নতুন বছর মানেই নতুন করে হিসাব-নিকাশ। মাঠের পারফরম্যান্স থেকে ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা, সবকিছুতেই ভালো করার তাগিদ বাড়ে। ব্যস্ত সূচির ২০২৬ সালে বাংলাদেশের ফুটবলের সামনে আছে বড় কিছু সুযোগ, আবার চ্যালেঞ্জও কম নয়। জাতীয় দল থেকে শুরু করে নারী ফুটবল, ফুটসাল ও ঘরোয়া প্রতিযোগিতা—সব মিলিয়ে বছরটি হতে যাচ্ছে গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্তের।

জাতীয় দল: শেষ ম্যাচ, শেষ প্রশ্ন
হামজা চৌধুরী যোগ দেওয়ার পর দেশের ফুটবলের দিকে নতুন করে নজর পড়েছে। এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হামজা–জামালের বাংলাদেশ মাঠে ভালো আলোড়ন তুলেছিল। বছরের শেষটা আরও রঙিন হয়েছে শেখ মোরসালিনের গোলে ২২ বছর পর ভারতকে হারানোর মধ্য দিয়ে। যদিও এই সাফল্যে ফিফা র্যাঙ্কিংয়ে বড় কোনো লাফ আসেনি।
নতুন বছরে এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়েই মিশন শেষ হতে যাচ্ছে। একই সঙ্গে সামনে রয়েছে দক্ষিণ এশিয়ার ‘বিশ্বকাপ’ খ্যাত সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ। এশিয়াতে নেশনস লিগ চালু হলে সেখানেও বাংলাদেশের অংশগ্রহণের সম্ভাবনা আছে। অনূর্ধ্ব-২৩সহ বয়সভিত্তিক দলগুলোর সূচিও ব্যস্ত। সুযোগ কাজে লাগাতে মরিয়া মোরসালিন–রাকিবরা। রাকিব হোসেনের কথায়, সাফের শিরোপা এখনো স্বপ্ন, তবে সুযোগ এলে এবার তা বাস্তবে রূপ দিতে চান তারা।
এই পথচলায় বড় প্রশ্ন জাতীয় দলের কোচ হাভিয়ের কাবরেরার ভবিষ্যৎ। সিঙ্গাপুর ম্যাচই তার শেষ মিশন। মার্চের পর তাকে আবার দেখা যাবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে। সমর্থকদের বড় একটি অংশও পরিবর্তনের পক্ষেই।

নারী ফুটবল: এশিয়ায় টিকে থাকার লড়াই
২০২৬ সালে নারী ফুটবলের সামনে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ এশিয়ান কাপে নিজেদের প্রমাণ করা। টানা সাফ সাফল্যের পর এশিয়ান মঞ্চে ভালো করতে পারলেই প্রকৃত অগ্রগতির মানদণ্ড তৈরি হবে। প্রস্তুতি, স্কোয়াডের গভীরতা আর মানসিক দৃঢ়তা—সবকিছুই পরীক্ষার মুখে পড়বে।
একই সঙ্গে বড় সুযোগ পাচ্ছে নারী অনূর্ধ্ব-২০ দলও। এশিয়ান কাপে অংশগ্রহণ এই বয়সভিত্তিক দলের জন্য অভিজ্ঞতা অর্জনের পাশাপাশি ভবিষ্যৎ জাতীয় দলের ভিত গড়ে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ ধাপ। সিনিয়র দলে নিয়মিত মুখদের পাশাপাশি নতুন প্রজন্ম কতটা প্রস্তুত, সেটাও এই বছরেই অনেকটা পরিষ্কার হবে।
২০২৬ সাল বাংলাদেশের ফুটবলের জন্য শুধু ম্যাচের বছর নয়, সিদ্ধান্তের বছরও। জাতীয় দলে কোচিং প্রশ্ন, নারী ফুটবলে এশিয়ান চ্যালেঞ্জ, বয়সভিত্তিক দলগুলোর বিকাশ—সব মিলিয়ে এই বছরই বলে দেবে বাংলাদেশ ফুটবল কোন পথে হাঁটতে যাচ্ছে।




