নতুন ফুটবল মৌসুমে নজরে থাকবে যে বিদেশীদের উপর!

0
2785

নতুন ফুটবল মৌসুমে নজর থাকবে যে বিদেশীদের উপর

বাংলাদেশ ফুটবলের নতুন মৌসুম দরজায় কড়া নাড়ছে। তার আগে দলবদল সম্পন্ন করেছে সবকয়টি দল। দেশের ঘরোয়া ফুটবলে পার্থক্য গড়ে দেয় মান সম্পন্ন বিদেশী ফুটবলাররাই। তাই শিরোপা জয়ের লক্ষ্যে দূদান্ত সব বিদেশীদের দলে ভিড়িয়েছে বাংলাদেশের ফুটবল ক্লাবগুলো যারা যেকোন মুহূর্তে পাল্টে দিতে পারেন ম্যাচের ফলাফলা।

গেম চেঞ্জারদের নাম নিলেই যার নাম সবার আগে উঠে আসবে তিনি হলেন বসুন্ধরা কিংসের অধিনায়ক রবসন রবিনহো। এই ব্রাজিলিয়ান ব্লাড টানা তিন মৌসুমে ধরে কিংসের হয়ে খেলে আসছেন। কিংসের জার্সিতে দলকে ৭৯ ম্যাচে প্রতিনিধিত্ব করেছেন রবসন। এতে ৫৪ টি গোল এবং ৩৭ টি এসিস্ট করেছেন তিনি। গত মৌসুমেও নিজের নজির দেখিয়েছেন রবসন। ১৮ ম্যাচে করেছেন ১০ টি গোল। ঘরোয়া লীগের গন্ডি পেরিয়ে এএফসি কাপেও পারফর্ম করেছেন রবসন। এএফসি কাপের কিংসের হয়ে ৮ ম্যাচে ২ গোলের পাশাপাশি ৩ টি এসিস্ট এসেছে তার পা থেকে।

পরবর্তীতে নাম আসছে জনাথন ফার্নান্দেজের। কিংসের সাবেক এই খেলোয়াড় এবার মাঠ মাতাবেন কিংসেরই প্রতিদ্বন্দ্বী ক্লাব ঢাকা আবাহনীর জার্সিতে। কিংসের হয়ে তিনি এক মৌসুমই ভালোভাবে খেলতে পেরেছিলেন। সেই মৌসুমটি নিজের পায়ের জাদুতে রাঙ্গিয়েছিলেন জনাথন। ২০২০-২১ মৌসুমে বসুন্ধরা কিংসের হয়ে ৩০ ম্যাচে মাঠে নামেন এবং ১০ গোলের পাশাপাশি ১৬ টি গোল করান। পূর্বেও বিপিএল খেলার অভিজ্ঞতা থাকায় নতুন মৌসুমে জনাথনের দিকে বিশেষ নজর থাকবে সকলের।

বিপিএলের গতবারের দুই টপ স্কোরার ডরিয়েল্টন গোমেজ এবং সোলেমান দিয়াবাতে। গত মৌসুমে সেরা গোলদাতার তালিকায় শীর্ষস্থান নিয়ে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করেছিলেন দুইজন। সেই মৌসুমে কিংসের ডরিয়েল্টন গোমোজের ২০ গোলের বিপরীতে সোলেমান দিয়াবাতে করেছিলেন ১৬ গোল। ডরির ১ এসিস্টের বিপরীতে দিয়াবাতের ছিলো ৫ টি এসিস্ট। এর ফলশ্রুতিতে অনুমান করা যাচ্ছে এবারেও নিজেদের পুরোনো দলের হয়ে শ্রেষ্ঠত্বের লড়াই লড়বেন বিপিএলের গোলমেশিন ডরিয়েল্টন গোমেজ এবং সোলেমান দিয়াবাতে। তবে তাদের এই দৌড়ে চ্যালেঞ্জ জানাবেন ঢাকা আবাহনীর নতুন রিক্রুট কর্নিলিয়াস স্টুয়ার্ট। এই ক্যারিবীয় স্ট্রাইকার গত মৌসুমে শেখ জামালের জার্সিতে খেলেছিলেন। জামালের হয়ে ১৫ গোলে ভূমিকা রেখেছিলো স্টুয়ার্ট। এএফসি কাপের বাছাই চলাকালীন সময়ে শেখ জামাল থেকে লোনে তাকে দলে আনলেও পরবর্তীতে আগামী মৌসুমের জন্য স্টুয়ার্টের সাথে নতুন করে চুক্তি সাক্ষর কর ঢাকা আবাহনী লিমিটেড।

খেলার ফলাফল পরিবর্তনে ফরোয়ার্ডদের সাথে সাথে মিডফিল্ডারদেরও বেশ ভূমিকা থাকে। তাদের মধ্যে অন্যতম বসুন্ধরা কিংসের ব্রাজিলিয়ান মিডফিল্ডার মিগেল ডামাসেনা। কিংসের মধ্যমাঠকে একক নৈপুণ্যে নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষমতা রয়েছে তার। লং থ্রু বল,উইং দিয়ে এটাক বিল্ডয়াপ কিংবা পিনপয়েন্ট ক্রসে গোল করানোর ক্ষেত্রে দলের হয়ে বড় ভূমিকা পালন করেন মিগেল। গত বিপিএল মৌসুমে তিনি কিংসের জার্সিতে ১৫ ম্যাচে ১০ গোল এবং ৮ টি এসিস্ট করেছিলেন।

নতুন মৌসুমে সাইনিং করা প্লেয়ারদের মধ্যেও রয়েছে কিছু গেম চেঞ্জারস। যাদের মধ্যে অন্যতম ঘানার আর্নেস্ট বোথেং । আসন্ন মৌসুমে তিনি রহমতগঞ্জ মুসলিম ফ্রেন্ডস সোসাইটির হয়ে খেলেবেন। বোথেং এর আগে স্লোভাকিয়ার তৃতীয় বিভাগের দল এফসি ড্যাক এবং এফসি সামোরিনের হয়ে খেলেছেন। গত মৌসুমে বোটেং ভারতের আই লীগের ক্লাব রিয়েল কাস্মীরের হয়ে খেলেছিলেন। বোথেং এর মতো আরেকজন হলেন নাইজেরিয়ার বিচ ফুটবল দলের অধিনায়ক আবু আজিজ। বিচ ফুটবলের লিজেন্ড ধরা হয় তাকে। এই মৌসুমে চট্টগ্রাম আবাহনীর শিবিরে যোগ হয়েছেন এই নাইজেরিয়ান। পাশাপাশি নাইজেরিয়ার ঘরোয়া ফুটবলের শীর্ষস্তরের খেলা অভিজ্ঞতাও রয়েছে তার।

তাদের মতোই আরেকজন হলেন লায়ান মুরিতালা। ডিফেন্সিভ মিডফিল্ডার মুরিতালা ২৩-২৪ মৌসুম পার করবেন চট্টগ্রাম আবাহনীর হয়ে। মুরিতালার ২০২১ সালে নাইজেরিয়া জাতীয় দলে ডাক পাওয়ার পাশাপাশি নাইজেরিয়া ঘরোয়া ফুটবলের ক্লাবগুলোর হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে। সর্বশেষ তিনি নাইজেরিয়া প্রোফেশনাল ফুটবল লীগের ক্লাব সানসাইন স্টারের হয়ে খেলেছেন।

এবারের বিপিএলে শেখ জামাল ধানমন্ডি ক্লাবের মধ্যমাঠ সামলানোর দায়িত্ব পেয়েছেন ব্রাজিলের হিগোর লেইট। সম্পর্কে তিনি ব্রাজিলের কিংবদন্তি খেলোয়াড় রিকার্ডো কাকার আত্মীয়। এই ফুটবলার ব্রাজিলের প্রথম সারির ক্লাব ফ্লুমিনেন্সের পাশাপাশি আর্মেনিয়ার ক্লাব পিউনিক ইয়েরেভানের মতো ক্লাবে খেলেছেন। মিডফিল্ডের মতো ফরোয়ার্ড লাইনেও পরিবর্তন করেছে শেখ জামাল। সুলেমান সিল্লাহ স্থানে জামাল নাইজেরিয়ান ফরোয়ার্ড স্ট্যানলি ডিমগবাকে দলে এনেছে। এর আগে ডিমগবার নাইজেরিয়া এবং লিবিয়ার টপ টায়ার টিমের হয়ে খেলার অভিজ্ঞতা রয়েছে।

আক্রমণভাগ এবং মিডফিল্ডের পাশাপাশি রক্ষণও শক্ত হওয়া চাই। এক্ষেত্রে সেদিকে নজর দিয়েছে পুলিশ এফসি। দলে একমাত্র বিদেশী ডিফেন্ডার তারা মোস্তফা ইউসোফোভকে সাইন করিয়েছেন। কিরগিজ ডিফেন্ডার এর আগে কিরগিজস্তান এবং মালেশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দলের হয়ে খেলেছিলেন। কিরগিস্তান জাতীয় দলেও খেলেছেন বেশকটি ম্যাচ।

এছাড়াও কিংসের উজবেক ডিফেন্ডার ববুরবেগ এবং আবাহনীর ইরানিয়ান ডিফেন্ডার মিলাদ শেখ সোলায়মানির উপর নজর থাকবে। রেজা খানজাদেহকে ছেড়ে তার জায়গায় ববুরবেগকে আনে কিংস। ইতিমধ্যেই নিজের জাত চিনিয়েছে ববুরবেগ। এএফসি চ্যাম্পিয়ন্স লীগ এবং এএফসি কাপে ভালো ফলাফল দেখিয়েছেন ববুরবেগ। অন্যদিকে মিলাদ শেখ এর আগেও আবাহনীর হয়ে ঘরোয়া লীগে খেলেছিলেন,তাই নতুন মৌসুমে তিনিও যে দলের জন্য বড় ভূমিকা পালন করবেন তা অনুমেয়।

Previous articleলেবানন যাচ্ছে না নারী দল!
Next articleভিসা পেলেও এএফসির কাছে নতুন যে অভিযোগ কিংসের!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here