আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিয়মিত অংশ নিলেও দেশে দীর্ঘদিন ধরে নেই কোনো ঘরোয়া ফুটসাল প্রতিযোগিতা। সেই শূন্যতা কাটাতে অবশেষে উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে। নারী ও পুরুষ—দুই বিভাগেই ফুটসাল লিগ আয়োজনের লক্ষ্যে আগ্রহী ক্লাবগুলোর কাছে আবেদন চেয়েছে বাফুফের ফুটসাল কমিটি।
বাংলাদেশে শেষবার ফুটসাল টুর্নামেন্ট অনুষ্ঠিত হয়েছিল ২০০৮ সালে। তখন প্রিমিয়ার লিগের ক্লাবগুলোকে নিয়ে আয়োজিত সেই প্রতিযোগিতায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল ব্রাদার্স ইউনিয়ন। এরপর প্রায় ১৬ বছর এই খেলা আর মাঠে গড়ায়নি।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে বাংলাদেশের ফুটসাল দলের অংশগ্রহণ বেড়েছে। বিশেষ করে সাফের প্রথম নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে শিরোপা জয়ের পর দেশে ঘরোয়া লিগ চালুর দাবি জোরালো হয়। সেই প্রেক্ষাপটেই নতুন করে লিগ আয়োজনের উদ্যোগ নিয়েছে বাফুফে।
বাফুফের ফুটসাল কমিটির বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, নারী ও পুরুষ উভয় বিভাগের ফুটসাল লিগ আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে। লিগে অংশ নিতে আগ্রহী ক্লাবগুলোকে দুটি দলই গঠন করতে হবে। পাশাপাশি টানা দুই মৌসুম নারী ও পুরুষ ফুটসাল লিগে খেলার অঙ্গীকারও করতে হবে।
ক্লাবের নামের ক্ষেত্রে যদি কোনো বিশিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নাম ব্যবহার করা হয়, তবে সংশ্লিষ্ট ট্রাস্টি বোর্ড বা কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিতে হবে।
লিগে অংশগ্রহণের জন্য আগ্রহী ক্লাবগুলোকে বাফুফের অনুকূলে ৫ লাখ টাকা পে–অর্ডার জমা দিতে হবে। তবে লিগের নিয়ম-কানুন মেনে অংশগ্রহণ করলে এই গ্যারান্টি মানি পরে ফেরত দেওয়া হবে বলে জানিয়েছে ফুটসাল কমিটি।
প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ২ মে থেকে ফুটসাল লিগ শুরু করতে চায় বাফুফে। যদিও এখনো কোনো ক্লাব আনুষ্ঠানিকভাবে আবেদন করেনি। আগ্রহী দলগুলো আবেদন করলে বাফুফের ক্লাব লাইসেন্সিং কমিটি তা পর্যালোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবে।
তবে দেশের ঘরোয়া ফুটবলে খেলা পেছানোর অলিখিত সংস্কৃতিও আছে। তাই সব আনুষ্ঠানিকতা শেষে নির্ধারিত সময়েই লিগ মাঠে গড়ায় কি না, সেটাই এখন দেখার বিষয়।




