আর কয়েক ঘণ্টা পরই বাংলাদেশের নারী ফুটবলে নতুন এক অধ্যায় শুরু হচ্ছে। ‘বি’ গ্রুপে নিজেদের প্রথম ম্যাচে প্রতিপক্ষ সর্বাধিক নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীন। আজ মঙ্গলবার সিডনির কমনওয়েলথ ব্যাংক স্টেডিয়ামে বাংলাদেশ সময় দুপুর ২টা এবং স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৭টায় খেলা শুরু হবে।

প্রথমবারের মতো এশিয়ার শীর্ষ মঞ্চে খেলতে নামছে বাংলাদেশ। সামাজিক ও পারিবারিক নানা বাধা পেরিয়ে ঋতুপর্ণারা আজ মুখোমুখি হবে চীন-কোরিয়ার মতো পরাশক্তির। এই অর্জনেই গর্বিত দেশের সমর্থকেরা। সিডনিতে বসবাসরত প্রবাসী ইদ্রিস আলী বলেন, পুরুষ দল একবার এশিয়া কাপ খেলেছিল, এরপর আর পারেনি। মেয়েরা অল্প সময়ের মধ্যেই এশিয়ার বড় আসরে জায়গা করে নিয়েছে, তারা উপভোগ করে খেলুক—এটাই সবচেয়ে বড় আনন্দ।

ঐতিহাসিক ম্যাচের আগে অধিনায়ক আফিদা খন্দকার চাপের কথা মানতে নারাজ। তাঁর চোখে প্রত্যাশা মানেই অনুপ্রেরণা। তিনি বলেন,

“দেশের জন্য খেলতে নামলে আলাদা করে চাপ নেওয়ার কিছু নেই। প্রত্যাশা থাকবেই, কিন্তু সেটি ইতিবাচকভাবেই নিচ্ছেন তাঁরা।”

নারী এশিয়ান কাপে বাংলাদেশের অভিষেক হচ্ছে বর্তমান ও সর্বাধিক নয়বারের চ্যাম্পিয়ন চীনের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে। বাংলাদেশের র‌্যাঙ্কিং ১১২, আর চীন রয়েছে ১৭ নম্বরে। বড় ব্যবধান থাকলেও এই ম্যাচকে শেখার সুযোগ হিসেবেই দেখছেন আফিদারা। অধিনায়ক বলেন,

“চীন সবদিক থেকেই শক্তিশালী দল। তাদের বিপক্ষে খেলতে পারাটাই বড় অভিজ্ঞতা, তবে ভালো দল বলে লড়াই ছেড়ে দেওয়া হবে না।”

বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার বাস্তবতাকেই সামনে রাখছেন। তাঁর মতে,

“দেশের নারী ফুটবলের ইতিহাসে এটি অন্যতম বড় ম্যাচ। এই পর্যায়ে পৌঁছাতে মেয়েরা কঠোর পরিশ্রম করেছে এবং ভবিষ্যতের বড় টুর্নামেন্টগুলোর জন্য এটি একটি ভিত্তি তৈরি করার সুযোগ।”

বাছাইপর্বে মিয়ানমারকে হারানোর স্মৃতি দলকে আত্মবিশ্বাস দিচ্ছে। সে সময় মিয়ানমারের র‌্যাঙ্কিং ছিল ৫৫। তবে চীন যে অনেক কঠিন প্রতিপক্ষ, সেটি মনে করিয়ে দিয়েছেন বাটলার। তিনি বলেন, ফুটবল খুব জটিল কিছু নয়। বল দখলে থাকুক বা না থাকুক, কঠোর পরিশ্রম না করলে মূল্য দিতে হবে। চীনের মতো দলকে সময় ও জায়গা দিলে তারা সুযোগ কাজে লাগাতে জানে।

তবু সম্ভাবনার কথা পুরোপুরি উড়িয়ে দিচ্ছেন না বাংলাদেশ কোচ। তাঁর বিশ্বাস, মাঝে মাঝে অপ্রত্যাশিত ঘটনাও ঘটে। তাই নিজেদের স্বাভাবিক খেলাটা খেলতে পারলেই সন্তুষ্ট থাকবেন তিনি। বড় স্বপ্ন না দেখলেও লড়াইটা যেন সাহস নিয়ে হয়, সেটাই তাঁর প্রত্যাশা।
ইতিহাসের মঞ্চ প্রস্তুত। এখন অপেক্ষা শুধু শুরুর বাঁশির।

Previous articleবাংলাদেশকে হালকাভাবে নিচ্ছেন না মিলিচিচ, চীনা কোচের চোখে ‘তারুণ্যদীপ্ত ও আগ্রাসী’ দল
Next articleচীনের বিপক্ষে পাঁচ ডিফেন্ডারে বাংলাদেশ, একাদশে মিলি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here