এশিয়ান আসরে ব্যর্থতার হতাশা এখনও কাটেনি। এর মধ্যেই ছুটি নেওয়া ও ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তার ইঙ্গিত দিয়েছেন জাতীয় নারী দলের কোচ পিটার বাটলার। তবে বাস্তবতা হলো, দলকে সামনে রেখে এখনই বিশ্রামের সুযোগ নেই তার—কারণ দরজায় কড়া নাড়ছে সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ।
গত কয়েক দিন ধরেই কোচ পিটার বাটলার বিভিন্ন সময় ছুটির ইঙ্গিত দিয়ে আসছিলেন। দেশে ফিরে গিয়ে নতুন করে ভাবনার কথাও বলেছেন। তবে তার এই বক্তব্য অনেকের কাছেই দলের ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা হিসেবেই দেখা হচ্ছে। সিডনিতে ঋতুপর্ণাদের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর যেমন কোচিং নিয়ে নতুন করে ভাবার কথা বলেছিলেন, ঠিক তেমনি থাইল্যান্ডে এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ চূড়ান্ত পর্ব থেকে খালি হাতে ফেরার পরও একই সুর শোনা গেল তার কণ্ঠে।
স্বল্প সময়ের ব্যবধানে দুটি এশিয়ান কাপের মূল পর্বে জায়গা করে নেওয়ার পরও দলের সামগ্রিক মান নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাটলার। তার ভাষায়,
“তিনি নিরলসভাবে কাজ করলেও প্রয়োজনীয় মানের খেলোয়াড়ের ঘাটতি রয়েছে। ভবিষ্যতে আবার এই পর্যায়ে পৌঁছাতে সময় লাগতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।”
প্রতিপক্ষদের শক্তিমত্তার দিকটিও তুলে ধরেছেন ইংলিশ কোচ। তার মতে,
“ভিয়েতনাম, থাইল্যান্ড ও চীনের মতো উচ্চ র্যাংকিংয়ের দলের বিপক্ষে খেলেছে বাংলাদেশ। তবে কোনো অজুহাত দিতে চান না তিনি—স্বীকার করেছেন, দল যথেষ্ট ভালো খেলতে পারেনি।”
সব মিলিয়ে পরিস্থিতি তার মনমতো হয়নি বলেই মনে হচ্ছে। কিছুটা হতাশা থেকেই তিনি বিশ্রামের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেছেন। একই সঙ্গে ইঙ্গিত দিয়েছেন, পর্যাপ্ত সমর্থন না পেলে দায়িত্ব ছেড়ে দেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে। তার মতে, সাফল্য ও শেখা একসঙ্গেই চলতে হয়, আর তিনি যে কোচিং প্রক্রিয়া শুরু করেছেন, তা চালিয়ে যাওয়া জরুরি।
তবে কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল নেই পুরোপুরি। ছুটির ইঙ্গিত দিলেও বাটলার এখনো ঢাকাতেই অবস্থান করছেন। থাইল্যান্ড থেকে দল দেশে ফিরেছে গতকাল। খেলোয়াড়রা আপাতত ছুটিতে গেলেও সামনে থাকা সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপের প্রস্তুতি শুরু করতে হবে দ্রুতই।
জাতীয় নারী দলের ম্যানেজার খালিদ মাহমুদ নওমি জানিয়েছেন,
“কোচ ঢাকায় আছেন এবং শিগগিরই তার অধীনেই অনুশীলন শুরু হবে।”
জানা গেছে, সাফ নারী চ্যাম্পিয়নশিপ শেষ হওয়ার পরই হয়তো ছুটি পেতে পারেন বাটলার। তখন তার দেশে ফেরার সম্ভাবনাও রয়েছে।




