ঘরোয়া ফুটবলের অনিয়মিত টুর্নামেন্ট স্বাধীনতা কাপকে নতুন করে ফেরাতে চায় বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। ২০২৫–২৬ ফুটবল মৌসুমে ১৬ দল নিয়ে এই টুর্নামেন্ট আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাফুফের লিগ কমিটি। আজ অনুষ্ঠিত লিগ কমিটির সভায় এ সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়।
লিগ কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফের সিনিয়র সহ-সভাপতি ইমরুল হাসান জানান, আগামী ৫ মে থেকে স্বাধীনতা কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। এই টুর্নামেন্টে অংশ নেবে বাংলাদেশ ফুটবল প্রিমিয়ার লিগের ১০ দল, চ্যাম্পিয়নশিপ লিগের চ্যাম্পিয়ন ও রানার্সআপ, সার্ভিসেস দলের তিনটি ইউনিট এবং জেলা চ্যাম্পিয়নশিপের চ্যাম্পিয়ন দল।
ইমরুল হাসান বলেন,
‘স্বাধীনতা কাপে শুধুমাত্র বাংলাদেশি ফুটবলাররাই খেলবে। প্রিমিয়ার লিগে সার্কভুক্ত ফুটবলাররা স্থানীয় হিসেবে খেললেও এই টুর্নামেন্টে তাদের অংশগ্রহণের সুযোগ থাকবে না।’
প্রিমিয়ার লিগের দুই লেগের মাঝখানে সুপার কাপ আয়োজনের পরিকল্পনা থাকলেও তা বাস্তবায়ন করতে পারেনি ফেডারেশন। ফলে লিগ শেষ হওয়ার পর স্বাধীনতা কাপ আয়োজন নিয়েও সংশয় দেখা দেয়। তবে এ বিষয়ে আশাবাদী লিগ কমিটির চেয়ারম্যান। তাঁর ভাষায়,
‘স্বাধীনতা কাপ আয়োজন নিয়ে আমরা শতভাগ আশাবাদী। যদিও সুপার কাপ আয়োজন করতে না পারাটা কিছুটা পীড়া দেয়। আশা করছি, পরবর্তী মৌসুম থেকে সুপার কাপ আয়োজন করা যাবে।’
লিগের ফিকশ্চার ও খেলা স্থগিতের বিষয়েও ক্লাবগুলোর আপত্তি রয়েছে। ৬ ফেব্রুয়ারির পর ২০ ফেব্রুয়ারি আবার লিগ শুরু হওয়া এবং নির্বাচনের কারণে পরবর্তী সপ্তাহে বিরতির বিষয়টি নিয়ে মোহামেডানসহ কয়েকটি ক্লাব আপত্তি তোলে। তাদের দাবি ছিল নির্বাচনের পরই লিগ শুরু করা এবং সেই এক সপ্তাহ সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে সমন্বয় করা।
এ প্রসঙ্গে ইমরুল হাসান বলেন,
‘নির্বাচনের পর খেলা শুরু করলে লিগ শেষ হতো মে মাসের প্রথম সপ্তাহে। তখন অনেক ক্লাবকে বিদেশি খেলোয়াড়দের পুরো মাসের বেতন দিতে হতো। সেই কারণেই ২৯ এপ্রিলের মধ্যেই লিগ শেষ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
ক্লাবগুলোর সঙ্গে আনুষ্ঠানিক মতবিনিময় সভা না হওয়া নিয়েও অভিযোগ রয়েছে। এ বিষয়ে লিগ কমিটির চেয়ারম্যান বলেন,
‘সরাসরি বসা ছাড়াও চিঠির মাধ্যমে আলোচনা হয়। ক্লাবগুলোকে চিঠি দিয়ে জানানো হয়, তারাও চিঠির মাধ্যমে মতামত দেয়। নীতিনির্ধারণী সিদ্ধান্ত ফেডারেশনই নেয়, ক্লাবগুলো কেবল অংশগ্রহণকারী।’
এদিকে প্রিমিয়ার লিগের সম্প্রচারমান নিয়েও সমালোচনা রয়েছে। দর্শক ও সাংবাদিকদের জন্য খেলা দেখা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে অভিযোগ। তবে দ্বিতীয় লেগ থেকে এই সমস্যার সমাধান হবে বলে আশ্বাস দিয়েছেন লিগ কমিটির চেয়ারম্যান।




