্ধা ও সতর্কতার সঙ্গে। তাই এশিয়া কাপে বাংলাদেশের বিপক্ষে ম্যাচকে মোটেও সহজ করে দেখছেন না চীনের ডাগআউট।
উইমেন’স এশিয়ান কাপে মঙ্গলবার সিডনির কমব্যাংক স্টেডিয়াম মুখোমুখি হবে প্রতিযোগিতার রেকর্ড ৯ বারের চ্যাম্পিয়ন চীন ও প্রথমবার এই মঞ্চে ওঠা বাংলাদেশ। ‘বি’ গ্রুপের ম্যাচটি শুরু হবে বাংলাদেশ সময় বেলা ২টায়।
চীন শুধু সবচেয়ে সফল দলই নয়, তারা বর্তমান চ্যাম্পিয়নও। গত আসরে উত্তর কোরিয়াকে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল তারা। সেই দুই ফাইনালিস্টের এবার দেখা হচ্ছে গ্রুপ পর্বেই। তবে সংবাদ সম্মেলনে চীনের কোচ অ্যান্টে মিলিচিচ পরিষ্কার জানিয়ে দিয়েছেন, আপাতত তার সব মনোযোগ বাংলাদেশের দিকেই।
তিনি বলেন, ‘হয়তো আপনারা এটা শুনতে চান না, কিন্তু আমি এখন উত্তর কোরিয়ার ম্যাচ নিয়ে ভাবছি না। প্রথমে আমাদের পূর্ণ মনোযোগ থাকবে আগামীকালের প্রতিপক্ষের ওপর। একের পর এক ম্যাচ ধরে এগোতে চাই।’
মিলিচিচের চোখে বাংলাদেশ দল আলাদা করে নজর কেড়েছে তাদের খেলায় গতি ও আগ্রাসনের জন্য। ডাগআউটে ইংলিশ কোচ পিটার জেমস বাটলার–এর উপস্থিতি এবং ঋতুপর্ণা-মনিকা-মারিয়াদের অভিজ্ঞতার সঙ্গে আফঈদা, কোহাতি, স্বপ্না, সাগরিকাদের মতো তরুণদের মিশেল এই দলকে করেছে ভারসাম্যপূর্ণ।
চীনা কোচের ভাষায়, ‘বাংলাদেশ খুবই তরুণ দল। বাটলার সেখানে দুর্দান্ত কাজ করছেন। আমি সত্যিই তাদের খেলার ধরণ পছন্দ করি। তারা উপরে উঠে খেলে, গতি আছে, আগ্রাসী এবং টেকনিক্যালি ভালো। আপনি যদি তাদের সময় ও জায়গা দেন, তারা আঘাত করতে পারে।’
তিনি আরও যোগ করেন,
‘বাছাইপর্বে তারা মিয়ানমারকে তাদের মাঠে, বিপুল দর্শকের সামনে হারিয়ে এসেছে। এটা বড় অর্জন এবং তারা প্রশংসা পাওয়ার যোগ্য। আমরা যেমন তাদের বিশ্লেষণ করেছি, তারাও আমাদের করেছে। পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখেই আমরা পরিকল্পনা বাস্তবায়নের চেষ্টা করব।’
এই ম্যাচে ডাগআউটে যেন হবে এক ধরনের ‘অস্ট্রেলিয়া-ইংলিশ’ দ্বন্দ্ব। মিলিচিচ অস্ট্রেলিয়ান, আর বাটলার ইংলিশ। তবে প্রতিদ্বন্দ্বিতার চেয়ে পারস্পরিক সম্মানই বেশি চোখে পড়েছে চীনা কোচের কথায়।
চীন ও বাংলাদেশের এটি প্রথম মুখোমুখি লড়াই। ম্যাচটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত চীনা অধিনায়ক উ হাইইয়ান। তিনি বলেন,
‘এই প্রথম বাংলাদেশের বিপক্ষে খেলব। প্রতিটি ম্যাচই আলাদা চ্যালেঞ্জ। আমরা আমাদের সেরাটা দিয়ে পরিকল্পনা অনুযায়ী খেলতে চাই। ম্যাচটির জন্য আমি সত্যিই অপেক্ষা করছি।’
প্রথম এশিয়া কাপেই শক্তিশালী চীনের বিপক্ষে নামছে বাংলাদেশ। আর প্রতিপক্ষ কোচের কথাতেই স্পষ্ট, এই বাংলাদেশ দলকে আর কেউই হালকাভাবে দেখার সাহস পাচ্ছে




