শেষ বাঁশি বাজার পর বাংলাদেশের ফুটবলারদের প্রতিক্রিয়াই যেন বলে দিচ্ছিল, এই ম্যাচ শুধু ফলাফলের গল্প নয়। স্কোরলাইন ০–২ হলেও এশিয়ার চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে নারী এশিয়া কাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে যে লড়াই দেখিয়েছে বাংলাদেশ, তা অনেকের কাছেই জয়সমান।
ম্যাচ শেষে খেলোয়াড়েরা একে অন্যকে জড়িয়ে ধরেন, কোচিং স্টাফের মুখেও ছিল তৃপ্তির ছাপ। সংবাদ সম্মেলনে সাধারণত কঠোর ভাষায় কথা বলা ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার ছিলেন একেবারে ভিন্ন মেজাজে। হারের পরও তিনি বলেন,
“তার মনে হয়েছে মেয়েরা দুর্দান্ত খেলেছে। ভালো মানের খেলোয়াড় ও শক্তিশালী বেঞ্চসমৃদ্ধ দলের বিপক্ষে এমন প্রচেষ্টা সত্যিই প্রশংসার যোগ্য।”
চীনের মতো প্রতিপক্ষের বিপক্ষে মাত্র দুই গোল হজম, যার একটি এসেছে নিজেদের ভুলে। বাটলারের ভাষায়,
“প্রায় চল্লিশ মিনিট দল প্রতিপক্ষকে আটকে রাখতে পেরেছিল। এরপর কিছুটা মনোযোগ হারানোর সুযোগেই গোল আসে। তবু সামগ্রিক পারফরম্যান্সে তিনি গর্বিত। তার মতে, খেলোয়াড়েরা দেশের নাম উজ্জ্বল করেছে এবং জার্সির মর্যাদা রেখেছে। এই ম্যাচই দেখিয়ে দিয়েছে দল কতটা এগিয়েছে।”
বাটলারের অধীনে বাংলাদেশ খেলছে হাই লাইন রক্ষণ কৌশলে। এতে অতীতে গোল খাওয়ার ঘটনা থাকায় সমালোচনাও হয়েছে। তবে এশিয়ার মঞ্চে একই কৌশল প্রয়োগ করে চীনের বিপক্ষে কার্যকর লড়াইকে তিনি ইতিবাচক দৃষ্টিতেই দেখছেন। সমালোচকদের নিয়ে তার মন্তব্য,
“নেতিবাচক কথা সবসময়ই থাকবে। কিন্তু মেয়েরা এমন কিছু করেছে, যা নিয়ে তারা নিজেরাই গর্ব করতে পারে। এই রক্ষণ কৌশলের ফলই মাঠে পাওয়া গেছে।”
নিয়মিত গোলরক্ষক রুপনা চাকমার জায়গায় সুযোগ পান মিলি আক্তার। গোলরক্ষক নির্বাচন নিয়ে বাটলার বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই বাংলাদেশের নারী ফুটবলে গোলকিপিং একটি চ্যালেঞ্জের জায়গা। তার মতে,
“মিলি অসাধারণ খেলেছে। ভুল করেছে, যা স্বাভাবিক, কিন্তু নতুনত্ব আনতেই এমন সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্ত নিতে তিনি ভয় পান না বলেও জানান।”
বাংলাদেশের অভিষেক ম্যাচ দেখতে সিডনিতে উপস্থিত ছিলেন বাফুফে সভাপতি তাবিথ আউয়াল। পারফরম্যান্সে সন্তুষ্টি জানিয়ে তিনি বলেন,
“চীনের মতো দলের বিপক্ষে এমন খেলা অনুপ্রেরণাদায়ক। ফুটবলারদের আর্থিক বোনাস দেওয়ার ঘোষণাও দেন তিনি।”
গ্যালারিতে ছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের সরব উপস্থিতি। অভিনেতা মাজনুন মিজান পরিবার নিয়ে খেলা দেখতে আসেন। তার মতে, বিশ্বকাপ খেলা দলের সঙ্গে সমানতালে লড়াই করা এবং প্রায় গোলের সুযোগ তৈরি করা বড় অর্জন। অস্ট্রেলিয়ায় বাংলাদেশ হাই কমিশনের কর্মকর্তারাও মাঠে উপস্থিত থেকে দলের পারফরম্যান্সে মুগ্ধতা প্রকাশ করেন।
স্কোরলাইনে হার থাকলেও আত্মবিশ্বাসে বড় অর্জন নিয়ে মাঠ ছেড়েছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচ হয়তো ভবিষ্যতের পথচলায় নতুন বিশ্বাসের ভিত্তি হয়ে থাকবে।




