সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর দেশের ফুটবলে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। এই সাফল্যকে ভিত্তি করে বয়সভিত্তিক দলগুলোর উন্নয়নে বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে বাফুফে ডেভলপমেন্ট কমিটি। বিদেশি কোচ নিয়োগ থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলার উদ্যোগ—সব মিলিয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতির পথেই হাঁটতে চায় ফেডারেশন।
সাফ অ-২০ টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের শিরোপা জয় ফুটবলাঙ্গনে নতুন উদ্দীপনা তৈরি করেছে। এই ইতিবাচক আবহকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। আজ বাফুফে ভবনে অনুষ্ঠিত ডেভলপমেন্ট কমিটির সভায় বয়সভিত্তিক ফুটবলের উন্নয়নে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক টুর্নামেন্টে বাংলাদেশ দলের দায়িত্বে ছিলেন ব্রিটিশ কোচ মার্ক কক্স। তবে তার চুক্তির মেয়াদ শেষ হওয়ায় তিনি ইতোমধ্যে ইংল্যান্ডে ফিরে গেছেন। ফলে নতুন করে বিদেশি কোচ খোঁজার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বাফুফে।
এদিকে বছরের শুরুতে নারী দলের সাবেক কোচ গোলাম রব্বানী ছোটনকে ‘হেড অব ইয়ুথ’ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বয়সভিত্তিক দলে বিদেশি কোচ আনার পরিকল্পনায় তার ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ডেভলপমেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান নাসের শাহরিয়ার জাহেদী বলেন, ছোটন তার দায়িত্ব পালন করছেন। তবে আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা সম্পন্ন বিদেশি কোচ যুক্ত করা প্রয়োজন বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, “প্রতিটি বয়সভিত্তিক দলের জন্য আলাদা বিদেশি কোচ থাকলে দেশীয় কোচদের সঙ্গে সমন্বয়ে কাজের মান বাড়বে।”
বিদেশি কোচ নিয়োগের ক্ষেত্রে এবার আরও সতর্ক অবস্থান নিচ্ছে বাফুফে। আগ্রহী কোচদের আবেদন গ্রহণ করে সেখান থেকে যোগ্যদের বাছাই করার পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন জাহেদী।
শুধু কোচ নিয়োগ নয়, বয়সভিত্তিক দলগুলোর আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা বাড়াতেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টের আগে অন্তত তিনটি প্রস্তুতি ম্যাচ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি অনূর্ধ্ব-১৭ দলকে ইউরোপের বিভিন্ন একাডেমি কাপ টুর্নামেন্টে অংশ নিতে পাঠানোর কথাও ভাবছে ফেডারেশন।
আসন্ন এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বকে সামনে রেখে ছয় সপ্তাহের প্রস্তুতি ক্যাম্প করার পরিকল্পনা রয়েছে বাফুফের। এই ক্যাম্প ঢাকায় পুরো সময় অথবা আংশিক যশোর ও ঢাকায় ভাগ করে আয়োজন করা হতে পারে।
বাছাইপর্ব আয়োজনের জন্য ঢাকা জাতীয় স্টেডিয়াম ও বসুন্ধরা কিংস অ্যারেনাকে ভেন্যু হিসেবে প্রস্তাব দিয়েছে বাফুফে। আগামী আগস্ট-সেপ্টেম্বরে অনুষ্ঠিত হবে এই প্রতিযোগিতা, যেখানে ২৫ আগস্ট থেকে ৬ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা।
তবে শিরোপা জয়ের পরও কিছু বিষয় নিয়ে সমালোচনা রয়েছে। বিশেষ করে টুর্নামেন্টের ঠিক আগে বিদেশি কোচ নিয়োগ এবং দলের ম্যানেজারের আচরণ প্রশ্নের জন্ম দেয়। এ প্রসঙ্গে জাহেদী জানান, “এসব বিষয় নিয়ে পর্যালোচনা করা হয়েছে। খেলোয়াড়দের প্রাপ্ত কার্ড এবং রেফারিংয়ের মান নিয়েও আলোচনা হয়েছে এবং সাফ কর্তৃপক্ষকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিষয়টি জানানো হয়েছে।”
সব মিলিয়ে সাফ অ-২০ শিরোপার সাফল্যকে সামনে রেখে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনায় এগোতে চাইছে দেশের ফুটবল কর্তৃপক্ষ।




