বাংলাদেশের নারী ফুটবল লিগে গোলবন্যা যেন থামছেই না। রেকর্ড ভাঙছে রেকর্ড। মাত্র দুই সপ্তাহের ব্যবধানে এবারের লিগে সর্বোচ্চ গোল ব্যবধানের জয়ের রেকর্ড আবারও বদলে গেছে। ফরাশগঞ্জের ২৩–০ গোলের জয়ের রেশ কাটতে না কাটতেই একই প্রতিপক্ষ কাচারিপাড়া একাদশ উন্নয়ন সংস্থার বিপক্ষে ২৪–০ গোলের বিধ্বংসী জয় তুলে নিয়েছে লিগে নবাগত রাজশাহী স্টার্স।
কমলাপুরের বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ সিপাহি মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে শনিবার অনুষ্ঠিত হয় নারী লিগের ষষ্ঠ রাউন্ডের খেলা। দিনের চতুর্থ ম্যাচে কাচারিপাড়া একাদশের মুখোমুখি হয় রাজশাহী স্টার্স। শুরু থেকেই একচেটিয়া আধিপত্য বিস্তার করে রাজশাহী, যা শেষ পর্যন্ত রূপ নেয় লিগ ইতিহাসের অন্যতম বড় জয়ে।
দ্বিতীয় মিনিটেই ঋতুপর্ণার গোলে ম্যাচের সূচনা করে রাজশাহী। যোগ করা সময়ের শেষ মিনিটে রেশমি আক্তারের গোলে পূর্ণতা পায় ২৪ গোলের জয়। সেই গোলে নিজের হ্যাটট্রিকও পূর্ণ করেন রেশমি। এক গোল করেই সন্তুষ্ট থাকতে হয় ঋতুপর্ণাকে।
এই ম্যাচে রাজশাহীর হয়ে সর্বোচ্চ সাতটি করে গোল করেন সৌরভী আকন্দ প্রীতি ও আলপি আক্তার। শাহেদ আক্তার রিপা হ্যাটট্রিকসহ করেন চার গোল। এছাড়া একবার করে জালের দেখা পান মুনকি আক্তার ও স্বপ্না রানী।
এর আগে গত ৪ জানুয়ারি ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব কাচারিপাড়া একাদশকে ২৩–০ গোলে হারিয়ে এবারের লিগে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ড গড়েছিল। তবে সেই রেকর্ড টিকলো মাত্র দুই সপ্তাহ। যদিও বাংলাদেশের নারী ফুটবল লিগের ইতিহাসে সর্বোচ্চ ব্যবধানে জয়ের রেকর্ডটি এখনও ২০১১ সালের—সেবার শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাব ২৬–০ গোলে হারিয়েছিল আরামবাগ ক্রীড়া সংঘকে।

টানা পাঁচ ম্যাচ জয়ের সুবাদে ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব ও বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিমিটেডের সঙ্গে যৌথভাবে লিগের শীর্ষস্থান ভাগাভাগি করছে রাজশাহী স্টার্স। তবে পাঁচ ম্যাচে ৫৫ গোল করে গোলসংখ্যায় শীর্ষে রয়েছে মাহমুদা শরীফা অদিতির দল রাজশাহী। সমান ম্যাচে ফরাশগঞ্জের গোলসংখ্যা ৫০, আর এখনো কোনো গোল হজম করেনি দুই দলই। ছয় ম্যাচ খেলা আর্মি দল প্রতিপক্ষের জালে বল জড়িয়েছে ৩৭ বার, বিপরীতে হজম করেছে দুটি গোল।
অন্যদিকে, গোল হজমের দিক থেকে সেঞ্চুরির কাছাকাছি পৌঁছে গেছে কাচারিপাড়া একাদশ। জামালপুরের ক্লাবটি ছয় ম্যাচে হজম করেছে মোট ৮৮টি গোল। বিপরীতে তারা প্রতিপক্ষের জালে বল পাঠাতে পেরেছে মাত্র দুইবার।

শনিবার বাংলাদেশ আর্মি স্পোর্টস ক্লাব লিমিটেডের বিপক্ষে ১-০ গোলে জয় পেয়েছে ফরাশগঞ্জ। তাতে জয়সূচক গোলটি করেছেন শামসুন্নাহার নিজে। দলের টানা পঞ্চম জয়ে আবারও ম্যাচ সেরার স্বীকৃতি পেয়েছেন ময়মনসিংহের কলসিন্দুর থেকে উঠে আসা এই ফরোয়ার্ড।
কমলাপুর বীরশ্রেষ্ঠ শহীদ মোস্তফা কামাল স্টেডিয়ামে এদিন দ্বিতীয়ার্ধে দুরূহকোণ থেকে বাম পায়ের দূরপাল্লার শটে আর্মির গোলকিপার মিলি আক্তারকে পরাস্ত করে জাল কাঁপান শামসুন্নাহার। গোলে পিছিয়ে পরার পর লাল কার্ড দেখে ১০ জনের দলে পরিণত হয় আর্মি ক্লাব। তারা ম্যাচে আর ফিরতে পারেনি। শামসুন্নাহারের একমাত্র গোলই পার্থক্য গড়ে দেয়।
অপরদিকে সিরাজ স্মৃতি সংসদ কে ০-৫ গোল হারিয়েছে সদ্য পুষ্কুরুণী যুব স্পোর্টিং ক্লাব। বিকেএসপি ও আনসার ভিডিপি ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র হয়েছে।




