রাউন্ড রবিন লিগে যে দল ছিল দুর্দান্ত, ফাইনালের মঞ্চে সেই বাংলাদেশই হারিয়ে ফেলল নিজের চেনা ছন্দ। আক্রমণে তৃষ্ণা-আলপিদের ধার ছিল না, রক্ষণে অর্পিতা-জয়নবদের দৃঢ়তাও ভেঙে পড়ে চাপের মুখে। একের পর এক ভুলের সুযোগ কাজে লাগিয়ে সাফ উইমেন’স অনূর্ধ্ব-১৯ চ্যাম্পিয়নশিপের ফাইনালে বাংলাদেশকে ৪-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতে নেয় ভারত।

নেপালের পোখারা রঙ্গশালা স্টেডিয়ামে শনিবারের ফাইনালে রাউন্ড রবিন লিগের ২-০ ব্যবধানের হারের পূর্ণ প্রতিশোধ নেয় ভারত। বয়সভিত্তিক এই প্রতিযোগিতায় অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরিতে এবারই প্রথম এককভাবে শিরোপা জয়ের স্বাদ পেল তারা।

এর আগে দুই আসরেই ফাইনালে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ ও ভারত। ২০২১ সালে ভারতকে ১-০ গোলে হারিয়ে শিরোপা জিতেছিল বাংলাদেশ। ২০২৪ সালে ম্যাচ কমিশনারের আলোচিত ‘টস কাণ্ড’-এর পর দুই দলকে যৌথ চ্যাম্পিয়ন ঘোষণা করেছিল সাউথ এশিয়ান ফুটবল ফেডারেশন (সাফ)। এবার অনূর্ধ্ব-১৯ ক্যাটাগরির আসর প্রথমবার আয়োজন করে নেপাল।

হিমালয়ের দেশ থেকে ট্রফি নিয়ে ফেরার স্বপ্ন ছিল অপির্তা-আলপিদের। রাউন্ড রবিন লিগে তিন ম্যাচে তিন জয়ে ১৮ গোল করা দলটি ফাইনালে নেমেছিল বড় আত্মবিশ্বাস নিয়েই। তবে শুরু থেকেই ম্যাচটি ছিল সাবধানী গতির। রাউন্ড রবিনে একমাত্র হারের তিক্ততা মাথায় নিয়ে ভারতও ঝুঁকি নিতে চায়নি।

দ্বিতীয় মিনিটেই সম্ভাব্য বিপদ সামাল দেন গোলকিপার ইয়ারজান বেগম। পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসে জোরাল শটে ভারতের ফরোয়ার্ডকে সুযোগ নিতে দেননি তিনি। ১৬ মিনিটে বক্সের বাইরে সুরভি আক্তার আফরিনের সঙ্গে আলভা দেবির সংঘর্ষ থেকে পাওয়া ফ্রি-কিকেও বড় কিছু করতে পারেনি ভারত।

৪২তম মিনিটে বদলে যায় ম্যাচের চিত্র। বাম দিক থেকে আসা ক্রস ক্লিয়ার করতে ব্যর্থ হন বাংলাদেশের রক্ষণভাগ। দূরের পোস্টে ফাঁকায় থাকা প্রীতিকা বর্মন বল পেয়ে যান। নিজে শট না নিয়ে তিনি বল বাড়ান অধিনায়ক ঝুলান নঙ্গমাইথেমকে, যিনি সহজেই ইয়ারজানকে পরাস্ত করেন। চলতি টুর্নামেন্টে এই প্রথম গোল হজম করে বাংলাদেশ।

বিরতি থেকে ফিরে সমতায় ফেরার চেষ্টা বাড়ায় বাংলাদেশ। ৫২তম মিনিটে সুবর্ণ সুযোগ পান তৃষ্ণা রানী। থ্রু পাস ধরে গোলকিপারকে একা পেলেও তিনি বল বাইরে মারেন। অবিশ্বাস্য সেই মিসের পর বক্সেই বসে পড়েন হতাশ তৃষ্ণা।

৬২তম মিনিটে পরিস্থিতি আরও জটিল হয়। আক্রমণ ঠেকাতে পোস্ট ছেড়ে বেরিয়ে এসেও বলের নাগাল পাননি ইয়ারজান। আলভা দেবি প্রতিমা মুন্দার হালকা স্পর্শে বক্সে পড়ে গেলে রেফারি পেনাল্টির বাঁশি বাজান। স্পট কিক থেকে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন এলিজাবেথ লাকরা।

৬৮ মিনিটে আসে তৃতীয় গোল। অর্পিতার ব্যাক পাস ক্লিয়ার করার যথেষ্ট সময় পেয়েও সিদ্ধান্তহীনতায় ভোগেন ইয়ারজান। পার্ল ফার্নান্দেসের গায়ে লেগে বল ফিরে এলে সহজ টোকায় জালে পাঠান তিনি।

৮৩তম মিনিটে শেষ পেরেকটি ঠুকে দেন আনভিতা কোনাকুনি। সতীর্থের কাটব্যাক থেকে নেওয়া শটে গোল হলে বাংলাদেশের ঘুরে দাঁড়ানোর সব সম্ভাবনাই শেষ হয়ে যায়।

সব মিলিয়ে ফাইনালে একের পর এক ভুল, সুযোগ নষ্ট আর চাপ সামলাতে না পারার খেসারত দিয়েই শিরোপা হাতছাড়া হয় পিটার জেমস বাটলারের দলের।

Previous articleশিরোপার দ্বারপ্রান্তে বাংলাদেশ–ভারত: সাফ অনূর্ধ্ব-১৯ নারী ফাইনালে আজ মহারণ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here