সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপ খেলতে ভারত যাত্রার আগে টুর্নামেন্টের ফাইনাল খেলার লক্ষ্যের কথা জানিয়ে গিয়েছিল যুবারা। সে লক্ষ্য পূরণে পরিকল্পনামাফিকই খেলেছে পল স্মলির শিষ্যরা। শ্রীলঙ্কাকে ১-০ গোলে হারিয়ে আসর শুরু করে বাংলাদেশের যুবারা। দ্বিতীয় ম্যাচে স্বাগতিক ভারতকে ২-১ গোলের ব্যবধানে এরপর তৃতীয় ম্যাচে মিরাজুলের হ্যাটট্রিকে মালদ্বীপকে ৪-১ গোলের বড় ব্যবধানে উড়িয়ে দেয় বাংলাদেশ। আর শেষ ম্যাচে নেপালের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে অপরাজিত থেকেই ফাইনাল নিশ্চিত করে লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। এবার ফাইনালে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ স্বাগতিক ভারত। ৫ আগষ্ট, শুক্রবার বাংলাদেশ সময় সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায় ভুবনেশ্বরের কালিঙ্গা স্টেডিয়ামে শিরোপার লড়াইয়ে অবতীর্ণ হবে দুই প্রতিবেশী দেশ ভারত ও বাংলাদেশ। বাংলাদেশের কাছে হেরে আসর শুরু করা ভারত পরের তিন ম্যাচে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়িয়েছে। টুর্নামেন্ট জুড়ে দুর্দান্ত খেলা নেপালকে তো হারিয়েছে ৮-০ গোলের বিশাল ব্যবধানে। তাইতো শিরোপার লড়াইয়ে বড় ধরনের এক চ্যালেঞ্জই অপেক্ষা করছে বাংলাদেশের সামনে।

২০১৯ সালে ভুটানে অনুষ্ঠেয় অনূর্ধ্ব-১৮ ফরম্যাটে ভারতের কাছে হেরে যুব সাফের শিরোপা স্বপ্ন ভেঙেছিল বাংলাদেশ। তবে এবার আর সে পথে হাটতে চায় না লাল সবুজের প্রতিনিধিরা। ভারতকে হারিয়ে সাফের শিরোপা উৎসব করতে চায় তানভীর-নোভারা। তাইতো ফাইনালের আগে দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দলের অধিনায়ক তানভীর হোসেন। তিনি বলেছেন, “সবার দোয়া ছিল বলে আমরা ফাইনালে উঠতে পেরেছি। সবার দোয়া নিয়েই চ্যাম্পিয়ন হয়ে দেশে ফিরতে চাই।”

নেপালের বিপক্ষে লাল কার্ড দেখায় ফাইনালে মিডফিল্ডার শহিদুল ইসলামকে পাচ্ছে না বাংলাদেশ। তবে তার অনুপস্থিতি নিয়ে ভাবছেন না স্মলি। তার জায়গায় যে সুযোগ পাবে সেও সেরাটা দেয়ার জন্য মুখিয়ে আছে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ কোচ, “পুরো টুর্নামেন্ট জুড়ে দারুণ খেলায় শহীদুলকে অভিনন্দন জানাতে হবে, কিন্তু দুর্ভাগ্যজনকভাবে সে ফাইনাল খেলতে পারবে না। এগুলো ফুটবলে হয়। কার্ডের কারণে কিংবা চোটের কারণে খেলোয়াড় হারাতে হয় এবং এগুলোর সঙ্গে মানিয়েও নিতে হয়। যে স্কোয়াড নিয়ে আমরা এসেছি, সেখানে গভীরতা আছে। ফাইনালে যে সুযোগ পাবে তার জন্য ফাইনালের মত মঞ্চে নিজেকে মেলে ধরার বড় সুযোগ অপেক্ষা করছে।”

টুর্নামেন্টে হ্যাটট্রিকসহ ৪ গোল করা মিরাজুল ইসলামের রয়েছে হালকা চোট। তবে তাতেও আত্মবিশ্বাসে কমতি নেই পুরো দলের। স্কোয়াডে গভীরতা থাকায় বাংলাদেশ দল শিরোপা জয়ের জন্য প্রস্তুত বলে জানান দলের ম্যানেজার বিজন বড়ুয়া, “দলে একটু সমস্যা আছে, যেহেতু শহীদুল ইসলাম গত ম্যাচে লাল কার্ড পেয়েছে। মিরাজুল ইসলামের একটু ইনজুরি আছে। এর বাইরে সবাই সুস্থ আছে। তবে আমার মনে হয়, আমাদের দলে যত খেলোয়াড় আছে, তারা ১৯-২০, এখানে কোনও সমস্যা হবে না। কোচও সেভাবে পরিকল্পনা সাজাবেন। আশা করি, ফাইনাল আমরা জিতবো।”

Previous articleফুটবল থেকে সাময়িক বিরতিতে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব!
Next articleঅনুষ্ঠিত হয়েছে দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবল লীগের ড্র; অংশ নিচ্ছে ১৮ টি দল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here