রাউন্ড রবিনে ভারতের বিপক্ষে পাওয়া জয় ভুলে যেতে চান পিটার জেমস বাটলার। সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালের আগে বাংলাদেশের নারী ফুটবল দলের কোচের পুরো মনোযোগ প্রতিপক্ষের কৌশল আর নিজের দলের প্রস্তুতিতে। এই ম্যাচ থেকেই তিনি খুঁজছেন আসন্ন এশিয়ান কাপের জন্য সম্ভাব্য খেলোয়াড়দেরও।
নেপালের পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে শনিবার সাফ নারী অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে মুখোমুখি হবে বাংলাদেশ ও ভারত। রাউন্ড রবিন লিগে বাংলাদেশ ২-০ গোলে জিতলেও সেই ফলকে বিশেষ গুরুত্ব দিতে নারাজ বাটলার।
ইংলিশ কোচের চোখে ফাইনাল মানেই নতুন ম্যাচ, নতুন চ্যালেঞ্জ।
“আমার একটা মোটামুটি ধারণা আছে, তারা কীভাবে খেলবে। ভারতের কিছু ভালো খেলোয়াড় আছে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। আমাদের সেরা অবস্থায় থাকতে হবে, সতেজ থাকতে হবে এবং বাস্তবিক অর্থে খেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে,” বলেন বাটলার।
আগের ম্যাচের ফল মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতেই বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি।
“যে ম্যাচ চলে গেছে, তা চলে গেছে। আমাদের এটাকে পেছনে ফেলতে হবে। ইতিবাচক মানসিকতা নিয়ে সামনে এগোতে হবে। আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী নই। অনেক ভিডিও বিশ্লেষণ করেছি। তিনটি ম্যাচ খেলেছি, চোট পেয়েছি, আবার সেখান থেকে মেয়েরা ফিরেও এসেছে। গুরুত্বপূর্ণ হলো, আবার ভারতের সঙ্গে খেলা এবং আবার তাদের হারানোর চেষ্টা করা।”
বয়সভিত্তিক এই আসরটি বাটলারের কাছে গুরুত্বপূর্ণ আরেকটি কারণেও। আগামী মার্চে অস্ট্রেলিয়ায় উইমেন’স এশিয়ান কাপ খেলবে বাংলাদেশ নারী দল। পোখারায় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের পারফরম্যান্স থেকেই সেখানকার জন্য খেলোয়াড় বাছাইয়ের ইঙ্গিত মিলছে।
“নেপালের বিপক্ষে ম্যাচে আমি সাত-আটটি পরিবর্তন করেছিলাম। এরপর মেয়েদের বিশ্রাম দিয়েছি। এটা মূলত স্কোয়াড গঠনের একটা প্রক্রিয়া। ফাইনাল ম্যাচটা আমাদের পরিষ্কার ইঙ্গিত দেবে—কারা আসলে এশিয়ান কাপে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত,” যোগ করেন বাটলার।
এ পর্যন্ত অনূর্ধ্ব-১৮, ১৯ ও ২০ ক্যাটাগরি মিলিয়ে সাফের বয়সভিত্তিক নারী টুর্নামেন্ট হয়েছে ছয়বার। বাংলাদেশ চারবার এককভাবে চ্যাম্পিয়ন হয়েছে, ভারত একবার। ২০২৪ সালে দুই দল যৌথ চ্যাম্পিয়ন হয়েছিল।
অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে আগের দুই আসরেই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। ২০২১ সালে ১-০ গোলে জিতে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে সেই আলোচিত ‘টস কাণ্ডের’ পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করে সাফ।
এবারই প্রথম অনূর্ধ্ব-১৯ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ আয়োজন করছে নেপাল। তবে মাঠের কন্ডিশন নিয়ে বেশ ক্ষুব্ধ বাটলার। ফাইনালের আগেও বিষয়টি সামনে আনলেন তিনি।
“মাঠের অবস্থার কারণে আমরা অনুশীলন যতটা সম্ভব সীমিত রেখেছি। শুধু আমরা নই, অন্য দলগুলোরও একই উদ্বেগ আছে। আমরা বেশ কিছু চোট পেয়েছি। আমার প্রথম এবং প্রধান লক্ষ্য হলো, ফিট খেলোয়াড়দের একটি দলকে মাঠে নামানো।”
ফাইনালের মঞ্চে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি তাই বাটলারের চোখে এই ম্যাচ ভবিষ্যতের প্রস্তুতিরও বড় এক পরীক্ষা।




