এবারের চ্যালেঞ্জটা যে একেবারেই ভিন্ন, সেটা ভালো করেই জানে বাংলাদেশ নারী ফুটবল দল। সাফ উইমেন’স চ্যাম্পিয়নশিপে যেখানে প্রায় নিখুঁত রক্ষণে শিরোপা জিতেছিল দল, সেখানে এবার প্রতিপক্ষ হিসেবে সামনে চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের মতো আক্রমণাত্মক শক্তিশালী দল। তবে এই কঠিন পরীক্ষার জন্য মানসিক ও টেকনিক্যালি প্রস্তুত বলেই দাবি করেছেন দলের গোলকিপিং কোচ মাসুদ আহমেদ উজ্জ্বল।

অস্ট্রেলিয়ার সিডনির জুবিলি স্টেডিয়ামে রোববার প্রস্তুতি সেশন সেরেছে বাংলাদেশ। বরাবরের মতো তিন গোলকিপারকে নিয়ে আলাদা অনুশীলনে ব্যস্ত ছিলেন উজ্জ্বল। সেট-পিস ডিফেন্ডিং এবং দূরপাল্লার শট ঠেকানোয় ছিল বিশেষ মনোযোগ। অনুশীলন শেষে কোচের কণ্ঠে আত্মবিশ্বাস, সামনে আসা অগ্নিপরীক্ষার জন্য তার তিন গোলরক্ষকই তৈরি।

চীন, উত্তর কোরিয়া ও উজবেকিস্তানের আক্রমণভাগ বিশ্লেষণ করে অনেক আগেই প্রস্তুতি শুরু করেছেন বলে জানান উজ্জ্বল। কোন অ্যাঙ্গেল থেকে তারা বেশি অন টার্গেট শট নেয়, কোথায় ফিনিশিং সবচেয়ে কার্যকর—এসব তথ্য ধরে অনুশীলন করানো হয়েছে গোলকিপারদের। তার বিশ্বাস, দূরপাল্লার শটে খুব বেশি সমস্যায় পড়বে না বাংলাদেশ।

সেট-পিস ডিফেন্ডিং নিয়েও চলছে আলাদা কাজ। কে কোন ভূমিকায় থাকবে, কোন জোনে কার দায়িত্ব—এসব স্পষ্ট করে দেওয়া হচ্ছে খেলোয়াড়দের। ম্যাচের আগের দিনগুলোতে এই অংশে আরও বিস্তারিত কাজ করার পরিকল্পনা রয়েছে কোচিং স্টাফের।

গোলপোস্টে এবারও মূল ভরসা রূপনা চাকমা। সর্বশেষ উইমেন’স ফুটবল লিগে রাজশাহী স্টার্সের হয়ে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পথে প্রায় সব ম্যাচেই ক্লিনশিট রেখেছেন তিনি। ১১ ম্যাচের মধ্যে ১০টিতেই গোল হজম করেননি রূপনা, বাকি এক ম্যাচে দায়িত্বে ছিলেন মিলি আক্তার। উজ্জ্বলের মতে, মৌলিক বিষয়গুলো ঠিক রাখতে পারলে বড় বিপদ এড়ানো সম্ভব।

টেকনিক্যাল দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠার দিকেই সবচেয়ে বেশি জোর দিচ্ছেন তিনি। অনুশীলনে খেলোয়াড়দের আত্মবিশ্বাসী রাখার চেষ্টা চলছে, যেন ম্যাচের চাপ তাদের প্রভাবিত না করে। সারা বছর ধরে শেখা বিষয়গুলো ঠিকভাবে প্রয়োগ করতে পারলেই ভুলের সংখ্যা কমবে বলে বিশ্বাস কোচের।

শক্তিশালী প্রতিপক্ষের নাম শুনে গোলকিপাররা ভড়কে যাবে না, এই আস্থার পেছনে বড় কারণ অনুশীলনের ইতিবাচক পরিবেশ। উজ্জ্বল বলছেন, খেলোয়াড়দের চোখে ভয় নয়, বরং নিজেকে প্রমাণ করার তাগিদই বেশি দেখছেন তিনি। এই মঞ্চে ভালো করতে পারলে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে নতুন সুযোগ তৈরি হবে—এই বার্তাটাকেই ইতিবাচক শক্তি হিসেবে নিচ্ছেন মেয়েরা।

সব মিলিয়ে, বড় দলের বিপক্ষে চাপ নয়, বরং সম্ভাবনাই দেখছে বাংলাদেশ শিবির। প্রস্তুতির ধরন আর মানসিক দৃঢ়তা দেখে কোচিং স্টাফের আশা, কঠিন এই গ্রুপেও লড়াই করার মতো অবস্থানে থাকবে দল।

Previous articleম্যাচের আগেরদিন ভেন্যুতে অনুশীলন নয়, তবু নির্ভার বাংলাদেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here