বাংলাদেশ নারী ফুটবলের ইতিহাসে সাবিনা খাতুন এক অনন্য নাম। তাঁর নেতৃত্বে টানা দুইবার সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের গৌরব অর্জন করেছে লাল-সবুজের মেয়েরা। এবার সেই সাবিনাই দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন ভিন্ন ভূমিকায়—ফুটবলের বদলে ফুটসালে। দক্ষিণ এশিয়ার প্রথম নারী সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে আরেকটি ঐতিহাসিক শিরোপার খুব কাছেই রয়েছে বাংলাদেশ।
দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে প্রথমবারের মতো আয়োজিত নারী সাফ ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দেখিয়েছে বাংলাদেশ। লিগ ভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে মোট সাতটি দল। পাঁচ ম্যাচ শেষে বাংলাদেশ ও ভুটানই রয়েছে অপরাজিত। তবে পয়েন্ট টেবিলে এগিয়ে লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
বাংলাদেশ পাঁচ ম্যাচে সংগ্রহ করেছে ১৩ পয়েন্ট। অন্যদিকে ভুটান দুটি ম্যাচে পয়েন্ট হারিয়ে পেয়েছে ১১ পয়েন্ট। নারী সাফ ফুটসালের নিয়ম অনুযায়ী, লিগ শেষে সর্বোচ্চ পয়েন্ট পাওয়া দলই চ্যাম্পিয়ন হবে।
আগামীকাল লিগের শেষ ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। বাংলাদেশ মুখোমুখি হবে পয়েন্ট টেবিলের তলানিতে থাকা মালদ্বীপের। পাঁচ ম্যাচ খেলেও মালদ্বীপ এখনো কোনো জয়ের দেখা পায়নি। ফলে এই ম্যাচে বাংলাদেশের জয় প্রত্যাশিতই। ম্যাচটি শুরু হবে বেলা ২টায়।
এই ম্যাচে জয় পেলেই কোনো সমীকরণের প্রয়োজন পড়বে না—সরাসরি শিরোপা উঠবে সাইদ খোদারাহমির দলের হাতে। তবে বাংলাদেশ হেরে গেলে পরিস্থিতি জটিল হতে পারে। সেক্ষেত্রে দিনের পরের ম্যাচে ভুটান যদি নেপালকে হারায়, তবে চ্যাম্পিয়ন হবে ভুটান। যদিও ভুটান-নেপাল ম্যাচটি ড্র হলে, মালদ্বীপের বিপক্ষে হারলেও শিরোপা যাবে বাংলাদেশের ঘরেই।
তবে কোনো হিসাব-নিকাশে যেতে চায় না সাবিনারা। এর আগে প্রতিযোগিতায় ভুটানের বিপক্ষে একমাত্র ম্যাচে ড্র করেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচে দুই গোলে পিছিয়ে পড়েও দারুণ প্রত্যাবর্তন করে সমতায় ফেরে দল। এবার তুলনামূলক দুর্বল মালদ্বীপকে হারিয়ে নিশ্চিতভাবেই শিরোপা জিততে চায় বাংলাদেশ।
এতে করে ফুটবল ও ফুটসাল মিলিয়ে তিনটি সাফ শিরোপা জয়ের কৃতিত্বের পাশে নাম লেখা থাকবে সাবিনা খাতুন, মাসুরা পারভীন, কৃষ্ণা রানী সরকারদের। এই দলে আরও আছেন সুমাইয়া মাতসুশিমা, নওশন জাহান নিতি, স্বপ্না আক্তার জিলি, লিপি এবং নিলুফা ইয়াসমিন নিলা।




