এএফসি উইমেন’স অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপে স্বপ্নের শুরু করেও শেষটা তিক্ত হলো বাংলাদেশের মেয়েদের। সাগরিকার দুর্দান্ত জোড়া গোলে এগিয়ে থেকেও অপ্রয়োজনীয় দুটি পেনাল্টি ও রক্ষণভুলে ১০ মিনিটে তিন গোল হজম করে ৩-২ ব্যবধানে থাইল্যান্ডের কাছে হার মানতে হয়েছে লাল-সবুজ প্রতিনিধিদের।
সেন্টারের একটু ওপর থেকে সতীর্থের থ্রু পাস পেয়ে দারুণ গতিতে প্রতিপক্ষের ডিফেন্স ভেঙে বক্সে ঢুকে পড়েন সাগরিকা। ঠাণ্ডা মাথায় গোলকিপারকে ফাঁকি দিয়ে বল জালে জড়িয়ে দলকে এগিয়ে নেন তিনি। ৩৫তম মিনিটে সেই দৃষ্টিনন্দন গোলেই ম্যাচে লিড নেয় বাংলাদেশ।

দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেও একই ছন্দে ছিলেন এই ফরোয়ার্ড। ৫০তম মিনিটে উমহেলা মারমার বাড়ানো নিখুঁত পাস নিয়ন্ত্রণে নিয়ে ডান পায়ের শটে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন সাগরিকা। তখন ম্যাচ পুরোপুরি বাংলাদেশের নিয়ন্ত্রণেই ছিল।
শুরু থেকেই আত্মবিশ্বাসী ফুটবল খেলেছে বাংলাদেশ। থাইল্যান্ডের আক্রমণ ঠেকাতে গোলরক্ষক মিলি আক্তারও ছিলেন দারুণ দৃঢ়। একের পর এক সেভে দলকে ম্যাচে রাখছিলেন তিনি।
কিন্তু ম্যাচের মোড় ঘুরে যায় হঠাৎ করেই। ৬৮তম মিনিটে বক্সের ভেতরে অপ্রয়োজনীয় ট্যাকলে পেনাল্টি উপহার দেন সুরভি আক্তার আফরিন। সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে ব্যবধান কমায় থাইল্যান্ড।
এরপর ৭৪তম মিনিটে আরেকটি ফাউলে দ্বিতীয় পেনাল্টি পায় স্বাগতিকরা। মিলি হাত লাগালেও বল জালে ঠেকাতে পারেননি। মুহূর্তেই সমতায় ফেরে থাইল্যান্ড।

সমতা ফেরার ধাক্কা সামলাতে না সামলাতেই আরও বড় বিপর্যয়। কিক-অফের পর মাঝমাঠে বল হারিয়ে দ্রুত কাউন্টার আক্রমণে তৃতীয় গোল করে বসে থাইল্যান্ড। মাত্র কয়েক মিনিটেই জয়ের সম্ভাবনা হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ।
শেষ দিকে চেষ্টা করেও আর ম্যাচে ফেরা হয়নি আফঈদা-অর্পিতাদের।
প্রথমবারের মতো এই টুর্নামেন্টে খেলতে নেমে শুরুটা আশা জাগানিয়া হলেও শেষ পর্যন্ত অভিজ্ঞতার অভাবই ভোগালো বাংলাদেশকে।
গ্রুপ পর্বে নিজেদের পরের ম্যাচে বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে শক্তিশালী চীনের, যারা প্রথম ম্যাচে ভিয়েতনামকে ৩-০ গোলে হারিয়ে দারুণভাবে আসর শুরু করেছে।




