জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে বাফুফের চুক্তি শেষ হচ্ছে আগামী মার্চে। চুক্তি নবায়ন না হওয়ার গুঞ্জনের মধ্যেই জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া স্পষ্ট করে জানালেন—বাংলাদেশ ফুটবলকে এগিয়ে নিতে প্রয়োজন আরও উচ্চমানের কোচ।
আগামী মার্চে শেষ হচ্ছে স্প্যানিশ কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরার সঙ্গে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের (বাফুফে) চুক্তি। এরই মধ্যে শোনা যাচ্ছে, ক্যাবরেরার সঙ্গে নতুন করে চুক্তি নাও করতে পারে বাফুফে। পাশাপাশি একাধিক বিদেশি কোচ বাংলাদেশের প্রধান কোচ হওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করে বাফুফেতে নিজেদের বায়োডাটা পাঠিয়েছেন বলেও জানা গেছে।
এই প্রেক্ষাপটে জাতীয় দলের অধিনায়ক জামাল ভূঁইয়া চান আরও হাই-প্রোফাইল কোচের অধীনে বাংলাদেশ ফুটবল এগিয়ে যাক। শনিবার মানিকগঞ্জে একটি ফুটবল টুর্নামেন্টের উদ্বোধন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন,‘আমরা চাই একটি উচ্চমানের কোচ দলকে সামনে এগিয়ে নিক। তবে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত ফেডারেশনের ওপরই নির্ভর করছে।’
গ্রাম পর্যায়ে ফুটবলের জনপ্রিয়তা দেখেও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন জামাল। দর্শকের ভিড় দেখে তিনি বলেন,‘একটি গ্রামের মাঠে ফুটবল নিয়ে যে উচ্ছ্বাস দেখছি, তা খেলাটির জন্য খুবই উৎসাহজনক। এটি তরুণ খেলোয়াড়দের জন্য বড় অনুপ্রেরণা।’
এদিকে আট বছর পর বাংলাদেশে সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজনের সম্ভাবনাও তৈরি হয়েছে। আয়োজক হওয়ার জন্য বাফুফে শিগগিরই সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশনে (সাফ) আবেদন করবে বলে জানা গেছে। আনঅফিসিয়ালি সাফের পক্ষ থেকেও ইতিবাচক সাড়া মিলেছে। ফলে ঢাকা, চট্টগ্রাম কিংবা সিলেটে হতে পারে আগামী সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের ভেন্যু।
এই বিষয়ে জামাল ভূঁইয়া বলেন,‘‘সাফ যদি বাংলাদেশে হয়—ঢাকা, চট্টগ্রাম বা সিলেটে—তাহলে সেটা দর্শকদের জন্য দারুণ হবে। খেলোয়াড়দের জন্যও বড় প্রেরণা। এখনই নিশ্চিত করে বলা যাচ্ছে না, তবে দেশের ফুটবল ইতিবাচক পথে এগোচ্ছে। গত বছর প্রতিটি ম্যাচেই অনেক দর্শক ছিল। এখানে সাফ হলে দেশের ফুটবলের জন্য ভালো হবে। আর যদি আমরা শিরোপা জিততে পারি, সেটি হবে আরও বড় অনুপ্রেরণা।’
আগামী মার্চে সিঙ্গাপুরের বিপক্ষে এএফসি এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচ সামনে রেখে প্রস্তুতির গুরুত্বও তুলে ধরেন অধিনায়ক। তিনি বলেন,‘সিঙ্গাপুর ম্যাচের আগে একটি প্রীতি ম্যাচ খেলতে পারলে ভালো হবে। নভেম্বরের পর আমাদের কোনো ম্যাচ হয়নি। দীর্ঘ বিরতি পড়েছে। আগে খেলা হলে দল ছন্দে ফিরবে এবং র্যাঙ্কিংয়েও এগিয়ে যেতে সাহায্য করবে।’
সব মিলিয়ে কোচিং ইস্যু, সাফ আয়োজন এবং আন্তর্জাতিক ম্যাচ—সবকিছু নিয়েই গুরুত্বপূর্ণ সময় পার করছে বাংলাদেশ ফুটবল।



