একটি নয়, দুটি সাফ শিরোপা—একটি ফুটবলে, আরেকটি ফুটসালে। তবু ঘোষিত পুরস্কারের টাকা এখনও অধরাই বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের জন্য। বাফুফের নতুন কমিটি দায়িত্ব নেওয়ার পর দেওয়া প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন না হওয়ায় প্রশ্ন উঠছে—আর কত সাফল্যের পর প্রাপ্য সম্মান বুঝে পাবেন সাবিনারা?
২০২৪ সালের অক্টোবরে দ্বিতীয়বার সাফ নারী ফুটবল চ্যাম্পিয়ন হওয়ার কয়েকদিন পরই বাফুফের দায়িত্ব নেয় তাবিথ আউয়ালের নেতৃত্বাধীন বর্তমান কমিটি। দায়িত্ব নেওয়ার পর ৯ নভেম্বর ২০২৪ অনুষ্ঠিত হয় কমিটির প্রথম সভা। সেই সভাতেই সাফ চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্য সাবিনা খাতুনদের দেড় কোটি টাকা পুরস্কার দেওয়ার ঘোষণা আসে।কিন্ত আজও সেই অর্থ হাতে পাননি সাফজয়ী নারী ফুটবলাররা।
গত বছরের ২৩ নভেম্বর এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল জানিয়েছিলেন, ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যেই মেয়েদের পুরস্কারের টাকা পরিশোধ করা হবে। নির্ধারিত সময় পার হয়ে গেছে বহু আগেই। কেটে গেছে পাক্কা দুই মাসেরও বেশি সময়, তবু বাফুফের ঘোষিত দেড় কোটি টাকা এখনও অধরাই সাবিনা-কৃষ্ণাদের কাছে।

এরই মধ্যে আবারও মাঠে নিজেদের শ্রেষ্ঠত্বের প্রমাণ দিয়েছে বাংলাদেশ নারী দল। থাইল্যান্ডে অনুষ্ঠিত সাফ নারী ফুটসাল চ্যাম্পিয়নশিপে ইতিহাস গড়ে প্রথমবারের মতো শিরোপা জিতেছে বাংলাদেশ। নতুন করে সাফল্যের মুকুট যোগ হলেও পুরোনো প্রশ্নই থেকে যাচ্ছে—এবার কি তবে সাবিনারা তাদের প্রাপ্য পুরস্কার বুঝে পাবেন, নাকি আরেকটি সাফ জিততে হবে?
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, বাংলাদেশ অলিম্পিক অ্যাসোসিয়েশন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনীসহ যেসব প্রতিষ্ঠান সাফ জয়ের পর পুরস্কার ঘোষণা করেছিল, তারা সবাই ইতোমধ্যে অর্থ পরিশোধ করেছে। শুধু বাফুফের ঘোষিত পুরস্কারটাই এখনও বকেয়া।
অন্যদিকে, সর্বশেষ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপে পুরুষ ফুটবল দল সেমিফাইনাল খেলেই পেয়েছিল উল্লেখযোগ্য অঙ্কের পুরস্কার। অথচ শিরোপা জিতেও নারী ফুটবলারদের অপেক্ষায় থাকতে হচ্ছে নিজেদের ঘোষিত প্রাপ্য অর্থের জন্য।
পুরুষ ফুটবলের ব্যর্থতার মিছিলের মধ্যেও ধারাবাহিক সাফল্যে বাফুফে কর্মকর্তাদের মুখ উজ্জ্বল করে যাচ্ছেন সাবিনা-কৃষ্ণারাই। তবু মাঠের বাইরে এসে তাদের পেতে হচ্ছে প্রতিশ্রুতির দীর্ঘ অপেক্ষা।



