নারী এশিয়ান কাপ সামনে রেখে ২৬ সদস্যের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন বাংলাদেশ নারী ফুটবল দলের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার। ব্যতিক্রমী এই স্কোয়াডে জায়গা পেয়েছেন সুইডিশ প্রবাসী ফুটবলার আনিকা রায়ান সিদ্দিকী। সাধারণত ২৩ জনের দল হলেও এবার এশিয়ান ফুটবল কনফেডারেশন (এএফসি) ২৬ জন খেলোয়াড় নেওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

১ থেকে ২১ মার্চ অস্ট্রেলিয়ায় অনুষ্ঠিত হবে নারী এশিয়ান কাপ। এই টুর্নামেন্টকে সামনে রেখে বাটলার ২৬ সদস্যের দল চূড়ান্ত করেছেন। ওই দলে সবচেয়ে আলোচিত নাম সুইডিশ প্রবাসী আনিকা রায়ান সিদ্দিকী। ঢাকায় চার দিনের ট্রায়াল শেষে তিনি সুইডেনে ফিরে গেলেও, চূড়ান্ত স্কোয়াডে সুযোগ পাওয়ায় আবার ঢাকায় ফিরেছেন।

ট্রায়ালের সময় নিজ খরচে বাংলাদেশে এসেছিলেন আনিকা। তবে এবার ফেডারেশনের ব্যবস্থাপনায় তিনি ঢাকায় পৌঁছান। আজ সকাল নয়টার দিকে ঢাকায় এসে সরাসরি টিম হোটেলে ওঠেন তিনি। আজ অনুশীলনে অংশ নেওয়ার সুযোগ হয়নি। কোচ পিটার বাটলার নিজে মাঠে আনিকাকে না দেখলেও অস্ট্রেলিয়ান ফিটনেস কোচ লর্ডের প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই তাকে স্কোয়াডে রেখেছেন। এদিকে সাবিনা, মাসুরার মতো পরীক্ষিত ফুটবলারদের ক্যাম্পে না ডাকায় প্রশ্নও উঠেছে।

বাংলাদেশ দল ১৯ ফেব্রুয়ারি দিবাগত রাতে অস্ট্রেলিয়ার উদ্দেশে রওনা হবে। থাইল্যান্ডে যাত্রাবিরতির পর ২০ ফেব্রুয়ারি সন্ধ্যায় দল পৌঁছাবে সিডনিতে। সেখানে ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্কে ক্যাম্প করবে দল। ২৫ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্টার্ন ইউনাইটেড নারী দলের বিপক্ষে একটি প্রস্তুতি ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। ১ মার্চ থেকে শুরু হবে টুর্নামেন্টের আনুষ্ঠানিক ম্যাচ।

২০ থেকে ২৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত বাংলাদেশ দল অস্ট্রেলিয়ায় নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় থাকবে। ২৭ ফেব্রুয়ারি এএফসির নির্ধারিত অফিসিয়াল হোটেলে উঠবে দল। গ্রুপ পর্বের প্রথম দুই ম্যাচ সিডনিতে অনুষ্ঠিত হবে। অনুশীলনের জন্য সিডনির জুবিলি স্টেডিয়াম, মার্কোনি স্টেডিয়াম, ওয়ান্ডারার্স ফুটবল পার্ক ও ভ্যালেন্টাইন স্পোর্টস পার্ক বরাদ্দ রেখেছে এএফসি।

৬ মার্চ সিডনিতে দ্বিতীয় ম্যাচ খেলার পরের দিন দুপুরে কোয়ান্টাস এয়ারলাইন্স-এর ফ্লাইটে বাংলাদেশ দল পার্থের উদ্দেশে রওনা দেবে এবং দুপুর আড়াইটায় পৌঁছাবে পার্থতে। ৯ মার্চ পার্থের রেকট্যাঙ্গুলার স্টেডিয়ামে উজবেকিস্তানের বিপক্ষে গ্রুপের শেষ ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ। তার আগে ৭ ও ৮ মার্চ পার্থের লিটিস স্টেডিয়াম, কিংসওয়ে রিজার্ভ বা স্যাম কের ফুটবল সেন্টারের যেকোনো একটিতে অনুশীলন করবে দল।

এর আগে ২০২৩ সালে নারী বিশ্বকাপ আয়োজন করেছিল অস্ট্রেলিয়া। সেবার অংশগ্রহণকারী দলগুলোকে সর্বোচ্চ মানের অনুশীলন সুবিধা দেওয়া হয়েছিল। নারী এশিয়ান কাপেও একই মান বজায় রাখার কথা জানিয়েছে আয়োজকরা। এক বিবৃতিতে ফুটবল অস্ট্রেলিয়ার আয়োজক কমিটির পরিচালক সারাহ ওয়ালশ বলেন, ভালো টুর্নামেন্ট মানেই শুধু ম্যাচ নয়, দলগুলোর প্রস্তুতির জন্য মানসম্মত অনুশীলন মাঠ নিশ্চিত করাও জরুরি। সে লক্ষ্যেই সর্বোচ্চ সুবিধা দিতে তারা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

Previous articleআসিফ মাহমুদের লাগামহীন কথাবার্তায় ক্রীড়াঙ্গন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে: আমিনুল হক
Next articleস্বপ্ন দেখেই পথচলা, নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশকে শক্ত ভিত দিতে চান বাটলার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here