বাংলাদেশের এশিয়া কাপ অভিযান শুরু হয়েছে সাহসী লড়াই দিয়ে। বর্তমান এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ০-২ গোলে হারলেও পারফরম্যান্সে ছিল আত্মবিশ্বাসের ছাপ। সেই ম্যাচের পর অনেকেই কোয়ার্টার ফাইনালের স্বপ্ন দেখছেন, কারণ শেষ আটে উঠতে পারলে বিশ্বকাপের পথও খুলে যেতে পারে। তবে প্রধান কোচ পিটার বাটলার আপাতত মাটিতেই থাকতে চাইছেন।

বৃহস্পতিবার ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে তিনি পরিষ্কার করে বলেন, দল আকাশকুসুম কল্পনা নিয়ে আসেনি।

“আমি প্রতিটি ম্যাচকে আলাদা করে দেখি। আমরা এখানে বিশ্বকাপে কোয়ালিফাই করার স্বপ্ন নিয়ে আসিনি। আমি চাই মেয়েরা প্রতিটি ম্যাচে উন্নতি করুক, শিখুক। এই টুর্নামেন্ট তাদের জন্য শেখার বড় সুযোগ।”

দক্ষিণ এশিয়ার দল হিসেবে বাংলাদেশকে বেশিরভাগ সময় সাফ অঞ্চলের প্রতিযোগিতায় খেলতে হয়। সেই অভিজ্ঞতার সঙ্গে এশিয়ার মূল মঞ্চের পার্থক্যও তুলে ধরেন বাটলার।

“সাফের পর্যায় আর এএফসির পর্যায়ের মধ্যে অনেক পার্থক্য। এখানকার মাঠ, অনুশীলন সুবিধা, প্রতিপক্ষের মান—সবকিছুই বেশি পেশাদার ও সুশৃঙ্খল। আমি মনে করি সাফ, বাফুফে এবং ছোট দলগুলো এই ধরনের টুর্নামেন্ট থেকে অনেক কিছু শিখতে পারে।”

গ্রুপে বাংলাদেশের পরের বড় পরীক্ষা উত্তর কোরিয়া। ফিফা র‌্যাংকিংয়ে এগিয়ে থাকা এই দলকে নিয়ে বাটলার বলেন,

“আমরা খুব শক্তিশালী একটি দলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছি। তারা টেকনিক্যালি দারুণ এবং প্রতিভাবান। র‌্যাংকিং দেখলেই বোঝা যায়, তারা এই টুর্নামেন্টের অন্যতম ফেবারিট।”

চীন ম্যাচে গোলপোস্ট সামলেছেন মিলি আক্তার। তাকে নিয়ে কোচের মন্তব্য ছিল একটু ভিন্নধর্মী। প্রশংসার সুরে তিনি বলেন,

“মিলি অনেকটা Elvis Presley-এর মতো, তার নিজস্ব স্টাইল আছে। এই টুর্নামেন্টে তার চুলের স্টাইলই সেরা।”

সঙ্গে যোগ করেন,

“অনেক দিন ধরেই সুযোগের অপেক্ষায় ছিলেন মিলি। চীন ম্যাচের আগে প্রায় ৯০ থেকে ১০০ দিন কোনো প্রস্তুতি ম্যাচ না থাকায় সিদ্ধান্ত নেওয়া সহজ ছিল না বলেও জানান তিনি।”

স্বপ্নের কথা এখনই জোরে বলতে নারাজ কোচ। তার চোখে এই আসর শেখার, নিজেদের মাপার এবং ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত হওয়ার মঞ্চ। মাঠে সেই লড়াইটাই এখন সবচেয়ে বড় বার্তা।

Previous articleবাংলাদেশের গতি ভাবাচ্ছে উত্তর কোরিয়াকে, ঋতুপর্ণাকে ঘিরে বিশেষ সতর্কবার্তা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here