১৪ মিনিটেই ইতিহাসের খুব কাছে চলে গিয়েছিলেন ঋতুপর্ণা চাকমা। এশিয়ার পরাশক্তি চীনের জালে বল জড়াতে আর কয়েক ইঞ্চির দূরত্ব। গোল হয়নি, কিন্তু সেই মুহূর্তই যেন বদলে দিয়েছিল ম্যাচের আবহ। শেষ পর্যন্ত ০-২ ব্যবধানে হারলেও লাল-সবুজের মেয়েদের লড়াই কুড়িয়ে নিয়েছে সম্মান আর প্রশংসা।

কর্নার প্রতিহতের পর বাংলাদেশের অর্ধ থেকে উড়ন্ত পাস বাড়ান মারিয়া মান্দা। বল পেয়ে গতির ঝলকে চীনের ডিফেন্ডার উ হাইয়ানকে পেছনে ফেলেন ঋতুপর্ণা। প্রায় ৩৫ গজ দূর থেকে নেন সরাসরি শট। নিখুঁত সেই প্রচেষ্টা লাফিয়ে ফিস্ট করে জালের ওপর দিয়ে কর্নার করে দেন গোলকিপার চেন চেন।

শট নেওয়ার পর মাটিতে পড়ে যান ঋতুপর্ণা। চোখ ছিল জালের দিকে। বল ফিরিয়ে দেওয়ার পর হতাশায় সবুজ ঘাসে শুয়ে পড়েন বাংলাদেশের নারী ফুটবলের এই পোস্টারগার্ল। মারিয়া এসে পিঠ চাপড়ে সঙ্গ দেন। কী বলেছেন, তা শোনা যায়নি। তবে শরীরী ভাষাতেই বোঝা গেছে, দারুণ শটের জন্য সতীর্থকে সাধুবাদই দিয়েছেন তিনি।

ম্যাচ শেষে আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সেই শট। সামাজিক মাধ্যমে ঘুরেছে নানা ‘যদি’। যদি গোলকিপার অতিমানবীয় সেভ না দিতেন, যদি বলটা আরেকটু ভেতরে ঢুকত। তখনও ম্যাচ ছিল গোলশূন্য। আগে এগিয়ে গেলে দৃশ্যপট অন্যরকমও হতে পারত।

তবু হতাশার ভেতরেও গর্বের জায়গা আছে। ৯বারের এশিয়ান চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে বাংলাদেশ লড়েছে বুক চিতিয়ে। সেই কারণেই প্রশংসায় ভাসছেন আফঈদা-ঋতুপর্ণারা।

খেলা শেষে টি-স্পোর্টসকে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ঋতুপর্ণা বলেন,

“ভেবেছিলাম এটা গোল হবে। যদি গোল হতো, এটা আমার জীবনের সেরা গোল হিসেবে মেনে নিতাম।”

গোল মিস নিয়ে সাধারণত আক্ষেপ করেন না তিনি। ফিফা র‌্যাঙ্কিংয়ে ১৭ নম্বরে থাকা দলের বিপক্ষে খেলাকে দেখছেন শেখার সুযোগ হিসেবে।

“আমি খুব নার্ভাস ছিলাম। আমরা ভাগ্যবান চায়নার মতো দলের সঙ্গে খেলতে পেরে। অনেক কিছু শিখতে পেরেছি। আমি গর্বিত যে বাংলাদেশকে প্রতিনিধিত্ব করতে পেরেছি।”

এএফসি এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের পরের ম্যাচ আরেক শক্তিধর প্রতিপক্ষ উত্তর কোরিয়ার বিপক্ষে, ৬ মার্চ। সেই ম্যাচেও চোখ থাকবে লাল-সবুজের মেয়েদের লড়াকু মানসিকতার।

Previous articleহারেও আত্মবিশ্বাস, চীনের বিপক্ষে লড়াইয়ে গর্বিত বাটলার
Next articleচীনের বিপক্ষে অভিষেকে আত্মবিশ্বাসী মিলি, কৃতিত্ব দিলেন কোচিং স্টাফকে

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here