বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে একেবারে নতুন একটি দৃষ্টান্ত স্থাপিত হলো। জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হক টেকনোক্র্যাট কোটায় যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন। নির্বাচনে সংসদ সদস্য না হয়েও কোনো সাবেক ক্রীড়াবিদের মন্ত্রীসভায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার ঘটনা এটাই প্রথম।

 

আজ সকালে নবনির্বাচিত সংসদ সদস্যরা শপথ নিয়েছেন। বিকেল চারটায় মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা শপথ নিয়েছেন। সকাল থেকেই মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ থেকে সম্ভাব্য মন্ত্রীদের ফোন করা হয়। সেই তালিকায় ছিলেন জাতীয় ফুটবল দলের সাবেক অধিনায়ক আমিনুল হকও।

ঢাকা-১৬ আসন থেকে জাতীয় নির্বাচনে অংশ নিয়ে তিনি ধানের শীষ প্রতীকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের পর জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেনের কাছে পরাজিত হন তিনি। তবে সংবিধানের বিধান অনুযায়ী মন্ত্রীসভার সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ সদস্য টেকনোক্র্যাট কোটায় নেওয়া যায়। সেই কোটাতেই আমিনুল হককে প্রতিমন্ত্রী করা হচ্ছে।

নব্বইয়ের দশকের মাঝামাঝি সময়ে আমিনুল হকের ফুটবল ক্যারিয়ার শুরু। ফরাশগঞ্জ, আবাহনী, মোহামেডান, মুক্তিযোদ্ধাসহ দেশের সব শীর্ষ ক্লাবে সুনামের সঙ্গে খেলেছেন তিনি। গোলরক্ষক হয়েও দীর্ঘ সময় ঘরোয়া ফুটবলে সর্বোচ্চ পারিশ্রমিকপ্রাপ্ত খেলোয়াড় ছিলেন। জাতীয় দলে ছিলেন এক নম্বর গোলকিপার।

২০০৩ সালের সাফ চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে তিনি ছিলেন অন্যতম নায়ক। ২০১০ এসএ গেমসে বাংলাদেশ দলের অধিনায়কত্ব করেন। আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বহু ম্যাচে তার পেনাল্টি সেভ ও দৃঢ় পারফরম্যান্সে শক্তিশালী দলের বিপক্ষে বাংলাদেশ ড্র করেছে বা অল্প ব্যবধানে হেরেছে। তাই তাকে বাংলাদেশের ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোলরক্ষক হিসেবেই ধরা হয়।

ফুটবল থেকে অবসর নেওয়ার পর তিনি সক্রিয়ভাবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল–এর রাজনীতিতে যুক্ত হন। গত এক যুগের বেশি সময় রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার কারণে নানা নির্যাতনের শিকার হন তিনি। রক্তাক্ত শরীর ও হ্যান্ডক্যাপ পরা অবস্থার ছবি একসময় নাগরিক সমাজে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়।

ক্রীড়াঙ্গন ও দলীয় অঙ্গনে তার ত্যাগ ও অবদান বিবেচনায় নির্বাচনের আগেই আলোচনা ছিল, বিএনপি ক্ষমতায় এলে আমিনুল হক ক্রীড়া মন্ত্রী হবেন। নির্বাচনে পরাজয়ের পর সেই আলোচনা ঘুরে যায় টেকনোক্র্যাট কোটার দিকে। শেষ পর্যন্ত তিনি প্রতিমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেওয়ার আমন্ত্রণ পেয়েছেন।

সাধারণত যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়ে একজন মন্ত্রী/প্রতিমন্ত্রীই দায়িত্ব পালন করেন। সেই হিসেবে সাবেক এই তারকা গোলরক্ষকই হলেন দেশের নতুন যুব ও ক্রীড়া প্রতি মন্ত্রী।

Previous articleস্বপ্ন দেখেই পথচলা, নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশকে শক্ত ভিত দিতে চান বাটলার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here