বসুন্ধরা কিংস এবং ঢাকা আবাহনী লিমিটেড, বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের দুই হট ফেভারিট। হট ফেভারিটের পাশাপাশি বর্তমান সময়ে দুইদল হয়ে উঠেছে একে অপরের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী। কিংস-আবাহনী লড়াই মানেই সম্মানের লড়াই। এবারের প্রিমিয়ার লীগেও তা প্রতিয়মান হয়েছে। স্বাধীনতা কাপ,ফেডারেশন কাপের পর ট্রেবলের লক্ষ্যে থাকা আবাহনীকে পরাস্ত করে প্রিমিয়ার লীগের শিরোপা জিতে নিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। কেমন ছিলো এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বীর প্রিমিয়ার লীগ যাত্রা?কেমন ছিলো শীর্ষ স্থান ধরে রাখার লড়াইয়ে দুই দলের সেয়ানে সেয়ানে টক্কর।

এবারের আসরের বসুন্ধরা কিংসের শুরুটা মোটেও সুখকর হয় নি। নবাগত দল হিসেবে প্রিমিয়ার লীগ খেলতে আসা স্বাধীনতা ক্রীড়া সংঘের বিতর্কিত পেনাল্টি গোলে পরাজয় দিয়ে শুরু হয় কিংসের বিপিএল যাত্রা। অন্যদিকে মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্রকে পরাজিত করে প্রিমিয়ার লীগ শুরু করে ঢাকা আবাহনী।

স্বাধীনতার বিপক্ষে পরাজয়ের পর ঘুরে দাঁড়ায় বসুন্ধরা কিংস। একে একে ভাঙ্গতে থাকে প্রতিপক্ষের দাঁড় করানো দেয়াল, ঘুরে দাঁড়ানো সেই কিংসের কাছে পরাভূত হয় উত্তর বারিধারা ক্লাব, মুক্তিযোদ্ধা সংসদ ক্রীড়া চক্র, বাংলাদেশ পুলিশ এফসি, রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটি, শেখ রাসেল ক্রীড়া চক্র, মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাব, চট্টগ্রাম আবাহনী এবং সাইফ স্পোর্টিং ক্লাব। টানা ৮ ম্যাচ জয়ের পর বসুন্ধরার সামনে এসে দাঁড়ায় তাদের সবচেয়ে বড় প্রতিপক্ষ ঢাকা আবাহনী। আবাহনীর সাথে সেই ম্যাচটি ২-২ গোলে ড্র করে কিংস। আবাহনীর সাথে ড্র’র ঘোর কাটতে না কাটতে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষেও ড্র করে বসে ব্রুজনের শিষ্যরা। শেখ জামালের বিপক্ষে ড্র দিয়ে প্রথম লেগের খেলা শেষ করে বসুন্ধরা।

শুরুটা জয় দিয়ে হলেও পরবর্তীতে বসুন্ধরা কিংসের মতো টানা জয় পায় নি ঢাকা আবাহনী। ক্ষণে ক্ষণে প্রতিপক্ষ দলগুলোর বিপক্ষে জয় পেলেও তাতে ছিলো না কোনো ছন্দ। তবে ঐতিহ্য ও সম্মানের লড়াইয়ে মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে প্রথম লেগে জয় পায় আবাহনী ঢাকা আবাহনী লীগে প্রথম বড় রকমের হোঁচট খায় মারুফুল হকের দল চট্টগ্রাম আবাহনীর বিপক্ষে। শুরুতে লিড নিয়েও ব্লু পাইরেটসদের কাছে পরাজয় বরণ করেছে আকাশি নীল বিগ্রেড। বসুন্ধরা কিংসের প্রথম লেগ ড্র দিয়ে শেষ হলেও ঢাকা আবাহনীর প্রথম লেগের শেষটা হয়েছে উত্তর বারিধারা ক্লাবের বিপক্ষে জয় দিয়ে।

প্রথম লেগ থেকে দ্বিতীয় লেগে প্রতিপক্ষের বিপক্ষে আরো ভালোভাবে লড়াইয়ে পরিচয় দিয়েছে বসুন্ধরা কিংস। মোহামেডান স্পোর্টিং ক্লাবের বিপক্ষে ড্র ব্যতীত তাদের জয়ের রথকে কোন প্রতিপক্ষ দলই ঠেকাতে পারে নি। প্রথম লেগে প্রতিদ্বন্দ্বিতার লড়াইয়ে ড্র করলেও দ্বিতীয় লেগে আবাহনীর বিপক্ষে জয় পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। ঢাকা আবাহনীও কিংসের মতোই প্রথম লেগের তুলনায় দ্বিতীয় লেগে ভালো পারফরম্যান্স করেছে। তবে ব্রুজনের ছাত্রদের মতো মোরিও লেমোসের ছাত্ররা নিজেদের ততটা মেলে ধরতে পারে নি। যার ফলশ্রুতিতে দুই ম্যাচ হাত রেখে শিরোপা জিতে নিয়েছে বসুন্ধরা কিংস।

এবারের ফুটবল মৌসুমে প্রিমিয়ার লীগে ২২ ম্যাচে ১৮ জয়ের বিপরীতে ৩ ড্র ও ১ ম্যাচে পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে বসুন্ধরা কিংস। বিপরীতে ২২ ম্যাচে ১৪ ম্যাচে জয়, ৫ ম্যাচ ড্র ও ৩ ম্যাচে পরাজিত হয় ঢাকা আবাহনী লিমিটেড। প্রিমিয়ার লীগের এই আসরে বসুন্ধরা কিংসের সবচেয়ে বড় জয় উত্তর বারিধারা ক্লাবের বিপক্ষে ৬-০ গোলের ব্যবধানে। অন্যদিকে ঢাকা আবাহনী লিমিটেডর শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের বিপক্ষে ৫-০ গোলের ব্যবধানে নিজেদের সবচেয়ে বড় জয়টি মিলেছে।

পয়েন্ট তালিকার পাশাপাশি টপ স্কোরার লিস্টেও ছিলো বসুন্ধরা কিংস ও ঢাকা আবাহনীর দ্বৈরথ। তবে এক্ষেত্রে আবাহনী লিমিটেড ছিলো এগিয়ে আবাহনীর হয়ে ১৮ গোল করে লীগে তৃতীয় সর্বোচ্চ গোলদাতা হয়েছে ঢাকা আবাহনীর ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড ডেরিয়েল্টন গোমেজ। ডেরিয়েল্টনের পর পরই ছিলো বসুন্ধরা কিংসের রবসন রবিনহো। দলের হয়ে এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ড করেছে ১৬ গোল, সর্বোচ্চ গোলদাতার তালিকায় তার অবস্থান চতুর্থ।

গোলদাতার তালিকায় আবাহনী এগিয়ে থাকলেও গোলের পেছনের কারিগর এসিস্টের তালিকায় এগিয়ে ছিলো বসুন্ধরা কিংস। ১৬ গোলের পাশাপাশি ১১ টি এসিস্ট করে এসিস্টের লিস্টে শীর্ষে আছে কিংসের প্রাণভোমরা রবসন রবিনহো। বিপরীতে ১০ টি এসিস্ট করে সাইফ স্পোর্টিং ক্লাবের ফয়সাল আহমেদ ফাহিমের সাথে যৌথভাবে দ্বিতীয়তে আছে ঢাকা আবাহনীর কোস্টারিয়ান ফরোয়ার্ড ড্যানিয়েল কলিন্ড্রেস।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here