ঘরোয়া ফুটবলের ব্যস্ত মৌসুম চললেও নির্ধারিত দুটি টুর্নামেন্ট—সুপার কাপ ও স্বাধীনতা কাপ—নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। লিগ কমিটির সর্বশেষ সভাতেও এই দুটি প্রতিযোগিতার আয়োজন নিয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত আসেনি।
চলতি মৌসুমে প্রথম ও দ্বিতীয় লেগের মাঝখানে সুপার কাপ হওয়ার কথা থাকলেও তা আর আয়োজন করা হয়নি। লিগ শেষে শুধুমাত্র দেশি ফুটবলারদের নিয়ে স্বাধীনতা কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও সেটির ভবিষ্যৎও এখন অনিশ্চিত।
লিগ কমিটির ডেপুটি চেয়ারম্যান জাকির হোসেন চৌধুরি জানিয়েছেন, জাতীয় দলের প্রস্তুতি ও সূচির চাপের কারণে লিগ শেষ হতে মে মাসের তৃতীয় সপ্তাহ পেরিয়ে যাবে। এরপর ১ জুন থেকে শুরু হবে নতুন মৌসুমের দলবদল, ফলে স্বাধীনতা কাপ আয়োজনের মতো পর্যাপ্ত সময় নেই। তবে বিষয়টি পুরোপুরি বাদ দেওয়া হচ্ছে না—১৯ এপ্রিল নির্বাহী কমিটির সভায় এ নিয়ে চূড়ান্ত আলোচনা হবে।
আজকের সভায় ২০২৬-২৭ মৌসুমের খসড়া সূচিও তৈরি করা হয়েছে। আগামী মৌসুমে ১ জুন থেকে ১৩ আগস্ট পর্যন্ত চলবে দলবদল। সেপ্টেম্বর থেকে লিগ শুরু করার পরিকল্পনা রয়েছে। সূচিতে লিগ ও ফেডারেশন কাপের পাশাপাশি স্বাধীনতা কাপ ও সুপার কাপও রাখা হয়েছে। তবে অতীত অভিজ্ঞতা বলছে, সূচিতে থাকা সব প্রতিযোগিতা শেষ পর্যন্ত মাঠে গড়ায় কি না, সেটিই বড় প্রশ্ন।
এদিকে দেশের দুই শীর্ষ ক্লাব ঢাকা আবাহনী ও বসুন্ধরা কিংস এখনো ফিফার নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। খেলোয়াড়দের বকেয়া পরিশোধ না করলে এই নিষেধাজ্ঞা কাটবে না। এ বিষয়ে লিগ কমিটির অবস্থান জানতে চাইলে জাকির হোসেন চৌধুরি বলেন, এটি সংশ্লিষ্ট ক্লাবগুলোর নিজস্ব বিষয় এবং সভায় এ নিয়ে আলোচনা হয়নি।
চলতি মৌসুমের ফেডারেশন কাপের ফাইনালের ভেন্যু নিয়েও ছিল অনিশ্চয়তা। অবশেষে আজকের সভা শেষে সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে ড্রয়ের মাধ্যমে ১৯ মে ফাইনালের জন্য কিংস অ্যারেনাকে ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত করা হয়েছে।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান সভায় সরাসরি উপস্থিত ছিলেন না; অনলাইনে যুক্ত হন। ফেডারেশনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে থেকেও সাম্প্রতিক সময়ে তার সরব উপস্থিতি নেই। নির্বাচনের আগে দেওয়া তার ‘৩৬০ ডিগ্রি পরিকল্পনা’র বাস্তবায়নও দেড় বছর পর তেমন চোখে পড়ছে না, বরং কার্যক্রমে স্থবিরতার অভিযোগই বেশি শোনা যাচ্ছে।




