মালদ্বীপে সাফ অনূর্ধ্ব-২০ টুর্নামেন্টে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে বাংলাদেশ। গ্রুপপর্বে পাকিস্তান ও ভারতের বিপক্ষে দুই ম্যাচে করা তিন গোলেই অবদান রেখে নজর কেড়েছেন আমেরিকান প্রবাসী রোনান সুলিভান। তবে দল সেমিতে উঠলেও কোচিং সিদ্ধান্ত, খেলোয়াড় ব্যবহারের কৌশল এবং বাফুফের মিডিয়া ব্যবস্থাপনা নিয়ে তৈরি হয়েছে নানা প্রশ্ন।

গ্রুপপর্বে বাংলাদেশের হয়ে সবচেয়ে উজ্জ্বল ছিলেন রোনান সুলিভান। দুই ম্যাচে তিন গোলেই ছিল তার সরাসরি অবদান। তবে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে এখন তার যমজ ভাই ডেকলান সুলিভান এবং ইংল্যান্ড প্রবাসী ইব্রাহিম নেওয়াজ। দুই ম্যাচেই তারা কার্যত উপেক্ষিত থেকেছেন। ডেকলান এক মিনিটের জন্যও মাঠে নামার সুযোগ পাননি, আর ইব্রাহিম প্রথম ম্যাচে শেষ মুহূর্তে নামলেও দ্বিতীয় ম্যাচে সুযোগ পাননি।

সেমিফাইনাল নিশ্চিত হওয়ার পর ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে এই দুই ফুটবলারকে দেখার সুযোগ ছিল। কিন্তু ইংলিশ কোচ মার্ক কক্স তাদের একাদশে রাখেননি। ম্যাচ চলাকালে লাল কার্ড দেখে কক্স মাঠ ছাড়লে দায়িত্ব নেন সহকারী কোচ মিশু, কিন্তু তিনিও তাদের মাঠে নামাননি।

মার্ক কক্সের কোচিং সনদ ও নৈতিকতা নিয়ে আগেই প্রশ্ন উঠেছিল। ভারতের বিপক্ষে ম্যাচে তার আচরণ এবং লাল কার্ড পাওয়ার ঘটনা সেই বিতর্ক আরও বাড়িয়েছে। তরুণ ফুটবলারদের ক্ষেত্রে আবেগ ও অভিজ্ঞতার ঘাটতি স্বাভাবিক হলেও, সেই পরিস্থিতি সামাল দেওয়ার দায়িত্ব কোচিং স্টাফ ও ম্যানেজমেন্টের ওপরই বর্তায়। কিন্তু ম্যানেজার সামিদ কাশেমের আচরণও ছিল প্রশ্নবিদ্ধ—গোল উদযাপনে মাঠে ঢুকে পড়া কিংবা খেলোয়াড় আহত হলে অতিরিক্ত উত্তেজিত হয়ে ওঠা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করেছে।

ডেকলান সুলিভানকে একেবারেই সুযোগ না দেওয়ায় ফুটবল মহলে সমালোচনা চলছে। রোনানের মতো তিনিও ফিলাডেলফিয়া একাডেমিতে খেলেন। তবে কোচিং স্টাফের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে কোনো ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

এদিকে বাফুফের মিডিয়া ব্যবস্থাপনাও প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি। খেলোয়াড়দের ভিডিও বার্তা ছিল খুবই সংক্ষিপ্ত—রোনানের ১১ সেকেন্ড, ইব্রাহিমের ২৩ সেকেন্ড এবং গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্যের ৩৩ সেকেন্ডের বক্তব্য একটি পূর্ণাঙ্গ সংবাদ তৈরির জন্য যথেষ্ট নয়। ম্যাচ চলাকালে দেরিতে একাদশ সরবরাহ, ম্যাচ শেষে ছবি পেতে দীর্ঘ অপেক্ষা এবং কোচের প্রতিক্রিয়া পেতে বিলম্ব—সব মিলিয়ে সাংবাদিকদের কাজে বাধা তৈরি হয়েছে।

তবে মাঠের বাইরে এসব সমালোচনার মধ্যেও ইতিবাচক থাকার চেষ্টা করছেন ফুটবলাররা। ডেকলান বলেন, “রিকোভারি সেশনটা ভালো হয়েছে। কঠিন ম্যাচের পর শরীর সচল রাখা জরুরি। আমাদের লক্ষ্য একটাই—পরের ম্যাচ জিতে ফাইনালে ওঠা, এরপর শিরোপা জেতা।”

ইব্রাহিম নেওয়াজও একইভাবে আশাবাদী। অন্যদিকে গোলরক্ষক কোচ বিপ্লব ভট্টাচার্য্য জানিয়েছেন, “টানা ম্যাচের ধকল কাটিয়ে খেলোয়াড়রা এখন সেমিফাইনালের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে। তার আশা, নেপালকে হারিয়ে ফাইনালে উঠবে বাংলাদেশ।”

সবকিছু মিলিয়ে মাঠের পারফরম্যান্সে সাফল্য থাকলেও দল ব্যবস্থাপনা ও পরিকল্পনায় আরও পরিপক্বতা দেখানোর প্রয়োজন স্পষ্ট হয়ে উঠেছে।

Previous articleরোনানের কর্নারে রিয়াদের গোল, ভারতের সঙ্গে ড্র করে সেমিতে বাংলাদেশ
Next articleসিঙ্গাপুর ম্যাচ ঘিরে প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস, জয়ের আশায় বাংলাদেশ

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here