অনূর্ধ্ব-১৫ জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হওয়ার আগেই বয়সভিত্তিক ফুটবলারদের জন্য নতুন আরেকটি প্রতিযোগিতার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশন (বাফুফে)। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ের ‘তারুণ্যের উৎসব’ প্রকল্পের আওতায় আগামী ২২ ডিসেম্বর থেকে শুরু হচ্ছে অনূর্ধ্ব-১৭ জাতীয় ফুটবল চ্যাম্পিয়নশিপ, যেখানে দেশের সব ৬৪টি জেলা অংশ নেবে।

বাফুফের উদ্যোগে আয়োজিত এই টুর্নামেন্টটি অনুষ্ঠিত হবে দেশের ৮টি ভিন্ন ভেন্যুতে। ঝিনাইদহ ভেন্যু থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করবে প্রতিযোগিতাটি। ঝিনাইদহ ছাড়াও রাজবাড়ী, রংপুর, পিরোজপুর, সিরাজগঞ্জ, জামালপুর ও সিলেট ভেন্যু হিসেবে চূড়ান্ত হয়েছে। অষ্টম ভেন্যু হিসেবে ফেনী অথবা চট্টগ্রামের নাম বিবেচনায় থাকলেও এখনো সেটি চূড়ান্ত হয়নি।

৬৪টি জেলাকে ৮টি জোনে ভাগ করে আয়োজন করা হচ্ছে এই চ্যাম্পিয়নশিপ। জোনগুলোর নাম রাখা হয়েছে দেশের প্রধান নদীর নামে— চিত্রা, ধলেশ্বরী, কর্ণফুলী, তিস্তা, কীর্তনখোলা, পদ্মা, শীতলক্ষ্যা ও সুরমা। প্রতিটি জোনে ৮টি দল থাকবে, যা আবার দুটি গ্রুপে ভাগ হয়ে রাউন্ড রবিন লিগ পদ্ধতিতে খেলবে। প্রতিটি গ্রুপের শীর্ষ দুটি দল জোনাল সেমিফাইনাল ও ফাইনালে খেলার যোগ্যতা অর্জন করবে। পরে ৮টি জোনের চ্যাম্পিয়ন দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে টুর্নামেন্টের চূড়ান্ত পর্ব।

রোববার বাফুফে ভবনে আয়োজিত লোগো উন্মোচন ও ড্র অনুষ্ঠানে জানানো হয়, প্রায় দুই মাসব্যাপী এই টুর্নামেন্টে কেবল নতুন খেলোয়াড়রাই অংশ নিতে পারবে। যাদের নাম এখনো ফিফা কানেক্ট সিস্টেমে নিবন্ধিত হয়নি, শুধু তারাই খেলতে পারবে এই আসরে।

অনুষ্ঠানে টুর্নামেন্ট কমিটির চেয়ারম্যান ও বাফুফে নির্বাহী সদস্য সাঈদ হাসান কানন বলেন, “তৃণমূল পর্যায়ে ফুটবল ছড়িয়ে দেওয়াই এই আয়োজনের মূল লক্ষ্য। যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয় ও জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের সহযোগিতায় এর আগে অনূর্ধ্ব-১৪ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ ও জাতীয় চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করা হয়েছে। অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ সেই ধারাবাহিক উদ্যোগেরই অংশ।”

জাতীয় ক্রীড়া পরিষদের নির্বাহী পরিচালক কাজী নজরুল ইসলাম আরও ছোট বয়স থেকেই কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি বলেন, “ভবিষ্যতে এএফসি এশিয়ান কাপে নিয়মিত অংশ নিতে হলে ৫-৬ বছর বয়সী শিশুদের ফুটবলে যুক্ত করতে হবে। শক্ত ভিত্তি তৈরি করা গেলে দক্ষিণ এশিয়া পেরিয়ে এশিয়ার ফুটবলেও বাংলাদেশ প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে যেতে পারবে।”

এই টুর্নামেন্টকে ঘিরে দেশের বিভিন্ন জেলা ও তৃণমূল পর্যায়ের ফুটবলারদের মধ্যে নতুন করে আগ্রহ ও উদ্দীপনা তৈরি হবে বলে আশা করছে বাফুফে।

Previous article২৯ ডিসেম্বর শুরু নারী ফুটবল লিগ, বিদেশি খেলোয়াড় ও বয়সভিত্তিক নিয়মে নতুনত্ব
Next articleফেডারেশন কাপে আরামবাগকে ৪-০ গোলে উড়িয়ে দিল ফর্টিস

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here