সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপে শক্তিশালী ভারতের বিপক্ষে দারুণ একটি জয় উপহার দিয়েছে বাংলাদেশ। নেপালের পোখারায় অনুষ্ঠিত ম্যাচে অর্পিতা বিশ্বাস ও আলপির গোলে ২-০ ব্যবধানে জয় পেয়েছে পিটার বাটলারের শিষ্যরা।
আগের ম্যাচে ভুটানকে ১২-০ গোলে উড়িয়ে দেওয়া লাল-সবুজের মেয়েরা দ্বিতীয় ম্যাচেও সেই ছন্দ ধরে রেখেছে।
ম্যাচের শুরুটা অবশ্য বাংলাদেশের জন্য সহজ ছিল না। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে ভারত। পঞ্চম মিনিটেই গোলের ভালো সুযোগ পায় তারা। থ্রু বল পেয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন প্রীতিকা। তবে সময়মতো এগিয়ে এসে শটের লাইনে ঝাঁপিয়ে পড়েন বাংলাদেশের গোলকিপার ইয়ারজান বেগম। পরের মিনিটে পার্ল ফার্নান্দেজ উড়ন্ত বলে হেড করতে পারলে গোল পেতে পারত ভারত।

ধীরে ধীরে ম্যাচে নিজেদের ছন্দ খুঁজে পায় বাংলাদেশ। লেফট উইং দিয়ে একের পর এক আক্রমণে ওঠার চেষ্টা করেন মামনি চাকমা। ২৯ মিনিটে সেই মামনির নেওয়া দারুণ এক ফ্রি কিক থেকেই লিড পায় বাংলাদেশ। ডান পাশের কর্নারের কাছাকাছি জায়গা থেকে সরাসরি শট নেন তিনি। বল হাত ছুঁয়ে ফেরানোর চেষ্টা করেন ভারত গোলকিপার মুন্নি, তবে ঠিক সময়ে ফলোআপে বল জালে ঠেলে দেন অর্পিতা বিশ্বাস।
৩৭ মিনিটে একসঙ্গে দুটি পরিবর্তন আনেন বাংলাদেশ কোচ পিটার বাটলার। মাঠে নামেন বন্যা খাতুন ও শান্তি মার্ডি। দারুণ খেলতে থাকা মামনি চাকমা ও ক্রানুচিং মারমাকে তুলে নেওয়া এই সিদ্ধান্ত স্পষ্ট করে দেয়—এই টুর্নামেন্টে শুধু জয় নয়, খেলোয়াড়দের যাচাই করতেও চান ব্রিটিশ কোচ।
৪০ মিনিটে লিড দ্বিগুণ করে বাংলাদেশ। ডান প্রান্ত দিয়ে আক্রমণে উঠে বক্সে নিখুঁত ক্রস পাঠান তৃষ্ণা রানী। প্রতিপক্ষের দুই ডিফেন্ডারকে কাটিয়ে বলের লাইনে পা ছুঁইয়ে গোল করেন আলপি। নারী লিগের এবারের মৌসুমে সর্বোচ্চ ৩০ গোল করা এই ফরোয়ার্ড আবারও নিজের জাত চেনান।
৪২ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোলের দারুণ সুযোগ পান আলপি। পুজার লং বল হেডে নামিয়ে গোলকিপারকে চিপ শট নেওয়ার চেষ্টা করলেও বল গোলবারের ওপর দিয়ে চলে যায়।
যোগ করা সময়ের প্রথম মিনিটে প্রীতিকার শক্ত শট লাফিয়ে গ্লাভসবন্দি করেন গোলকিপার ইয়ারজান বেগম। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের লিড নিয়েই বিরতিতে যায় বাংলাদেশ।
দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ প্রতি আক্রমণ করেও আর কোন গোলের দেখা পায়নি কোন দল।শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে বাঘিনীরা।এ জয়ের ফলে বাংলাদেশের ফাইনাল এক প্রকার নিশ্চিত বলাচলে।




