টাইব্রেকারের চাপের মুহূর্তে ভারতের প্রথম শট ঠেকিয়ে ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেন ইসমাইল হোসেন মাহিন। তার সেই সেভেই অনুপ্রাণিত হয়ে শেষ পর্যন্ত ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জেতে বাংলাদেশ।

“অসাধারণ। মনে হচ্ছিল, যেন ২০ কোটি মানুষের স্বপ্নটাকে আমি রক্ষা করতে পারছি।”

টাইব্রেকারের সেই মুহূর্তে নিজের অনুভূতি এভাবেই প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশের তরুণ গোলরক্ষক ইসমাইল হোসেন মাহিন। ফাইনালে ভারতের প্রথম শট ডান দিকে ঝাঁপিয়ে ঠেকিয়ে দলকে এগিয়ে দেন তিনিই।
মালদ্বীপের রাজধানী মালের জাতীয় স্টেডিয়ামে শুক্রবার অনুষ্ঠিত ফাইনালে নির্ধারিত সময় গোলশূন্য থাকার পর টাইব্রেকারে ৪-৩ গোলে জয় পায় বাংলাদেশ। এতে প্রথমবারের মতো ভারতকে হারিয়ে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ চ্যাম্পিয়নশিপের শিরোপা জিতে নেয় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।

টাইব্রেকারের শেষ শটে রোনান সুলিভানের ‘পানেনকা’ গোলে নিশ্চিত হয় বাংলাদেশের জয়। গোল করার পর দুই হাত প্রসারিত করে গ্যালারির দিকে দৌড়ে যান তিনি, যেখানে উল্লাসে ফেটে পড়েন বাংলাদেশি সমর্থকরা। এরপর সতীর্থ, কোচিং স্টাফদের সঙ্গে আনন্দে মেতে ওঠেন সবাই।

এই জয়ে বাংলাদেশের কোচ হিসেবে প্রথম শিরোপার স্বাদ পেলেন মার্ক কক্স। নির্ধারিত ৯০ মিনিটে ম্যাচ শেষ করতে চাইলেও তা সম্ভব হয়নি। তবে টাইব্রেকারে দল তাকে হতাশ করেনি।

টাইব্রেকারে বাংলাদেশের প্রথম শটে গোল করা মুর্শেদ আলি উচ্ছ্বাস প্রকাশ করতে গিয়ে বলেন,

“খুবই এক্সাইটেড ছিলাম, খুবই রোমাঞ্চিত! আর কী বলব, বলার মতো ভাষা নাই। আমরা ইনশাল্লাহ এইবার চ্যাম্পিয়ন, ইনশাল্লাহ। ভামোস! দেশবাসীর সাথে দেখা হচ্ছে!”

আব্দুল রিয়াদ ফাহিমও শিরোপা জয়ের আনন্দ ভাগ করে নেন,

“স্বপ্নের ফাইনাল…আলহামদুলিল্লাহ। সবার আগে আল্লাহর কাছে লাখ লাখ শুকরিয়া, আজকে আমরা চ্যাম্পিয়ন হতে পেরেছি। আজকের জয় আমরা পুরা দেশবাসীকে উৎসর্গ করলাম।”

অধিনায়ক মিঠু চৌধুরী এই জয়ে মনে করেছেন অনুপস্থিত সতীর্থ আশিকুর রহমানকে,

“ফাইনাল জেতা… মানে আমি চার বছর ধরে এটা চাচ্ছি। আল্লাহ আমাদেরকে দিয়েছেন আজকে। কিন্তু আমি একজনকে খুবই মিস করছি। আমার বন্ধু আশিক… ও থাকলে আরও বেশি আনন্দ হতো। ও নাই, তারপরও আমি ওকে এই ট্রফিটা উৎসর্গ করতে চাই।”

Previous articleঅপরাজিত চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশ, পুরস্কার ঘোষণা প্রতিমন্ত্রীর

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here