স্ট্যান্ডার্ড ফুটবলের পাশাপাশি ফুটসালেও ধীরে ধীরে পরিচিত নাম হয়ে উঠছে বাংলাদেশ। দীর্ঘ বিরতির পর আন্তর্জাতিক ফুটসালে ফিরছে নারী দল, আর পুরুষ দল খেলতে যাচ্ছে টানা দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্ট। থাইল্যান্ডে শুরু হতে যাওয়া সাফ ফুটসালকে সামনে রেখে প্রস্তুতি, প্রত্যাশা আর পরিকল্পনায় আশাবাদী বাফুফে ও দুই দলের খেলোয়াড়রা।

স্ট্যান্ডার্ড ফুটবলের মতো ফুটসালও বিশ্বজুড়ে জনপ্রিয় হলেও বাংলাদেশের এই যাত্রা এখনও নবীন। নারী দল সর্বশেষ ২০১৮ সালে থাইল্যান্ডে এশিয়ান ফুটসাল বাছাই খেলেছিল। সাত বছর পর আবার আন্তর্জাতিক মঞ্চে ফিরছে তারা। সে দলটির অধিনায়ক ছিলেন সাবিনা খাতুন, এবারও নেতৃত্বে তিনিই।

দুই সময়ের পার্থক্য তুলে ধরে সাবিনা বলেন, “অবশ্যই আগের চেয়ে এখন আমরা ভালো অবস্থানে আছি। এক মাসের বেশি সময় অনুশীলন করেছি, মানসম্মত কোচিং পেয়েছি। ফুটসাল সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াও বেড়েছে। দেশবাসীর কাছে দোয়া চাই, যেন ভালো করতে পারি।”

দক্ষিণ এশিয়ায় ফুটসালের চর্চা এখনও সীমিত। তবু অভিজ্ঞতার বিচারে মালদ্বীপকে এগিয়ে রাখছেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। তার ভাষায়, “মালদ্বীপের মেয়েরা নিয়মিত ফুটসাল খেলে। তাদের অভিজ্ঞতা বেশি। ভারতের সুযোগ-সুবিধাও ভালো। বাকি দলগুলো প্রায় সমান।”

টানা দুইবার নারী সাফ চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ। ফুটসালেও সেই ধারাবাহিকতা ধরে রাখা সম্ভব কি না, এমন প্রশ্নে সাবিনার কণ্ঠে প্রত্যয়, “আমরা ফুটসালেও ইতিহাস করতে চাই। হয় এ বছর, না হয় সামনে কোনো বছরে, কিন্তু আমরা ইতিহাস করতেই চাই।”

পুরুষ দল তুলনামূলকভাবে কম অভিজ্ঞ হলেও লক্ষ্য স্পষ্ট। সহ-অধিনায়ক মো. তুহিন বলেন, “আমরা দেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে যাচ্ছি। ভালো ফল নিয়েই ফিরতে চাই।”

নতুন বাফুফে কমিটি ফুটসালে বিশেষ গুরুত্ব দিয়েছে। নারী দলে দুইজন ইরানিয়ান নারী কোচ নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। নারী ও পুরুষ দুই দলেরই হেড কোচ ইরানিয়ান সাঈদ খোদারাহমি। তিনি বলেন, “এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের আগের চেয়ে প্রস্তুতি এবার আরও ভালো। আমি আশাবাদী, সাফে বাংলাদেশ ভালো কিছু করবে। দুই দলই সমানভাবে প্রস্তুত।”

তবে অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেছেন এই কোচ। “বাংলাদেশে ভালো ফুটসাল স্টেডিয়াম নেই। এতে অনুশীলনে সমস্যা হয়। ফুটবল আর ফুটসালের মানসিকতা আলাদা। খেলোয়াড়, কোচ, রেফারি—সব ক্ষেত্রেই পার্থক্য আছে, যা এক মাসে বদলানো সম্ভব নয়।”

ফুটসাল কমিটির চেয়ারম্যান ইমরানুর রহমান জানান, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা নিয়ে তারা আশাবাদী। “নির্বাচনের পর সরকারের সঙ্গে ফুটসাল স্টেডিয়াম নিয়ে আলোচনা করব। পাশাপাশি ঘরোয়া পর্যায়ে নিয়মিত ফুটসাল শুরু করার পরিকল্পনাও আছে।”

১৩ জানুয়ারি নারী এবং ১৪ জানুয়ারি পুরুষ সাফ ফুটসাল শুরু হবে থাইল্যান্ডে। উন্নত অনুশীলন ও প্রস্তুতি ম্যাচের জন্য বাফুফে বাড়তি ব্যয় করে খেলা শুরুর প্রায় দশ দিন আগে দুই দলকে থাইল্যান্ড পাঠাচ্ছে। আগামীকালই দেশ ছাড়বে নারী ও পুরুষ দল।

পুরুষ দলের অধিনায়ক কানাডা প্রবাসী রাহবার খান। তিনি পরশু দিন দলের সঙ্গে যোগ দেবেন। তাকে নিয়ে ইমরানুর রহমান বলেন, “কানাডায় চাকরি করেও সে দেশের জন্য বিনা বেতনে ছুটি নিয়ে আসছে। ঢাকায় ক্যাম্পে থাকতে না পারলেও থাইল্যান্ডে পুরো টুর্নামেন্টে দলের সঙ্গে থাকবে। এটি নিঃসন্দেহে দেশের জন্য বড় পাওয়া।”

Previous articleবাফুফেতে ফিরছেন বিপ্লব, নতুন বছরে যোগ দিচ্ছেন আরও তিন কোচ
Next articleফুটসাল মঞ্চে সাবিনার প্রত্যাবর্তন, সংবাদ সম্মেলনে আলোচনার কেন্দ্রে অভিজ্ঞ অধিনায়ক

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here