আগামী বছর অনুষ্ঠিতব্য এশিয়ান কাপে খেলার সুযোগ না থাকলেও বাছাইপর্বের শেষ ম্যাচটি জিতেই অভিযান শেষ করতে চায় বাংলাদেশ। সিঙ্গাপুরে ম্যাচ-পূর্ব সংবাদ সম্মেলনে কোচ হ্যাভিয়ের ক্যাবরেরা এমন প্রত্যাশার কথাই জানিয়েছেন।

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ে হোম ও অ্যাওয়ে মিলিয়ে ছয় ম্যাচের মধ্যে পাঁচটি খেলে বাংলাদেশ সংগ্রহ করেছে ৫ পয়েন্ট। শেষ ম্যাচে সিঙ্গাপুরকে হারিয়ে ৮ পয়েন্ট নিয়ে টুর্নামেন্ট শেষ করতে চান কোচ ক্যাবরেরা। তিনি বলেন,

“এটি দলের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ এবং ভালো পারফরম্যান্স দিয়েই শেষ করতে চায় বাংলাদেশ। প্রত্যাশার তুলনায় কম পয়েন্ট পেলেও শেষ ম্যাচে শক্তিশালী পারফরম্যান্স দেখিয়ে ৩ পয়েন্ট অর্জনের লক্ষ্য তাদের।”

শেষ ম্যাচে জয়ের গুরুত্ব নিয়েও ব্যাখ্যা দিয়েছেন তিনি। ক্যাবরেরার মতে,

“৮ পয়েন্ট নিয়ে শেষ করা এবং শেষ তিন ম্যাচ থেকে ৭ পয়েন্ট পাওয়া দলের জন্য বড় অর্জন হবে। এতে দলের উন্নতির ধারাও স্পষ্ট হবে, যা তাকে বেশ রোমাঞ্চিত করছে।”

অ্যাওয়ে ম্যাচে জয় প্রত্যাশা করলেও ঢাকায় প্রথম দেখায় সিঙ্গাপুরের কাছে ১-২ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। সেই ম্যাচের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়েই এবার মাঠে নামতে চায় দল। কোচের মতে,

“প্রথম ম্যাচে শুরুটা ভালো হলেও মাঝপথে ছন্দ হারিয়ে ফেলে বাংলাদেশ, আর সেই সুযোগ কাজে লাগিয়ে জয় তুলে নেয় সিঙ্গাপুর। তবে শেষ দিকে অন্তত এক পয়েন্ট পাওয়ার সুযোগও তৈরি হয়েছিল।”

এবার একই ধরনের প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ম্যাচের প্রত্যাশা করছেন ক্যাবরেরা। তার মতে,

“দল জানে তাদের কাছ থেকে কী প্রত্যাশা করা হচ্ছে এবং প্রথম ম্যাচের মতোই লড়াকু পারফরম্যান্স দিতে চায় তারা।”

এশিয়ান কাপ বাছাইয়ের দ্বিতীয় ধাপে ছয় গ্রুপে চারটি করে দল অংশ নিচ্ছে। ‘সি’ গ্রুপ থেকে ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর মূল পর্ব নিশ্চিত করেছে। শক্তিশালী এই প্রতিপক্ষকে নিয়ে ক্যাবরেরা বলেন,

“বর্তমান কোচ আগের জাপানি কোচের ধারাবাহিকতাই বজায় রেখেছেন। একই কৌশল ও খেলোয়াড়দের ধারাবাহিক ব্যবহারে দলটি আরও সংগঠিত হয়েছে।”

অধিনায়ক জামাল ভূইয়া প্রবাসী সমর্থক ও সমর্থন নিয়ে বলেন,

‘আমরা যেখানেই যাই, যেসব দেশে অনেক বাংলাদেশি আছে, সেখানে আমরা প্রায়ই এই ধরনের ভিড় দেখি। আমি মনে করি প্রতিটি ম্যাচই একটি চ্যালেঞ্জ। আমি আগেও বলেছি, যারা টিকিট পায়নি তারা যদি আমাদের খেলা দেখতে পারত, তবে খুব ভালো হতো। কারণ জাতীয় দল তো আর প্রতিদিন সিঙ্গাপুরে আসে না। তারা অবশ্যই আমাদের হৃদয়ে থাকবে এবং আমরা তাদের জন্যও লড়াই করব।’

ভক্তদের বিষয়টি হৃদয় ধারণ করলেও যখন মাঠে নামেন তখন ফুটবলাররা ম্যাচেই মনোযোগ দেন। এ নিয়ে অধিনায়কের বক্তব্য,

‘আপনি যখন ফুটবল খেলেন এবং ম্যাচের ভেতরে থাকেন, সত্যি বলতে তখন আপনি ভক্তদের কথা ভাবেন না। আপনি তখন খেলার ভেতরেই বেশি ডুবে থাকেন। তবে ম্যাচের আগে এবং পরে আপনি ভক্তদের উপস্থিতি উপলব্ধি করেন। তারা তাদের কষ্টার্জিত টাকা দিয়ে টিকিট কেটে আপনাকে দেখতে আসে। তাই সেটাকে মূল্যায়ন করা দরকার।’

সিঙ্গাপুরের ইতিবাচক ফুটবলের প্রশংসা করে ক্যাবরেরা তাদের ও কোচিং স্টাফকে অভিনন্দন জানিয়েছেন। তার মতে,

তারা যোগ্য দল হিসেবেই চূড়ান্ত পর্বে জায়গা করে নিয়েছে।”

Previous articleসিঙ্গাপুর ম্যাচ ঘিরে প্রবাসীদের উচ্ছ্বাস, জয়ের আশায় বাংলাদেশ
Next articleজোড়া গোলের লক্ষ্য নিয়ে সেমিফাইনালে নামছেন রোনান

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here