বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের বার্ষিক সাধারণ সভায় বাফুফের কাজে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছে কাউন্সিলরবৃন্দ। আজ ৩০ শে অক্টোবর রাজধানীর এক হোটেলে৷ এই সভার আয়োজন করা হয়। উক্ত সভায় সভাপতিত্ব করেন বাফুফের সভাপতি কাজী সালাউদ্দিন। এছাড়া সভায় অন্যন্য কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

উক্ত সভায় বাফুফের বিগত বছরের আয়-ব্যয়ের হিসেবে করা করেছে। তবে এই আয়-ব্যয় হিসেব নিয়ে কোনো ভোগান্তির সম্মুখীন হয় নি বাফুফে। কোনোরকম বিপত্তি ছাড়াই পাশ হয়েছে অডিট রিপোর্ট। এক-দুজন কাউন্সিলর বাদে বাকিরা সন্তুষ্ট বাফুফের কার্যক্রম নিয়ে। এই প্রসঙ্গে বাফুফের প্রধান কর্তা কাজী সালাউদ্দিন বলেন, ‘কংগ্রেস খুবই শান্তিপূর্ণ হয়েছে। তাদেরকে এবার বিস্তারিত বুঝিয়ে দেওয়া হয়েছে, কীভাবে কী হচ্ছে, আর্থিক বিষয়, প্ল্যানিং- সব বিষয় তাদের সামনে তুলে ধরা হয়েছে। কংগ্রেস শেষ হওয়ার পর উনারা যখন কথা বলেছেন, সন্তুষ্ট দেখা গেছে। অবশ্যই দু-একজন তো থাকবেই, যারা সন্তুষ্ট হবে না। কিন্তু সার্বিকভাবে সবাই সন্তুষ্ট।’

গত অর্থিক বছরে বাংলাদেশ ফুটবল ফেডারেশনের আয় ছিলো ২৮ কোটি ৮০ লাখ ৮ হাজার টাকা এবং ব্যয় হয়েছিলো ৩৩ কোটি ৭৯ লাখ ৪১ হাজার টাকা। গত বছরে বাজেট ঘাটতি ছিলো প্রায় ৫ কোটি টাকার কাছাকাছি। নতুন অর্থিক বছরকে সামনে বাজেট নতুন বাজেট করেছে বাফুফে। নতুন বাজেট অনুযায়ী সম্ভাব্য আয় ৪১ কোটি ৯৫ লাখ ধরা হয়েছে এবং সম্ভাব্য বাজেট ঘাটতি ধরা হয়েছে ৮ কোটি টাকা। তবে ক্ষতি পুষিয়ে উঠার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বাফুফে সভাপতি। তিনি বলেন, ‘গতবারের অডিট এক মিনিটের মধ্যে পাস হয়েছে। অডিটটা দেখেই তারা বলেছে সব ঠিকঠাক আছে। অডিট রিপোর্ট নিয়ে কেউ প্রশ্ন তোলেনি, তারা আমাদের ওপর ছেড়ে দিয়েছে। আমাদেরই দায়িত্ব এটা জোগাড় করা। যেহেতু আমরাই অর্থ জোগাড় করি- এ কারণে কেউ কোনও প্রশ্ন তোলেনি। আমরা আশা করি, এই ঘাটতি আমরা পুষিয়ে নিতে পারবো।’

তবে জেলা লীগ নিয়ে নিজের চিন্তার বহিঃপ্রকাশ করেছেন কাজী সালাউদ্দিন। জেলা লীগ কমিটির কিছুটা ক্ষোভ প্রকাশ করেই তিনি বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা জেলা নিয়ে। এই সমস্যা এখনও সমাধান করতে পারছি না। কেননা, আমি আমার কাজ করতে পারি, তাদের কাজ করতে পারি না। আমি কেবল তাদের সাহায্য করতে পারি। তারা খালি টাকা চায়; আমিও টাকা চাই, তারাও টাকা চায়। আমার কাছে যখনই টাকা এসেছে, তাদেরকে দিয়েছি। এর আগে সরকারের কাছ থেকে যে টাকা এসেছিল তার ৫০ শতাংশ তাদের দিয়েছি। টাকা থাকলে তো টাকা দিবো, না থাকলে কীভাবে দিবো?’

তিনি আরো বলেন, ‘আমরা যে লিগ করি, এটা করতে ফিফা কিন্তু আমাকে বাধ্য করে না। তারপরও আমি এটা আয়োজন করি। এটাই আমার কাজ। কিন্তু সমস্যা হচ্ছে, অনেকে নিজেদের জেলায় লিগ করেন না, উনারা তাকিয়ে থাকেন আমাদের দিকে, আমরা কীভাবে সাহায্য করবো সেদিকে।’ বাফুফের বার্ষিক সাধারণ সভায় উঠে এসেছে জাতীয় ফুটবল দলে ছেলে ও মেয়েদের পারফরম্যান্সের কথা। সভায় মেয়েদের সাফল্যের পাশাপাশি ছেলেদের ব্যর্থতার চিত্রও তুলে ধরেছেন কাজী সালাউদ্দিন। তবে ছেলেরাও ভবিষ্যতে ভালো করবে বলে আশা রাখছেন বাফুফে সভাপতি। এই নিয়ে তিনি বলেন ‘কেউ তোলেনি। আমিই ফুটবলের সাফল্য-ব্যর্থতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছি। সবশেষ সাফে মেয়েদের সাফল্যের কথা বলেছি। ছেলেদের দল নিয়ে কাজ হচ্ছে বলেও জানিয়েছি। আশা করি, ছেলেদের ফুটবলেও আমরা ফল পাবো।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here