বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) ১৯৮৬ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর প্রায় তিন যুগেরও বেশী সময় ধরে সফলতার সাথে নিজেদের কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে। কিন্তু প্রতিষ্ঠার ৩৭ বছর পরে এসে কলিমা রটেছে বিকেএসপির অহমে। শাস্তি হিসেবে আগামী এক বছরের জন্য বাফুফে আয়োজিত কোনো লিগ বা টুর্ণামেন্টে অংশ নিতে পারবে না দেশের খেলোয়াড় তৈরির এই আতুড়ঘর।

এবছর আয়োজিত বসুন্ধরা গ্রুপ তৃতীয় বিভাগ ফুটবলে চকবাজার কিংসের হয়ে বিকেএসপির খেলোয়াড়রা খেলেছিলেন। তারাই আবার দ্বিতীয় বিভাগ ফুটবলে বিকেএসপির মূল দলের হয়ে খেলছেন। কিন্তু দুই লীগে দুই ভিন্ন পরিচয়ে অংশ নেয় এই খেলোয়াড়েরা, যা পরবর্তীতে বাফুফের নজরে আসে। বিষয়টি নজরে আসার পর বাফুফের ডিসিপ্লিনারী কমিটি অনুসন্ধান করে এবং বিষয়টির সত্যতা যাচাই করে খেলোয়াড় এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের শাস্তির আওতায় আনেন।

খেলোয়াড়দের পরিচয় জালিয়াতির কারণে বাফুফের ডিসিপ্লিনারী কমিটি বিকেএসপিকে বাফুফের সকল লীগ ও টুর্ণামেন্ট থেকে এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করে। নিষেধাজ্ঞার পাশাপাশি বিকেএসপিকে এক লক্ষ টাকা অর্থিক জরিমানা করে। এছাড়া জালিয়াতির কান্ডে জড়িত থাকার কারণে বিকেএসপির সিনিয়র কোচ মোঃ শাহীনুল হক এবং অন্যতম প্রশিক্ষক মোঃ রবিউল ইসলামকে আগামী এক বছরের জন্য নিষিদ্ধ করার পাশাপাশি উভয়কে ২৫,০০০ টাকা নগদ অর্থ জরিমানা করেন, পাশাপাশি জড়িত খেলোয়াড়দের নিজ দলের আগামী ৬ ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেন।

জালিয়াতির কান্ডে জড়িত থাকার কারণে বিকেএসপির কর্মকর্তা এবং খেলোয়াড়দের শাস্তির আওতায় আনলেও আড়ালেই রয়ে গেছে সমান দোষে দায়ী থাকা চকবাজার কিংস। ভুয়া পরিচয়ে খেলোয়াড়দের নিজেদের দলে অর্ন্তভুক্তি করলেও চকবাজারের সম্পর্কে নিশ্চুপ বনে গেছে বাফুফে। এতে হয়তো খোঁড়া যুক্তি হতে পারে, ভুয়া পরিচয় সম্পর্কে জানতো না চকবাজার কিংস। কারণ বিকেএসপি’র প্রশিক্ষক রবিউল রবি ঐ ভুয়া নামেই খেলোয়াড়দের চকবাজার কিংসে পাঠান এবং তিনিই তৃতীয় বিভাগ লিগে দলটির কোচের দায়িত্বে ছিলেন। কিন্তু কোন ক্লাব কার প্রতিষ্ঠান থেকে খেলোয়াড় নিলো এটি বাফুফে কেন বিবেচনায় নিবে? ঐ ভুয়া পরিচয়ের দায়ভার অবশ্যই চকবাজার কিংসের উপর বর্তায়, কেননা তৃতীয় বিভাগে অংশগ্রহনকারী দলটির হয়েই ভুয়া জন্মনিবন্ধন দিয়ে খেলেছে খেলোয়াড়রা। বর্তমান বিকেএসপি দলে তারা নিজেদের আসল পরিচয়ে খেলছে। রহস্যজনকভাবে শাস্তি দেয়া হলো না ক্লাবটিকে।

কেন শুধুমাত্র বিকেএসপি শাস্তি পেল বিষয়টি বাফুফের কম্পিটিশন্স ম্যানেজার জাবের বিন তাহের আনসারীর কাছে জানতে চাইলে তিনি মন্তব্য করতে রাজি হয়নি। তবে নাম প্রকাশের অনিচ্ছুক একটি বিশ্বস্ত সূত্র জানায়, বিকেএসপি ভুল নামে চকবাজার ও বাফুফের কাছে খেলোয়াড়দের প্রথমে পরিচয় করিয়ে দেয়। এই বিষয়ে ক্লাবটি জানতো না, তাই শাস্তি বিকেএসপি কে দেয়া হয়েছে। এখন প্রশ্ন থেকে যায়, বিকেএসপি এর জায়গায় যদি সাধারণ কোন একাডেমি থেকে ভুয়া পরিচয়ে চকবাজার খেলোয়াড় নিতো এবং সেই খেলোয়াড় পরবর্তীতে দ্বিতীয় বিভাগ লিগে অন্য আরেকটি দলের হয়ে খেলতে গিয়ে ধরা পড়তো তবে কি শুধুমাত্র একটি দলের উপরই দায়ভার বর্তাতো?

Previous articleমার্চে পাইওনিয়ার লিগ; নারী পাইওনিয়ার আয়োজনের প্রস্তাব সালাউদ্দিনের
Next articleজয়ের মানসিকতা নিয়েই খেলতে হবে!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here