বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের দ্বিতীয় স্তর বাংলাদেশ চ্যাম্পিয়নশীপ লীগ (বিসিএল)। নতুন একটি মৌসুমে আসলে নেতিবাচক দিক দিয়ে বিসিএল আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হবে এটিই যেন ধ্রুব সত্য। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। নতুন মৌসুমে ৬ টি ক্লাব বিসিএলে রেজিষ্ট্রেশন করে নি। এতে করে মাত্র ৮ দল নিয়ে অনুষ্ঠিত হবে বিসিএল।

অংশগ্রহণ না নেওয়ার ব্যাপারে প্রতি দলেরই রয়েছে বিভিন্ন অজুহাত। কারো রয়েছে আর্থিক সংকট, কেউ পূরণ করে নি ক্লাব লাইন্সেসিং সকল শর্ত, কেউ আবার সিনিয়র টিম নিয়ে পরিকল্পনা সাজাতে গিয়ে জুনিয়র টিমকে নিয়ে ভাবনা চিন্তা রাখছে না। মুক্তিযোদ্ধা সংসদ বাংলাদেশের ঘরোয়া ফুটবলের অন্যতম ঐতিহ্যবাহী ক্লাব। গত মৌসুমে অবনমিত হওয়ার কারণে বিসিএলে নেমে যায় দলটি। বিসিএল খেলার কথা থাকলেও আর্থিক অসচ্ছলতা কারণ দেখিয়ে বিসিএলেও অংশ নিচ্ছে না দলটি। আর্থিক সংকটে ভুগছে প্রথম বিভাগ থেকে বিসিএলে সদ্য উত্তীর্ণ হওয়া দল যাত্রাবাড়ী ক্রীড়া চক্রও।

নিজেদের সিনিয়র টিম নিয়ে পুরোপুরি মনোযোগ রাখতে চায় বিপিএলের ক্লাব ফর্টিস এফসি। মূলত সিনিয়র টিম নিয়ে হিমশিম খাচ্ছে দলটি। তাই তো নিজেদের জুনিয়র টিম ফর্টিস এফসি একাডেমি নিয়ে আপাতত চিন্তাধারা বাদ দিয়েছে ক্লাবের কর্তাব্যক্তিরা। এতে করে বিসিএলে অংশ নেওয়া হয়ে উঠছে না দলটির। অন্যদিক ক্লাব লাইন্সেসিং শর্ত পুরোপুরিভাবে পূরণ করতে পারে নি মুগদা সমাজ কল্যাণ। শর্ত পূরণে ব্যর্থ হওয়ার কারণে বিসিএলে অংশ নিতে পারবে না তারা। ফিফা নিষেধাজ্ঞার কারণে আজমপুর ফুটবল ক্লাব উত্তরার ভাগ্যও পুরোপুরি অনিশ্চিত।

সর্বশেষ দলটি হল গোপালগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব। গত মৌসুমে বিসিএল থেকে বিপিএলে উত্তীর্ণ হয়েছিল দলটি। কিন্তু তাদের রয়েছে আর্থিক সংকট। এই আর্থিক সংকটের কারণে বিপিএলে অংশ না নিলেও বিসিএলে অংশ নেওয়ার জন্য বাফুফেকে চিঠি পাঠিয়েছিল দলের শীর্ষ ব্যক্তিবর্গরা। এখন বাফুফের ডিসিপ্লিনারী কমিটির সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করছে দলটি। এখনো পর্যন্ত ডিসিপ্লিনারী কমিটি তাদের কোনো সিদ্ধান্ত দেয় নি। এতে করে গোপালগঞ্জের যে এই বছর বিসিএল খেলা হচ্ছে না তা একরকমই নিশ্চিত।

এতোগুলো ক্লাব লীগে অংশ না নেওয়া অনেক খেলোয়াড়ই দল পায় নি, এছাড়া লীগের নিজস্ব যতটুকু জৌলুশ ছিলো সেটিও এখন হারানোর পথে। এইরকম পরিস্থিতির জন্য দলগুলোর অপেশাদারিত্ব মূলত দায়ী। তাই তো ক্লাবগুলোর বিরুদ্ধে যথাযথভাবে ব্যবস্থা নেওয়ার ব্যাপারে পরিকল্পনা সাজাচ্ছে ফেডারেশন। কোনো দল নিজেদের যোগ্যতা এবং সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যদি বিসিএলে অংশ না নেয় তাহলে সেই ক্লাবগুলোর লাইন্সেস কয়েক বছরের জন্য বাতিল করবে বাফুফে প্রফেশনাল লীগ ম্যানেজমেন্ট কমিটি।

লীগের দলবদলের তারিখ ছিলো ২১ শে জানুয়ারি পর্যন্ত। নোফেলের স্পোর্টিং ক্লাবের অনুরোধে ১৫ দিন সময় বৃদ্ধি করেছিল বাফুফে। সেই ১৫ দিন সময়ও পার হয়েছে। কিন্তু মাত্র ৮ টি দলই দলবদল করেছে। অন্যরা অংশ না নেওয়ায় ফরাশগঞ্জ স্পোর্টিং ক্লাব এবং পিডাব্লিউডির অংশ নেওয়ার সুযোগ মিলেছে।

Previous articleস্মরণে ‘কিংব্যাক’ মোনেম মুন্না!
Next articleঢাকা ডার্বিতে সাদা-কালোদের জয়জয়কার

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here