শিরোপা নিশ্চিত করতে প্রয়োজন ছিল মাত্র এক পয়েন্ট। কিন্তু প্রতিপক্ষ মালদ্বীপকে কোনো সুযোগ না দিয়েই ইতিহাস গড়ল বাংলাদেশ নারী ফুটসাল দল। থাইল্যান্ডের ব্যাংককে রোববার মালদ্বীপকে ১৪-২ গোলের রেকর্ড জয়ে হারিয়ে প্রথম নারী সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নেয় সাবিনা খাতুনের দল।
আগের ম্যাচে পাকিস্তানকে ৯-১ গোলে বিধ্বস্ত করার পরই কার্যত বাংলাদেশের দিকেই ঝুলে পড়েছিল ট্রফি। শেষ ম্যাচে মালদ্বীপের বিপক্ষে অন্তত ড্র করলেই চ্যাম্পিয়ন হতো বাংলাদেশ। তবে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বাধীন দল কেবল শিরোপাতেই সন্তুষ্ট থাকেনি, বরং বড় জয়ে উদযাপন করেছে নিজেদের আধিপত্য।
এই জয়ের মধ্য দিয়ে সাবিনা খাতুনের নেতৃত্বে টানা তৃতীয়বারের মতো সাফ শিরোপা জিতল বাংলাদেশ। এর আগে নারী সাফ ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপে টানা দুইবার শিরোপা জিতেছিল লাল-সবুজের মেয়েরা। এবার যোগ হলো সাফ নারী ফুটসালের প্রথম আসরের শিরোপা।

ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য আদর্শ ছিল না। তৃতীয় মিনিটেই গোল করে এগিয়ে যায় মালদ্বীপ। তবে তিন মিনিট পর সাবিনা খাতুনের নিখুঁত ফ্রিকিকে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।
সপ্তম মিনিটে পেনাল্টি মিস করেন সাবিনা। কৃষ্ণা রানী সরকারকে ফাউল করায় পেনাল্টি পেলেও অধিনায়কের শট বাইরে চলে যায়। তবে ১৩ মিনিটে আবারও ফ্রিকিক থেকে গোল করে বাংলাদেশকে এগিয়ে দেন সাবিনা।
এরপর একের পর এক আক্রমণে ভেঙে পড়ে মালদ্বীপের রক্ষণ।
১৬ মিনিটে কৃষ্ণা রানী সরকার গোল করে ব্যবধান ৩-১ করেন।পরের মিনিটেই লিপি আক্তারের গোলে স্কোরলাইন দাঁড়ায় ৪-১।
১৮ মিনিটে লিপি নিজের দ্বিতীয় গোল করেন, এরপর নওশনের গোলে প্রথমার্ধ শেষ হয় ৬-১ ব্যবধানে।
দ্বিতীয়ার্ধেও আক্রমণের ধার কমায়নি বাংলাদেশ।
খেলা শুরুর দুই মিনিটের মাথায় হ্যাটট্রিক পূরণ করেন সাবিনা।
পরের মিনিটেই সুমাইয়া করেন নিজের প্রথম গোল।
২৬ মিনিটে আবারও গোল করেন সাবিনা—এটি ছিল তার চতুর্থ গোল।
এরপর নিলুফার নিলা, লিপি আক্তার ও কৃষ্ণা রানী সরকারের গোলে ব্যবধান বেড়ে যায় ১২-১।
খেলা শেষের আট মিনিট বাকি থাকতে মেহেনুর আক্তার করেন ১৩তম গোল।
দলের চৌদ্দতম ও শেষ গোলটি করেন মাসুরা পারভীন।
শেষ পর্যন্ত ১৪-২ গোলের বিশাল জয়ে প্রথম নারী সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা নিশ্চিত করে বাংলাদেশ, গড়ে তোলে নতুন এক ইতিহাস।




