নারী ফুটবল লিগে রোববারের ম্যাচটি স্মরণীয় হয়ে থাকল দুটি ভিন্ন কারণে। একদিকে নজিরবিহীন মারামারিতে থমকে যায় খেলা, অন্যদিকে ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ব্যবধানে জয় তুলে নেয় ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে কাঁচারিপাড়া একাদশকে ২৩-০ গোলে হারিয়ে রেকর্ড গড়ে তারা।
নারী ফুটবলারদের ফ্রিস্টাইল মারামারিতে রোববার (৪ জানুয়ারি) রাতে কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহী মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে ঘটে গেছে নজিরবিহীন ঘটনা। উমেন্স ফুটবল লিগে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ও জামালপুরের কাঁচারিপাড়া একাদশের ম্যাচের ৩০ মিনিটে একটি ফাউলকে কেন্দ্র করে দুই দলের খেলোয়াড়রা জড়িয়ে পড়েন মারামারিতে। মেয়েদের ফুটবলে এমন দৃশ্য আগে দেখা যায়নি। ফুটবল নয়, মুহূর্তে কমলাপুরের টার্ফ যেন রেসলিং রিংয়ে পরিণত হয়।
কাঁচারিপাড়া একাদশের সাবিত্রি ত্রিপুরার ফাউলে পড়ে যান ফরাশগঞ্জের মনিকা চাকমা। পড়ে যাওয়ার পর উঠে দাঁড়িয়ে সাবিত্রির ওপর চড়াও হন মনিকা। সেখান থেকেই পরিস্থিতি দ্রুত নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যায়। মাঠের প্রায় সব খেলোয়াড় ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে একে অপরকে ধরে আছাড় মারতে থাকেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে রেফারির প্রায় ১৫ মিনিট সময় লেগে যায়।
শেষ পর্যন্ত ফরাশগঞ্জের মনিকা চাকমা ও কাঁচারিপাড়া একাদশের সাবিত্রি ত্রিপুরাকে লালকার্ড দেখিয়ে মাঠ থেকে বহিষ্কার করেন রেফারি। হলুদ কার্ড দেখে সতর্ক হন ফরাশগঞ্জের মারিয়া মান্দা। দীর্ঘ বিরতির পর আবার খেলা শুরু হয়।

ঘটনাবহুল ম্যাচে এরপর একপেশে দাপট দেখায় ফরাশগঞ্জ। আক্রমণের পর আক্রমণে ভেঙে পড়ে কাঁচারিপাড়ার রক্ষণ। ম্যাচ শেষে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ২৩-০। এটি নারী ফুটবল লিগে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাবের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ব্যবধানের জয়।
এই রেকর্ড জয়ে ডাবল হ্যাটট্রিক করেন মারিয়া মান্দা ও শামসুন্নাহার জুনিয়র। দুজনই ছয়টি করে গোল করেন। তহুরা খাতুন করেন হ্যাটট্রিক। দুটি করে গোল আসে শামসুন্নাহার সিনিয়র ও বিপাশার পা থেকে। একটি করে গোল করেন সামিকশা, মনিকা চাকমা, প্রীতি ও অনামিকা।
এর আগে লিগের প্রথম ম্যাচেও বড় জয় পেয়েছিল ফরাশগঞ্জ। ঢাকা রেঞ্জার্সের বিপক্ষে তারা জিতেছিল ১০-০ গোলে। দুটি ম্যাচেই গোলের বন্যা বইয়ে দিয়ে লিগে নিজেদের শক্তির জানান দিল ক্লাবটি।




