আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে আগামী ২৬ মার্চ মুখোমুখি হচ্ছে ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা ৬টায় শুরু হতে যাওয়া ম্যাচটিকে সামনে রেখে দুই দলই শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতিতে ব্যস্ত। একদিকে শক্তিশালী ভিয়েতনাম আত্মবিশ্বাসী, অন্যদিকে উন্নতির ধারায় থাকা বাংলাদেশ চাইছে কঠিন পরীক্ষায় নিজেদের প্রমাণ করতে।

ভিয়েতনাম কোচ স্যাং সিক  জানিয়েছেন,

“অনেকদিন পর পুরো দল একসঙ্গে হওয়ায় তিনি বেশ উচ্ছ্বসিত। নতুন খেলোয়াড়দের অবদান দেখার জন্য মুখিয়ে আছেন তিনি, বিশেষ করে হোয়াং হেনকে নিয়ে তার প্রত্যাশা বেশি। ভি-লিগে দীর্ঘ সময় খেলার পর অবশেষে জাতীয় দলে সুযোগ পাওয়া হেন গত পাঁচ বছরে নিজের মান প্রমাণ করেছেন বলেও মনে করেন কোচ।”

অনুশীলন ও ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন,

“আক্রমণে হেনকে ব্যবহার করার অনেক সুযোগ রয়েছে। জুয়ান সনের সঙ্গে তাকে জুটি করে খেলানো কিংবা একজনকে স্ট্রাইকার ও অন্যজনকে উইংয়ে রাখার পরিকল্পনাও আছে তার।”

সম্প্রতি ছোটখাটো চোট থেকে সেরে উঠেছেন জুয়ান সন। তাই ম্যাচের আগে তার শারীরিক অবস্থা ভালোভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। এছাড়া, সাম্প্রতিক সময়ে ভালো পারফরম্যান্সের কারণে ভ্যান হাউ ও দিন ত্রংয়ের দলে ফেরা রক্ষণভাগকে আরও শক্তিশালী করবে বলে মনে করছেন কোচ। চোট কাটিয়ে ফিরে তারা এখন ভালো অবস্থায় আছেন এবং দলে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি হবে।

বাংলাদেশ দল নিয়েও সতর্ক ভিয়েতনাম। কোচ কিম স্যাং সিক বলেন,

“গত বছরের তুলনায় বাংলাদেশে অনেক পরিবর্তন এসেছে—কোচিং স্টাফ থেকে শুরু করে খেলোয়াড় তালিকায়, বিশেষ করে বিদেশে খেলা ফুটবলারদের অন্তর্ভুক্তিতে দলটি আরও শক্তিশালী হয়েছে। কিছু খেলোয়াড় আগে এএফসি অনূর্ধ্ব-২৩ এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে ভিয়েতনাম অনূর্ধ্ব-২৩ দলের বিপক্ষে খেলেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।”

হামজা চৌধুরীকে নিয়েও সচেতন ভিয়েতনাম শিবির। ইংল্যান্ডে খেলা এই মিডফিল্ডারকে থামাতে তার খেলার ভিডিও বিশ্লেষণ করা হচ্ছে বলে জানান কোচ। ম্যাচে জয়ের লক্ষ্য নিয়েই মাঠে নামবে ভিয়েতনাম।

ভিয়েতনাম অধিনায়ক Do Duy Manh বলেন, “

প্রীতি ম্যাচ হলেও তারা মনোযোগ ধরে রেখে শৃঙ্খলার সঙ্গে খেলতে চান এবং কোচের নির্দেশনা মেনে চলবেন। ফিফা র‍্যাংকিংয়ের ওপর প্রভাব থাকায় জয়ই তাদের লক্ষ্য।”

হোয়াং হেন ভিয়েতনামি ভাষায় ভালোভাবে কথা বলতে পারেন এবং ভি-লিগে তার পারফরম্যান্সও ভালো। কোচের ডাকে সাড়া দিয়ে দলে জায়গা পাওয়া তার পরিশ্রমের স্বীকৃতি বলেও মনে করেন অধিনায়ক। এছাড়া দিন ত্রং ও ভ্যান হাউয়ের দলে ফেরা নিয়েও তিনি খুশি, কারণ তাদের সঙ্গে অনেকদিন একসঙ্গে খেলেছেন তিনি।

বাংলাদেশ কোচ ক্যাবরেরা জানিয়েছেন,

“তাদের মূল লক্ষ্য আসন্ন সিঙ্গাপুর ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়া। তবে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার অন্যতম শক্তিশালী দল ভিয়েতনামের বিপক্ষে খেলা আত্মবিশ্বাস বাড়াতে সহায়ক হবে।”

তিনি বলেন,

“জুয়ান সন ও হোয়াং হেনের মতো খেলোয়াড় থাকায় ভিয়েতনাম দল বেশ শক্তিশালী। তাই ভিয়েতনামের শক্তিশালী দলটির বিপক্ষে খেলতে পারলেই বাংলাদেশ উপকৃত হবে।”

হামজা চৌধুরীকে নিয়ে তিনি জানান, গতকাল বিকেলে দলে যোগ দিয়েছেন হামজা। তিনি ভালো আছেন, তবে আবহাওয়া ও সময়ের সঙ্গে মানিয়ে নিতে কিছুটা সময় লাগবে। ম্যাচে তার খেলার বিষয়টি বিবেচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

বাংলাদেশ অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া  বলেন,

“ম্যাচটি কঠিন হবে, তবে বাংলাদেশ দল উন্নতি করছে। ভিয়েতনামের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার সক্ষমতা দলের আছে বলেই বিশ্বাস তার।”

সব মিলিয়ে প্রীতি ম্যাচ হলেও দুই দলের জন্যই এটি গুরুত্বপূর্ণ এক লড়াই—ভিয়েতনাম চাইছে জয় ধরে রাখতে, আর বাংলাদেশ দেখছে নিজেদের সামর্থ্য প্রমাণের সুযোগ হিসেবে।

Previous articleঅভিষেকেই রোনানের জোড়া গোল, পাকিস্তানকে হারিয়ে দারুণ সূচনা বাংলাদেশের

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here